ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা জেল থেকে যেভাবে বের হলো

0
42
Print Friendly, PDF & Email

জেল খানায় যাওয়া আসা হয় কদাচিৎ। সেইদিন বোনদের আনতে গিয়েছিলাম । এক বোন ইফতারের সময় হয়ে যাচ্ছে দেখে তার অভিভাবককে জেল অফিসের ভিতর থেকে ডেকে বললেন আপনারা ইফতার করে নিন। আমাদের ছাড়বে ইফতারের পর। আমি এক কারা রক্ষীকে ৫০০ টাকা দিয়ে রেখে ছলাম আমাদের ৫ জনের ইফতারী তার বাসায় করার জন্য। সে টাকা নিতে চায়নি আমি জোর করে দিলাম। তার কি আন্তরিকতা সে বার বার কল করছে বাসায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু অনুরোধ গাড়ী আর মোটর সাইকেল যেন না নিয়ে হেঁটে যাই। এদিকে আমরা যাব এই সময় একজন কারারক্ষী যে গেইটে দায়িত্ব পালন করেন তার ডিউটি শেষে বের হয়েই প্রকাশ্যে টাকা চায়। এর আগে বিকাল ৫ টার দিকে সরাসরি চায় ১০০০০ টাকা। না দিলে রাত ১০:০০ টা বাজাবে। বলে কি সকাল থেকে বসে আছেন না, বুঝেন না কি করতে হবে? আমি বলি ১০ টা বাজুক সমস্যা নাই। যা হোক তার হাতে খেজুর ছিল গেইট হতে বাহির হওয়ার সময়ই নিয়ে বাহির হইছে।

আমি তার হাত থেকে সেগুলো নিলাম তারপর বললাম ইফতার করান। অনেক কিছু বলার পর বলে কি চলেন। আমি আর দেরী না করে তাকে গাড়ীতে উঠতে বললাম সে উঠল । ড্রাইভারকে বললাম সে যেদিকে যেতে বলে সে দিকে চলেন। ড্রাইভার ভয়ে ভয়ে চালায় বাসায় পৌঁছে আর গাড়ী থেকে নামে না। আমি আর জাহাঙ্গীরনগরের এক ভাই যে তার বোনকে নিতে এসেছে, তাকে নিয়ে যার বাসায় ইফতার করার কথা ছিল তার বাসায় গেলাম তাকে বললাম আপনি তো আমাদের ভালবাসেন তাই আপনাকে কালার করে বিপদে ফেলতে চাই না। সে বলল কি করবো ভাই বলেন জামাত শিবির সাথে নিয়ে ইফতার করেছি এটি জানলে আইজি সাথে সাথে বদলী করে দিবেন। তারপর ও সে বাসায় নিয়ে গেলেন রিকোয়েস্ট করছেন ইফতার করার জন্য। আমি বললাম আমাদের জন্য যা কিনেছেন পলিথিনে দেন আমরা ওমুকের বাসায় গাড়ী রেখে অন্যদের ঐখানে রেখে এসেছি আপনার যেন সমস্যা না হয় এজন্য। কালার হলে ঘুষখোর হবে। আমাদের ভাই কেন বিপদে পড়বে? ইতোমধ্যে উনার ছেলে চলে আসল সে অন্য কারাগারের কারারক্ষী, সে দেলোয়ার ভাইয়ের কথা বললেন সাবেক CP, বলে কি আমাদের কোরআন হাদিস শুনায় । খুব ভাল লাগে, আমিও আলীয়ায় পড়া শুনা করেছি। যা হোক লজ্জ্বা শরমের মাথা খেয়ে পলিথিনে ইফতার নিয়ে চলে আসলাম গেইটের রক্ষীর বাসায়, প্রতিমধ্যে আরেক কারারক্ষীর সাথে দেখা সে বলল আমি সাঈদী হুজুরের ডিউটি করে আসছি আমাকে একটা উপহার দিয়েছেন। সে খুব খুশি, আমাদের ডাকলেন ইফতার করতে। আমাদের সাথে ছিলেন ঢাবির দুই বোনের শ্রদ্ধেয় পিতা, তারা ও খুব ডেডিকেটিভ, সবাই উৎসুক আমি কি করছি উপলব্ধি করার চেষ্টা করছেন। গেইট কারা রক্ষীর বাসায় যখন ঢুকি তখন সে খুব ব্যস্ত আমাদের ইফতার করা নিয়ে ছেলেকে বিভিন্ন কিছু আনার জন্য মোবাইলে বলতেছিলেন। আমার হাতে অনেক ইফতারী দেখে স্বস্তি ফেলেন বেচারা । সে ও কাঠাল শরবৎ আরো কিছু দিলেন, উনি সহ ইফতার করার পূর্বে ঢাবি সভানেত্রীর বাবাকে বললাম দোয়া করুন। তিনি প্রাণ খুলে দোয়া করলেন। অনেক আনন্দের সাথে সবাই মিলে প্রাণ খুলে ইফতার করলাম। আলহামদুলিল্লাহ্‌। ইফতার শেষে গেইট রক্ষীর নাতিকে ১০০০ টাকা দিলাম বললাম জামা কিনার জন্য তোমার উপহার। ছোট্ট ছেলে সে কি চীৎকার সে নিবে না। তাও দিয়ে আসলাম, এদিকে তা দেখে তো কারারক্ষী দাদার মন গলে গেল। আমাদের সাথে নামাজ পড়ে কারা গেইটে গেলেন সহযোগিতার জন্য যদিও তার ডিউটি ছিল না এবং লুঙ্গি পরিহিত ছিলেন। উনাকে বললাম কারারক্ষীরা হবে উন্নত নৈতিকতার তারা অপরাধীদের ভাল করবেন। তাদের স্লোগানে আছে “রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ” । যদি তারা ভাল মানুষ না হন অন্যদের কিভাবে ভাল করবেন? (যে কিনা ১০০০০ টাকা না দিলে রাত ১০টা বাজাবে সে এখন কত তাড়াতাড়ি মুক্ত করা যায় সে চিন্তায় অস্থির, বেচারা কত জনকে যে কল করল, আল্লাহ্‌ তাকে হেদায়েত দান করুন) ।

কারা গেইটে এসে দেখি চোখ ছলছল সফেদ দাঁড়ির এক কারা রক্ষী তিনি বললেন এই রকম ভাল মেয়ে আমি আগে আর দেখি নি। কত সুন্দর করে পর্দা করে কত সুন্দর নামাজ পড়ে। আমি অফিস রুমে তাদের নামাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমি বললাম এরা জামাত শিবিরের মেয়ে। কোরআনের দাওয়াত দেওয়ার অপরাধেই এরা অপরাধী। তিনি সরকারকে অভিসম্পাত করলেন। অতঃপর আমাদের বোনেরা বাহির হয়ে আসলেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

আমি বলি অপরাধ করে সাহসীরা, তারা সমাজের বড় একটা অংশ তাদের ঠিক করার জন্য আল্লাহ্‌ হয়ত আমাদের মনোনীত করেছেন। তাই জেল খানার এই সুযোগটা কাজে লাগানো দরকার।

সেইদিন কারারক্ষী এক মহিলাকে দেখলাম সে বলে ওরা চলে যাছে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, তাদের সংসর্গে থেকে আমি অনেক কিছু জেনেছি, তাদের মত মেয়েই হয় না। মহান প্রভু সর্বাবস্থায় দায়ী হিসাবে যথাযথ ভূমিকা পালন করার আমাদের তৌফিক দিন । আমিন।

শেয়ার করুন