নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি

0
108
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ফেনী-২ আসনের বিতর্কিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এদিকে, সংসদ সদস্যপদ কেন বাতিল হবে না জানতে চেয়ে একটি রিটের প্রেক্ষিতে রুল জারি হলেও আদালতকে জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, হলফনামায় তথ্য গোপন করার অপরাধে আইন অনুযায়ী নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য বাতিল হয়ে যায়। উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন করা হয়। আদালত নির্বাচন কমিশন, সংসদ সচিবালয়, স্পিকার ও সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট সময়ে জবাব দিতে রুল জারি করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ রুলের জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির আইন শাখার সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসাইন শীর্ষ নিউজকে জানান, এটি একটি সিভিল মামলা। এর জবাব দিতে আমরা বাধ্য নই। এই মামলার বাদি ছাড়াও কয়েকটি পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তাই আমরা এতে না জড়ালেও সমস্যা নেই।

হলফনামায় তথ্য গোপন করে যদি কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যায়, তাহলে কমিশনের সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কমিশন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে না। যদি স্পিকার কমিশনকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেন তাহলে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে। কারণ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অভিভাবক এখন স্পিকার।

এর আগে জুনের প্রথম সপ্তাহে একজন নাগরিক নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্যপদ বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন করেন। চিঠিটি কমিশন সভায় উত্থাপিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জাতীয় সংসদ ২৬৬ ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাজা প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২ বছর ১০ মাস ১ দিন কম সাজা খেটে ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর কারাগার থেকে বের হয়ে যান।’

গত ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এ তথ্য গোপন করে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

এছাড়া বহুল আলোচিত ফেনীর একরাম চেয়ারম্যান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, প্রার্থীতায় অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় তথ্য গোপন করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ফেনী-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য পদে দায়িত্বপালন কেন কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই আসনটি কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ৮ জুন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, নিজামউদ্দিন হাজারী, কারা মহাপরিদর্শক, চট্টগ্রাম কারাগারের জ্যেষ্ঠ সুপারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনের দায়ের করা ওই রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এডভোকেট মনজিল মোরসেদ। 

শেয়ার করুন