রাঙ্গামাটিতে সিএইচটি’র গাড়ি বহরে হামলা : আহত ৩

0
72
Print Friendly, PDF & Email

রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আর্ন্তজাতিক কমিশনের (সিএইচটি) গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেলে সকাল থেকে বিুব্ধ বাঙালীদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ থাকার পর দুপুর দেড়টায় কড়া পুলিশ প্রহরায় পর্যটন মোটেল থেকে বের হয়ে একটি মাইক্রোবাস যোগে রাঙ্গামাটি ছেড়ে যাওয়ার পথে ওমদামিয়া হিল এলাকায় বিুদ্ধ জনতা তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় গাড়িতে অবস্থানরত কোতয়ালী ওসি মনি ইমতেয়াজ সোহেলসহ সিএইচটি কমিশনের সদস্য ইলোরা দেওয়ান ও গাড়ি চালক জুয়েল মাথায় আঘাত পান।
এসময় বিুদ্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে আহত সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্থ মাইক্রোবাসটি কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল ও পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ থানায় ছুটে যান। পরে জেলা প্রশাসনের দুটি গাড়ি করে রাঙ্গামাটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, সিএইচটি কমিশন রাঙ্গামাটি সফরের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়নি।
জানা গেছে, কমিশনের সদস্যরা একটি বিয়ের দাওয়াতে এসে রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেলে অবস্থান নেন। সকালে তারা রাঙ্গামাটি ত্যাগ না করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলে বিুদ্ধ বাঙালী সংগঠনগুলো সড়ক অবরোধ করে এবং বাঙালী নেতারা পর্যটন মোটেলে গিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে কমিশনের সদস্যদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে মোটেল থেকে বের করে আনেন। কড়া পুলিশ প্রহরায় রাঙ্গামাটি শহর ছেড়ে যাওয়ার সময় ওমদামিয়া হিল এলাকায় তারা হামলার শিকার হন।
গাড়ি বহরে ছিলেন সিএইচটি কমিশনের সমন্বয়কারী খানা শামস আহমেদ, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও কলামিস্ট ইলোরা দেওয়ান।
সিএইচটি কশিনের সদস্যদের দুপুর আড়াইটায় জেলা প্রশাসকের দুটি গাড়িতে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিুদ্ধ বাঙালী সংগঠনগুলো অবরোধ তুলে নেয়।

রাঙ্গামাটি শহরে অবরোধ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের প্রতিনিধি দলের গোপনে রাঙ্গামাটি সফরের প্রতিবাদে আজ সকালে রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান সড়কে অবরোধ পালন করে বাঙালী ছয় সংগঠন। অবরোধের কারণে রাঙ্গামাটি শহরে প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধি দল রাঙ্গামাটি ত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনের নেতারা।
সিএইচটি কমিশনের রাঙ্গামাটি শহরে আগমণের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার অবরোধ ডাকে বাঙ্গালি সংগঠনগুলো। কমিশন না আসায় সাত ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেছিলো সংগঠনগুলো। কিন্তু শুক্রবার রাতে সিএইচটি কমিশনের প্রতিনিধি দল গোপনে রাঙ্গামাটি অবস্থান করলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আজ সকালে বাঙালী সংগঠনগুলো কাঠালতলী ফিসারী বাধের সড়কের উপর ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এদিকে রাঙ্গামাটি সফররত সিএইচটি কমিশনের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল বাঙালীদের প্রতিরোধের মুখে রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের মোটেলে অবস্থান নেয়।

অবরোধে দুর্ভোগ
বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিএইচটি কমিশন) সফরের প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্র পরিষদ ও নাগরিক পরিষদের ডাকে বান্দরবানে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল থেকে বান্দরবান কেরানীরহাট চট্টগ্রাম সড়কে সংগঠনের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সুয়ালক এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বহু যানবাহন সেখানে আটকা পড়েছে। যানবাহন চলাচল না করায় চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা করছে।
সিএইচটি কমিশন তাদের রাঙ্গামাটির পূর্ব-নির্ধারিত সফর বাতিল করায় শুক্রবার সেখানে অবরোধ প্রত্যাহার আজ সকাল থেকে নেতাকর্মীরা বান্দরবানে পিকেটিং করেছে।

শেয়ার করুন