শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয় : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

0
35
Print Friendly, PDF & Email

শ্রমিকদের উপর নির্যাতন গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে দেখা করে একথা জানান তিনি। আলোচনার বিষয়বস্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের দেয়া একটি বিবৃতিতে মজিনা বলেন, অন্যায় শ্রম চর্চা বিশেষ করে শ্রম কর্মীদের ওপর নিপীড়ন যে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এগুলো এখনই থামাতে হবে সে বিষয়ের ওপরও আমি গুরুত্বারোপ করেছি। অন্যদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বাজার সুবিধাও দেয়া না, আবার জিএসপি দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুধু কথা বলছে। তিনি বলেন, সম্প্রতিক সময়ে ছয়জন কংগ্রেসম্যান যে বক্তব্য দিয়েছে তা ‘অশোভনীয়’। এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
ড্যান মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও য্ক্তুরাষ্ট্রের মধ্যেকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিষয়াবলী ও বাংলাদেশের পোশাকখাতের রূপান্তর নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও আমার মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমাদের মত বিনিময়ের সময় আমি আমার গভীর বিশ্বাসের কথা জানিয়েছি যে, খারাপ কিছুর ভিতর দিয়েই ভাল কিছু বের হয়ে আসতে পারে। আমি বিশ্বাস করি রানা প্লাজা ভবন ধস ও তাজরীন ফ্যাসনের অগ্নিকান্ডের নেপথ্যেও আশার একটি কিরণ বিদ্যমান। এই সকল দুঃখজনক ঘটনা এমন একটি প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে যা অগ্নিনিরাপত্তা, কারখানা ভবনের কাঠামোগত দৃঢ়তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকখাতকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরিত করবে।’ ড্যান মজিনা এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন।
পরে সাংবাদিকদের তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো (টিকফা) চুক্তি করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে যে সব শর্ত দিয়েছে, আমরা তা পূরণ করছি। এই মুহূর্তে কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিএসপি সুবিধা পায় না। আগামী ডিসেম্বরে জিএসপি দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পর্যালোচনা করবে, তাতে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে পারে বলে আমি খুবই আশাবাদী।’
তিনি ছয় কংগ্রেসমেনে সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অশোভনীয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন কংগ্রেসম্যান যে চিঠি দিয়েছেন তার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বর্তমান কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোন মিল নেই। তাদের চিঠির মানে হলো তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। যা অশোভনীয়।’
তাদের নিকট এ চিঠির ব্যাখ্যা চাওয়া হবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এ কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে দেখা করেছি। তাদের সঙ্গে আমার বাংলাদেশের শ্রম ও শ্রমিক পরিবেশ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমার সঙ্গে আলোচনায় বোঝা গেছে তারা রাজনৈতিক কারণে হয়তো তারা এ চিঠি দিয়েছে। কিন্তু আমি তাদের এ চিঠির ব্যাখ্যা চাইব। এ সপ্তাহে ২টি চিঠি পাঠাবো। একটি তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে অন্যটি তাদের পাঠানো চিঠির ব্যাখ্যা চেয়ে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের তিনটি খাতে অগ্রাধিকার সুবিধা বা জিএসপি দিয়েছে। তা হলো- তামাক, সিরামিক ও প্লাস্টিক। কিন্তু তারা আমাদের এ তিনটি খাতের বিষয়ে কোন খোঁজখবর নিচ্ছে না। তা না করে আমদের যে (গার্মেন্টস) খাতের কোন জিএসপি নেই তা নিয়ে আলোচনা করছে। আমাদে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলছে।’
মজিনার সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আলোচনা সবসময় হয়। আজকেও হয়েছে। তারা আমাদের অনেক শর্ত দিয়েছে তা আমরা পূরণ করেছি। বাকি ইপিজেড শ্রমিক ইউনিয়নের কথা বলেছে। তাও কেবিনেট অনুমোদন দিয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রণালয়ে সদ্য যোগ দেয়া সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন