মুসলমানদের আবার মানবাধিকার?

0
28
Print Friendly, PDF & Email

গাজায় নারী শিশুসহ যারা নিহত হচ্ছেন তারা মানুষ নয়, মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিশ্চয়ই বলবে এরা মুসলমান! আর এক কথায় মুসলমানদের আবার মানবাধিকার কিসের?

নিজেদের তিন কিশোর গুমের নাটক সাজিয়ে পরে হত্যা। এরপর প্রতিশোধ স্বরূপ এক হামাস কর্মী হত্যা, তার পরে আবার ফিলিস্তিনি কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যা। তারপরও যখন প্রতিশোধের বাসনা মেটে না তখন অব্যাহত রকেট হামলা।

আজ সে হামলার ষষ্ঠ দিন। বিশ্ব মিডিয়ার প্রতিবেদন বলছে গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই’শর কাছাকাছি নারী শিশুসহ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে হামলার প্রকৃতি হাজার ছাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

এমনকি হামলা চালানো হচ্ছে মসজিদ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করে। নিহতদের অধিকাংশই যে মুসলিম নারী শিশু এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

অবাক করার বিষয় ইসরাইল অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আর বিশ্ব মোড়লরা শান্ত থাকতে বলছে দুই পক্ষকে। জাতিসংঘের অবস্থানও একই।

বিমান হামলায় নিহতদের তিন-চতুর্থাংশই নিরীহ মানুষ বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে কথা হলো দুই পক্ষকেই শান্ত থাকতে হবে! মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাতো বলেই দিয়েছেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে!’

এখানে কে আক্রান্ত আর কে আক্রমণ করছে তা বুঝতেই পারছে না মোড়লরা।

শুক্রবারতো ইসরায়েলের প্রধামন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও তারা গাজায় হামাসকে দমাতে হামলা অব্যাহত রাখবেন। প্রয়োজনে স্থল হামলাও চালানো হবে। এর কিছুক্ষণ আগে অবশ্য বারাক ওবামার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন নেতানিয়াহু।

আসলে আজ বোঝা যায় মুসলিম বিশ্বের কিছু মিডিয়া কেন মুসলমানদের আগে ‘জঙ্গী’ শব্দটা ব্যবহার করে না। বরং ‘ইহুদিবাদী ইসরায়েল’ শব্দটা ঠিকই ব্যবহার করে।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ফিলিস্তিনে হামলা দেখে যখন ইসরায়েলীরা পাহাড়ের ওপর বসে উল্লাস করে তখন হিটলারকে কষ্টেই মনে পড়ে যায়। যদিও কোনো মুসলমান হিটলারের সেই গণহত্যা সমর্থন করে না, তবে হিটলারের কথা থেকে ইহুদিদের নৃশংসতা বোঝা যায়। হিটলার বলেছিলেন, ‘ আমি চাইলে সব ইহুদিকে মেরে ফেলতে পারতাম, তবে কিছু ইহুদিকে বাঁচিয়ে রাখলাম কারণ পৃথিবীবাসী জানুক ইহুদি কি জিনিস।’

আজ রমজান মাসে আমরা আসলেই টের পাচ্ছি ইহুদি কি জিনিস। আমরা দেখেছি জেনেছি তালেবান, আল কায়েদা বানিয়েছে কারা। ওসামা বিন লাদেনকে যারা বানিয়েছে তারাই তাকে শেষ করেছে, কলঙ্কিত করেছে। তাকে নয় তার মাধ্যমে মুসলমানদের ওপর অহেতুক সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে গোটা বিশ্বে চলছে বিক্ষোভ। তবে মানবতার আবেদন কার কাছে? বাস্তবতা মুসলমানদের মানবতা নেই। বন বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও নিয়ে চিৎকার করবে মানুষ বাঁচানোর বিষয়ে মিন মিনও করবে না তারা।

এরপরও গাছাড়া আরব রাজরা ছাড়া গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ।

এর আগে ২০১২ সালে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইসরায়েল। ওই যুদ্ধে ১৮০ ফিলিস্তিনি ও ছয় ইসরায়েলি নিহত হয়েছিলেন। মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মধ্যস্থতায় সেই যুদ্ধ বিরতিতে যায় দুই পক্ষ। আজ মনে হচ্ছে কেন মুরসিকে সহ্য করতে পারেনি বিশ্ব মোড়লরা। আজ মুসলিম বিশ্বের দুরবস্থায় একজন মুরসির বড় প্রয়োজন।

শেয়ার করুন