টিআইবি সব সময় তীর্যক রিপোর্ট দেয়: এরশাদ

0
89
Print Friendly, PDF & Email

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে বলেন, “টিআইবি সবসময় তীর্যক রিপোর্ট দেয়। তাদের প্রতিবেদন সঠিক নয়।”

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিএনপিবিহীন দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনের মূল্যায়ন করে সোমবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, সরকারে অংশ নেয়া জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় এরশাদ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এবার আমার বক্তব্য তোমরা শুনেছ, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য তোমরা শুনেছ, মহাসচিবের বক্তব্য তোমরা শুনেছ।

“আমরা সরকারের পক্ষে কথা বলিনি। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, ফেনী হত্যাকাণ্ড, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়ে আমরা প্রত্যেকেই সরকারের কড়া সমালোচনা করেছি। আমরা বলেছি, দেশে সুশাসনের অভাবের কারণে এসব ঘটছে।”

জাতীয় পার্টি সংঘাত কিংবা সংসদ বর্জনে বিশ্বাস করে না বলেই টিআইবি দলটিকে কার্যকর বিরোধী দল মনে করছে না বলে এরশাদের অভিমত।

“বিরোধী দল জনগণের প্রতিনিধি। আমরা সব কাজ জনগণের স্বার্থেই করি,” দাবি করেন তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সামরিক শাসক এরশাদ দাবি করেন, ১৯৯০ এর পর তিনি অবিচারের স্বীকার হয়েছেন।

“১৯৯০ এ ক্ষমতা ছেড়ে দিলাম। ওই সময়ের ১৫ দল ও ৭ দলের সঙ্গে কথা ছিল, চুক্তি ছিল যে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হবে। জাস্টিস সাহাবুদ্দীনকে আমিই নিয়োগ দিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, তিনি এসেছেন নির্বাচন করার জন্য, আমার বিচার করার জন্য নয়।”

“কিন্তু সাহাবুদ্দীন ক্ষমতায় আসার ৬ দিনের মধ্যে আমাকে সপরিবারে জেলে পাঠান। আমার নমিনেশন বাতিল করা হয়। রংপুরে ৬ লাখ মানুষ মিছিল করে আমার নমিনেশন আবার ফিরিয়ে আনে।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪৮টি আসন ছেড়ে দেবে বলেও আওয়ামী লীগ ‘চুক্তি’ করেছিল বলে দাবি করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

“কিন্তু আওয়ামী লীগ চুক্তি ভঙ্গ করে ওই ৪৮টি আসনের ১৭টিতে প্রার্থী দেয়।”

ওই সময় আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলেও দাবি করেন এরশাদ।

“একদিন রাতের আঁধারে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে দুই নেতা এসেছিলেন। তারা বলেছিলেন, আপনি যা চাইবেন বিএনপি চেয়ারপারসন তাই দিতে প্রস্তুত আছেন। আমাকে মামলা থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।”

“কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে যাইনি। আমি বলেছিলাম আমি আওয়ামী লীগকে কথা দিয়েছি, আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকব।”

আওয়ামী লীগ ‘অদূরদর্শী’ বলেই বিএনপি-জামায়াত ‘বিষবৃক্ষের’ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এরশাদের রাজনৈতিক ও প্রেসসচিব সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।

শেয়ার করুন