মন্ত্রিসভায় ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

0
25
Print Friendly, PDF & Email

মন্ত্রিসভা ইপিজেড শ্রমিকদের সংগঠন করার বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, আজকের ২২তম বৈঠকে ৩টি আইন প্রণয়ন ও ২টি অবহিতকরণ বিষয় মন্ত্রিসভাকে জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইপিজেডের ভূমিকা এবং এখানে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে ইপিজেড শ্রম আইনটি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (যা ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধন করা হয়েছে) এবং ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি শিল্প সম্পর্কিত আইন দু’টি পর্যালোচনা করে ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৪’র খসড়া তৈরি করা হয়।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, খসড়া আইনটিতে ১৬টি অধ্যায়, ২০৪টি ধারা ও ৫টি তফসিল রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের খসড়ায় চাকরির শর্তাবলী, শ্রমিকের কর্মঘন্টা, ছুটি, প্রসূতিকালীন নারী শ্রমিকের ছুটি, মজুরি, দর কষাকষি, শ্রম আদালতে দন্ড প্রদানের পদ্ধতি ইত্যাদি বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে ইপিজেড শ্রমিকদের শ্রম স্বাধীনতা থাকবে। তারা ‘শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’ নামে সংগঠন পরিচালনা করতে পারবে। এ সংগঠনের মাধ্যমে তারা দর কষাকষিও করতে পারবে।
তিনি বলেন, তবে সংগঠন করতে হলে ইপিজেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৩০ শতাংশ কর্মচারীর লিখিত আবেদন করতে হবে ইপিজেড কর্তৃপরে কাছে। পরে আবেদনের প্রেেিত ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভোটের আয়োজন করবে। এতে আবেদনকারীদের ৫০ শতাংশ ভোট প্রদান করলে- ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সংগঠন করার অনুমতে পাবে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রিসভায় ‘রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো আইন, ২০১৪’র খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। অধ্যাদেশের বিধানগুলোর মধ্যে মাত্র ২টি পরিবর্তন এনে এ আইনটি করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর বোর্ডের সদস্য সংখ্যা আরো ২ জন বৃদ্ধি এবং প্রতি মাসে বোর্ডের একটি সভার পরিবর্তে বছরে ৪টি সভা করার বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বোর্ডে আগে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের ১ জন করে প্রতিনিধি থাকতো। নতুন আইনে কৃষির পাশাপাশি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে আরো একজন এবং তথ্য ও যোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি বোর্ডে থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা আজ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি বলেন, খসড়া আইনে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ত্রেটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ পদে নিয়োগের উপযোগী ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
সচিব বলেন, এছাড়া ২৮ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১০৩ তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ ও এর সাফল্য এবং ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত গণহত্যা নিরোধ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও এর সাফল্য মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। সূত্র : বাসস।

শেয়ার করুন