রাতের হাতিরঝিল ভবঘুরে আর নেশাখোরদের

0
63
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানীবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নববর্ষের উপহার হাতিরঝিল রাতের আঁধার হলেই চলে যায় ভবঘুরে আর নেশাখোরদের দখলে। প্রতিদিন রাতে হাতিরঝিলের ভেতরে বসে মাদকসেবীদের নেশারহাট, চলে অনৈতিক কাজও। উত্তর ও দক্ষিণ দু’দিকেই পুলিশি তল্লাশি চালানো হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

গত বছরের প্রথম দিনে এই হাতিরঝিল প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন রাজধানীবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এটা আপনাদের নববর্ষের উপহার।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের উপহার হাতিরঝিলের প্রায় সর্বত্রই হয় ভবঘুরে অথবা নেশাখোরদের দখলে। কোথাও দলবেঁধে চলছে নেশা। অনেক স্থানে বসার জন্য তৈরি করা সিমেন্ট, বালু ও ইটের তৈরি বেঞ্চে গভীর ঘুমে মগ্ন ভবঘুরেরা।

অথচ রাতের আঁধারে হাতিরঝিল দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার ও যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে দক্ষিণ দিকে (রামপুরা থেকে মগবাজার অভিমুখী রাস্তা) এবং উত্তর দিকে (এফডিসি মোড় থেকে গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা অভিমুখী রাস্তা) পুলিশি তল্লাশি চালানোর জন্য বসানো হয়েছে চেক পোষ্ট।

তবে রোববার রাতে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দুটি ব্যারিকেড দেওয়া চেকপোষ্ট দেখা গেলেও, দেখা মেলেনি কোনো পুলিশ সদস্য। এরমধ্যে রামপুরা থেকে মগবাজার অভিমুখী রাস্তাটিতে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে মধুবাগ সংলগ্ন ওভারব্রিজের নীচে। আর এফডিসি মোড় থেকে গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা অভিমুখী রাস্তাটিতে চেক পোষ্ট বসানো হয়েছে তেজগাঁও অংশের প্রবেশ মুখে।

আইনশৃঙ্খল‍া বাহিনীর এমন নজরদারিহীনতায় রাতের বেলা হাতিরঝিলের ভেতর দিয়ে চলাচল করা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। হাতিরঝিলের ভেতরে প্রায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার রাত একটার দিকে রেডক্রিসেন্ট এলাকায় (রামপুরা থেকে মগবাজার অভিমুখী রাস্তার শেষ ব্রিজের কাছাকাছি) এক সঙ্গে চার যুবককে নেশা করতে দেখা যায়। আশরাফ, লিটন, মানিক ও রাসেল নামের এ চার যুবকই ময়মনসিংহ থেকে এসেছেন বলে জানান। মধুবাগের একটি গ্যারেজ থেকে ভাড়া নিয়ে রিকশা চালান তারা।

তারা জানান, হাতিরঝিলে রাতের বেলা নেশা করলে অথবা আড্ডা দিলে পুলিশ কিছু বলে না। পুলিশ সাধারণত মধুবাগ ব্রিজের নিচেই তল্লাশি চালায়।

আর এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, আমরা তো শুধু নেশা করছি। কারও টাকা ছিনতায় অথবা অবৈধ কাজতো করছি না। ভালো করে ঘুরলেই দেখতে পারবেন অনেক স্থানে দেহ ব্যবসা চলছে। পুলিশও এসব জানে। কিন্তু কিছু বলে না।

এদিকে মধুবাগ ব্রিজের পাশে গিটার বাজাতে দেখা যায় এক কিশোরকে। আশিক নামের এই কিশোর জানান, রাত ২টায় ব্রাজিল-জার্মানির খেলা দেখার জন্য তিনি জেগে আছি। কিছুটা সময় কাঁটানোর জন্য হাতিরঝিলে আসা।

আশিক বলেন, কিছু দিন আগেও রামপুরা থেকে মগবাজার অভিমুখী রাস্তাটিতে তিন দফায় পুলিশি তল্লাশি ছিলো। প্রথম ও দ্বিতীয় ওভার ব্রিজের (উত্তর থেকে দক্ষিণের সংযোগ ব্রীজ ) মাঝামাঝি স্থানে, মধুবাগ সংলগ্ন ওভারব্রিজের নিচে এবং রেডক্রিসেন্ট এলাকা এই তিন স্থানে নিয়মিত রাত ১০টা থেকে পুলিশ তল্লাশি চালাত। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি স্থানে তল্লাশি চলছে। এতে বেশ কিছু স্থান অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ব্রিজের মাঝের স্থানে এবং রেডক্রিসেন্ট এলাকাতে প্রায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এর আগে র‌্যাবের তল্লাশি বন্ধ হওয়ার পর রামপুরা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল বাংলানিউজকে বলেছিলেন, হাতিরঝিলে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকে। মাদকদ্রব্য পাচার ও ছিনতাইসহ যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বন্ধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে রোববার রাতে কথা বলার জন্য কোনো দিকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন