কোরাম সঙ্কটে অপচয় হয়েছে ৮ কোটি ১ লাখ টাকা

0
56
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কোরাম সঙ্কটে অপচয় হয়েছে ৮ কোটি ১ লাখ টাকা। আর সংসদের শ্রেষ্ঠাংশ অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় তার মূল কাজের পরিবর্তে দলের অনুকূলে অর্থাৎ দলীয় প্রশংসা ও বিরোধীদের সমালোচনায় ব্যয় হয়েছে। আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১.ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে টিআইবির পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জুলিয়ট রোজেটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দশম সংসদ অধিবেশনের গড় কোরাম সঙ্কট ২৮ মিনিট, যার অর্থমূল্য ২১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর পুরো অধিবেশনে ১৭ ঘণ্টা ৭ মিনিটের কোরাম সঙ্কটের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৮ কোটি ১ লাখ টাকা।
অষ্টম ও নবম সংসদ অধিবেশনে যথাক্রমে গড় কোরাম সঙ্কট ছিল যথাক্রমে ৩৭ ও ৩২ মিনিট। অষ্টম থেকে দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনের গড় কোরাম সঙ্কট তুলনামূলকভাবে কিছুটা হ্রাস পেলেও এ ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করতে প্রতি মিনিটে ব্যয় হয় ৭৮ হাজার টাকা। এত বিশাল পরিমাণ টাকা ব্যয় করে সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়নের জন্য ব্যয় হয় মাত্র ১.৮ শতাংশ সময়। আর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় ব্যয় হয় ৫২.৩ শতাংশ সময়। এ সময়টুকুর বেশিরভাগই জাতীয় সম্যস্যাগুলোকে রাজনীতিকিকরণ করে দলীয় প্রশংসা ও নবম সংসদের বিরোধীদের সমালোচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংসদের বিরোধী দল নামে থাকলেও তারা আত্মপরিচয় সঙ্কটে ভুগছে। এজন্য সরকারের কোনো সমালোচনা করার সাহস তারা দেখাতে পারেনি।’

বর্তমান সংসদ ব্যতিক্রম রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিরোধী দল সংসদে যে শক্তিশালী ভূমিকা রাখার কথা ছিল তা করছে না। বিরোধী দল শুধু নামেই রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সংসদের সদস্যরা সাবেক বিরোধী দলীয় নেতাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় মন্তব্য করলেও স্পিকার যেভাবে নিশ্চুপ ছিলেন সেটা সুখকর নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘জনগণের পক্ষে নজরদারির কাজেই আজকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আইন প্রণেতাদের (সংসদ সদস্য) কাজ আইন প্রণয়ন করা হলেও এ ক্ষেত্রে তারা ২ শতাংশেও পৌঁছাতে পারেনি।’
সুলতানা কামাল আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য মাত্র ছয় মিনিটে আইন পাস হলেও জনগণের জন্য আইন পাস হতে যুগযুগ অপেক্ষা করতে হয়।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চোখ বন্ধ রাখলেই কিন্তু প্রলয় বন্ধ থাকে না।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আজ বিকেল থেকেই আমাদের সমালোচনায় পড়তে হবে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা কি দুর্ভাগা জাতি হিসেবেই বেঁচে থাকবো?’

শেয়ার করুন