আবারো সরকার পতনের আন্দোলনের পথেই হাঁটছে ১৯ দল। কারণ বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট মনে করে, আওয়ামী লীগ সহজ কোনো উপায়ে ক্ষমতা ছাড়বে না। ফলে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজপথেই খুঁজতে হবে। আর সে পথই খুঁজছে বিএনপি ও এর রাজনৈতিক মিত্ররা। এক্ষেত্রে দোষ এড়াতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে আলোচনায় বসতে অনেকটা আগ বাড়িয়েই প্রস্তাব দিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া ওই প্রস্তাবনার মেয়াদ থাকছে দুই মাস। জুলাই অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার উদ্যোগ না নিলে রাজপথ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না, জোট নেতারা মনে করেন। আর দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ না হলে সে পথেই যাবে ১৯ দল। সেই প্রক্রিয়াই চলছে ১৯ দলীয় জোটে।
গত ৮ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেন সাংবাদিকদের।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সংলাপের জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত আছে। বিএনপি ও এর রাজনৈতিক মিত্ররা সংকট সমাধানে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। ১৯ দল মনে করে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে সরকারের উচিত সব দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত করুক। দেশে একটি শান্তিময় পরিস্থিতি তৈরি হোক। কিন্তু সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যদি একটি সমঝোতার পথ বের না হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই আন্দোলনে যাবে ১৯ দলীয় জোট।
সমঝোতা হবে কী?
বিএনপি ও এর রাজনৈতিক মিত্ররা দ্রুত একটি নতুন নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারকে বার বারই বলে আসছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রায় প্রতিটি সম্প্রদায়ই গণতন্ত্রের স্বার্থে আরেকটি নতুন নির্বাচনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের সাধারণ মানুষও চায়, জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার তাদের দেশ পরিচালনা করুক। কোন দল ক্ষমতায় আসলো আর কোন দল আসলো না এটা সাধারণ মানুষের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। সচেতন মানুষ চাচ্ছে, একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নাগরিকদের পছন্দের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনায় আসুক।
আর এজন্যই দ্রুত সাধারণ নির্বাচনের পক্ষে জনমত। কিন্তু সাধারণ মানুষের সামনে এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, সরকার কি একটি সুষ্ঠু সমাধানের প্রয়োজনে বিরোধীদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসবে? আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হবে? কোনো সংলাপ আদৌ হবে? যতোটা জানা গেছে, এসব প্রশ্নের জবাবে ভালো কোনো মেসেজ নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, সম্পাদকম-লীর সদস্য, কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্য ও কয়েকজন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সংলাপের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছিলেন।
অন্যদিকে এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর গত ১৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কিসের সংলাপ, কাদের সঙ্গে সংলাপ করবো? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্যে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপকে এখনই জরুরি মনে করে না আওয়ামী লীগ। ইতোপূর্বেই আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ প্রমুখ সংলাপের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন সভা-সেমিনারে।
তারা বলেছেন, দেশ এখন ভালোভাবেই চলছে। তাই এখন সংলাপের কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, এখনই সংলাপ করার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সংলাপের প্রয়োজন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার থাকতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষ চায়, বর্তমান সরকারই দেশ পরিচালনা করুক।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া সংলাপ করতে তার দলের প্রস্তুতির কথা জানানোর পর এতোদিন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এর প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু গত ১৪ জুন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে সংলাপের ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট করার পর দেশের সচেতন মানুষ হতাশ হয়েছে। কারণ, সংলাপ না হলে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। আর সেই পথেই পরিস্থিতি এগুচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক পানি সম্পদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তার বাসায় এ প্রতিবেদকের কথা হয়। একান্ত আলাপচারিতায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রসঙ্গ আসে।
এক প্রশ্নের জবাবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস থেকে একথা স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় আওয়ামী লীগ চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আলোচনাকে গুরুত্ব দেবে না। এ দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে তারা কখনোই সোজা পথে চলেনি। দেশে এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে এর সমাধানে কখনোই এগিয়ে আসবে না আওয়ামী লীগ।
মেজর হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে দাবি আদায় আলোচনার মাধ্যমে হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে কোনো ধরনের নমনীয়তা নেই। তারা, অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে এ ধরনের স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে আন্দোলনই একমাত্র উপায়।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে চলছে দুর্বৃত্তায়ন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে সরকারি বাহিনী। আইন-শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপহরণ, খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে বন্দুকের ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের হিংস্র থাবায় ভিন্নমতের প্রায় সবাই ভুক্তভোগী। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ গভীর সংকট থেকে দেশরক্ষার জন্য তরুণ ও যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও কয়েকদিনের মধ্যেই বের হবেন। তিনি দেশে বিভিন্ন স্থানে সফর করবেন। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
কোন পথে যাবে সরকার
এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, গত ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারতো না সরকার। কিন্তু যে কারণেই হোক, বিএনপি পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত না রেখে তা স্থগিত করে। বিএনপি মনে করেছিল, সরকার গঠনের পর কূটনীতিকদের প্রচেষ্টায় শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে একটি সমঝোতার পথ বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। বরং চীন সফরের পর তিনি এসব সম্ভাবনাকে উল্টো নাকচই করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আক্ষেপ করে শেখ হাসিনা এও বলেছেন, কূটনীতিকরা কেন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যান? তিনি তো এখন আর বিরোধী দলীয় নেতা নন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকার পরিচালনার জন্য কাউকে বিরোধী দল বানিয়ে নিলেও তা কূটনীতিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না। এটাই প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ।
গত ১৪ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর দেশের সচেতন মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাহলে কি আরও একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ? আবারো কী একটি অস্থিরতা তৈরি হতে যাচ্ছে? আর এর শেষ কোথায়?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সামনে এখনো দু’টি পথই খোলা রয়েছে। এক. আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা। দুই. বিরোধী জোটকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়া। এর একটি অবশ্যই সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। আর এজন্য সরকার খুব বেশি সময়ও হয়তো পাচ্ছে না। খুব কম সময়ের মধ্যেই করণীয় ঠিক করতে হবে সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামকে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট উভয় পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। তবে তারা চাচ্ছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান।
কিন্তু সরকার যদি আলাপ আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে আন্দোলনের পথেই অগ্রসর হবে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, সংলাপে বা সমঝোতার জন্য বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট অনন্তকাল অপেক্ষা করবে না।
সমাধান কোন পথে?
গত ১৭ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন তার গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ওই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আসছে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন তিনি। তিনি বলেন, এ সরকারের পতনের জন্য দেশের মানুষ এমনভাবে রাস্তায় নামবে, যা দেখে আওয়ামী লীগ সরকার আর বন্দুক চালাতে পারবে না। তাদের বন্দুক স্তব্ধ হয়ে যাবে।
বেগম জিয়া বলেন, বিদেশিরাও বলছে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য। দেশের মানুষ একটি জাতীয় নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এরা (সরকার) জনগণের উন্নয়ন করে না। নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত থাকে। তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সেখানে তারা অবৈধ সরকারের কথায় সাধারণ মানুষকে গুম, হত্যা করে নদীতে ফেলে দিচ্ছে। এই হলো দেশের অবস্থা। এভাবে একটি সরকার চলতে পারে না, চলতে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের মধ্যেই আন্দোলনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি সংলাপের প্রস্তুতির কথা জানালেও সেই আশায় হয়তো বসে থাকবে না। আন্দোলনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীতে এক সভায় বলেছেন, সরকার সমঝোতায় না আসলে আন্দোলনের মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে।
এদিকে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সমস্যা সমাধান করতে বিএনপি সরকারের কাছে নতুন করে সংলাপের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। সরকার সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে বলেও বিএনপি মনে করে না। গত ৮ জুন ইইউ’র প্রতিনিধি দল বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তাদের (ইইউ) পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়- কোনো একটি পক্ষ থেকে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিএনপি এ উদ্যোগে সাড়া দেবে কি-না?
তাদের এ ধরনের জিজ্ঞাসার জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন সংলাপের বিষয়ে দলের অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপি সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পক্ষে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের সহজ ভাষা বুঝতে চায় না। এছাড়া কোনো পক্ষ সংলাপ না চাইলে জোর করে তো আর সংলাপে বসা যাবে না।
অপরদিকে, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপ হবে কি হবে না এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক চলছে তা অবান্তর বলে মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। একইসঙ্গে সংলাপের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করতে বিএনপি’কে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনের ছয় মাস অতিক্রম হলো না অথচ বিএনপি এখনই সংলাপ করতে বলছে। তিনি বলেন, কী বিষয়ে সংলাপ করতে চায় বিএনপি তা পরিষ্কার করে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে নতুন একটি নির্বাচনের কথা বলা হলেও দেশের মানুষ এখন নতুন কোনো নির্বাচন চায় বলে সরকার ও আওয়ামী লীগ মনে করে না। বিএনপি তাদের অফিসে বসে সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দিলেই নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা বুঝা যায় না। তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ নতুনভাবে একটি নির্বাচন চায়, এটা জনগণের ভাবনা নয়।
অপরদিকে, বিএনপি জনগণকে সংগঠিত করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে এখন সংলাপের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন না আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই সংলাপের পক্ষে, প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে তার দল।
কী ভাবছে জামায়াত?
১৯ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিগত দিনে যেসব আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে রাজপথে জামায়াত ও ছাত্রশিবির সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী দিনেও রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা।
গত মাসে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দলটি কিছুটা নড়েচড়ে উঠেছে। জামায়াত মনে করে, এ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভাষায় কথা বলে হয়তো সময়ক্ষেপণ হতে পারে, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
দলটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, তার দল সব সময়ই গোছালো। নতুন করে দল গোছানোর কিছু নেই। বিএনপি’র সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক জোট রয়েছে। জোটগতভাবে আন্দোলনের ঘোষণা আসলে তাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে দলটির ওই শীর্ষ নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এ দলটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় পড়েছে। সব পরীক্ষায়ই সফলতা পেয়েছে তারা। বিশেষ করে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর ক্ষমতাগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ দেশের প্রায় সব স্থানেই জামায়াতের উপর নির্যাতন চালায়। এর আগে ২০১০ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে আটকের পর থেকে জামায়াতের ওপর যে ব্যাপক নির্যাতনের মাত্রা শুরু হয় তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী মনে করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারলে এ সরকারের পতন ঘটাতে খুব বেশি সময় এখন আর লাগবে না। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন করে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করা আর গত ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখা এক কথা নয়।
এ সরকারকে স্মরণকালের সবচে’ দুর্বল সরকার আখ্যা দিয়ে জামায়াতের ওই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা সরকারকে রমজান মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এর মধ্যে সরকার নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের অধিকার আদায়ে মাঠে থাকবে জামায়াত। তিনি বলেন, কোনো কারণে বিএনপি’ও যদি ঈদের পর আন্দোলনে না আসে তাহলে জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াত একাই রাজপথে লড়বে। এক্ষেত্রে সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন দলটির ওই কেন্দ্রীয় নেতা।
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রবীণ রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণী পেশার দৃষ্টি এখন সরকারের দিকে। চলমান সংকট নিরসনে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নেয় তাই এখন দেখার বিষয়। সরকার যদি চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ না নেয় তাহলে গভীর অনিশ্চয়তার দিকেই যাবে দেশ, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। শীর্ষ কাগজ











