পাকিস্তানের ভুতুড়ে এলাকা

0
51
Print Friendly, PDF & Email

সুনসান নীরব বাজার। কোথাও কেউ নেই। আধা খোলা অবস্থায় আছে দোকানগুলো। সেই সব দোকানে থরে থরে সাজানো নানা পণ্য। তবে নেই কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতা। যেন এক ভুতুড়ে এলাকা।
দেখে মনে হয়, দল বেঁধে দোকানদারেরা হয়তো পাশেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে বা অন্য কোথাও কোনো কাজে গেছেন। ফিরে আসবেন শিগগিরই।
এই দৃশ্যটি পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ এলাকার। কয়েক দিন আগেও সেখানে ছিল তালেবানের পদচারণ আর নানা জঙ্গি কর্মকাণ্ড। কিন্তু সপ্তাহ তিনেক আগে থেকে পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গেছে। সেনা অভিযানের মাধ্যমে এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফ থেকে একদল সাংবাদিককে মিরানশাহ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিলেন বিবিসির উর্দু বিভাগের এক সাংবাদিক। তাঁর দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি অনলাইন।
হেলিকপ্টারে থাকা সাংবাদিকেরা আকাশে চক্কর দিতে দিতে দেখছিলেন সমতলের অনেকটা ভৌতিক এলাকা মিরানশাহ। সেখান থেকে নেমে সেনা আর নিজেদের বাইরে একমাত্র প্রাণের স্পন্দন হিসেবে সাংবাদিকদের চোখে পড়ে একটি গাধা।

মূল বাজারের পেছনের দিকের কয়েকটি দোকানে দেখা মেলে বোমা বানানোর নানা রাসায়নিক দ্রব্য, আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত প্রয়োজনীয় উপকরণ। ছবি: বিবিসির সৌজন্যেসেনা অভিযানের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন সর্বত্র। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, হুট করে সব ছেড়ে তাড়াহুড়ো করে প্রাণ নিয়ে পালাতে হয়েছে এখানকার বাসিন্দাদের। বাজারের দোকান, কারখানা কিংবা বসতিগুলো—সর্বত্র একই অবস্থা। এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে ব্যবহার্য পণ্যগুলো।
এরপর সাংবাদিকদের দলটিকে নিয়ে যাওয়া হয় মূল বাজারের পেছনের দিকের গুচ্ছ কিছু দোকানে। সেখানে দেখা মিলল বোমা বানানোর নানা রাসায়নিক দ্রব্য, আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুতকৃত প্রয়োজনীয় পণ্য।
সামরিক বাহিনীর তথ্য মতে, মিরানশাহের ৮০ শতাংশ এখন তালেবানমুক্ত। তবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাকি অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ।
উত্তর ওয়াজিরিস্তান সেনা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মেজর জেনারেল জাফর খান জানান, সেনারা এখানকার জঙ্গিদের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভণ্ডুল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে কোনো এলাকা শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব নয়। অবশ্য কেউ যাতে এখানে আবার ঢুকে পালিয়ে যাওয়ার পথ না পায়, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অভিযান কতদিন চলবে, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

শেয়ার করুন