রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সঙ্কটে আফগান

0
64
Print Friendly, PDF & Email

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আবারো সঙ্কটে মুখে পড়তে যাচ্ছে আফগানিস্তান।

মঙ্গলবার সকালে দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (আইইসি) জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ গনি ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ উল্লেখ করে ফলাফল প্রত্যাখান করেছেন। তিনি ‘বিকল্প সরকার’ গঠনেরও হুমকি দিয়েছেন।

এই অবস্থায় কার্যত বিরোধপূর্ণ অবস্থায় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ব্যাপকভাবে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তি।

ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ ব্যাপারে সতর্কও করেছেন। ২০১৪ সালের শেষে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোটভূক্ত বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের ঘোষণা রয়েছে।

জুনে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেই বিপুল ভোটের এগিয়ে যান আশরাফ গনি, তার আগে প্রথম পর্বের নির্বাচনে আবদুল্লাহ-ই এগিয়ে ছিলেন।

দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর থেকেই আশরাফ গনির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আনছিলেন আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহর সমর্থকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা ৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের ফলাফল খতিয়ে দেখছেন।

এরমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তালেবান হামলাও বৃদ্ধি পায়।

নির্বাচন চলাকালেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আব্দুল্লাহ আবদুল্লাহ এর নির্বাচনি শোভাযাত্রায় জঙ্গি হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মঙ্গলবার আব্দুল্লাহ আবদুল্লাহ এর প্রধান নির্বাচনি মুখপাত্র মুজিব রহমান রাহিমি গণমাধ্যমকে বলেন, এটি আফগানিস্তানের জনগণ ও তাদের ভোটের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।

দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আবদুল্লাহ ও তার সমর্থকরা লড়ে যাবে। এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সকালেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানের এই পালাবদলের সময়ে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাই জঙ্গি শক্তিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

এছাড়া গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে দেশটিকে যে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের বাধার মুখে পড়তে হবে, তাও জানিয়ে দিয়েছেন জন কেরি।

তালেবান উত্তর সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে হামিদ কারজাই আল-কায়দা মদদপুষ্ট জঙ্গি তালেবান অধ্যুষিত আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনের পর সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা বদলের জন্য এ বছর নির্বাচনের আয়োজন করেন।

এতে উত্তরের তাজিক গোষ্ঠী থেকে আগত ড. আবদুল্লাহ ও দক্ষিণের পশতুন জাতিগোষ্ঠীর নেতা আশরাফ মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

শেয়ার করুন