যে সব কারণে হারতে পারে ব্রাজিল

0
51
Print Friendly, PDF & Email

ফুটবলে নাকি যাদের শুরুটা ‘ধীর’ তাদের শেষটা গতির। ব্রাজিলের শুরুটা দেখে শুধু ব্রাজিল সমর্থকরাই নয়, হতাশ হয়েছেন প্রায় সকল ফুটবলপ্রেমীই। তবে ধীরে ধীরে যেন ফর্মে ফিরছে ফুটবলের রাজার উত্তরসুরীরা। তবে শঙ্কা কাটছে না স্কলারির। কারণ তার বাহিনীর উজ্জ্বল তারা বলতে এবার শুধু নেইমারই আলো ছড়াচ্ছে। সেও ইনজুরিতে। বাকি তারাগুলো এখনো জ্বলে উঠতে পারেনি। বিশ্বকাপ আসরে আদৌ জ্বলবে কিনা তা নিয়ে সংশয় যেন সময়ের সাথে সাথে ঘনিভূত হচ্ছে। আবার প্রতিপক্ষ কলম্বিয়াও দূরের কেউ নয়। ব্রাজিল-কলম্বিয়া দু’টোই লাতিন আমেরিকার দেশ। একই মাটি, আবহাওয়ায় অভ্যস্থ। ব্রাজিলের যেমন স্বপ্নসারথি নেইমার, কলম্বিয়ার আকাশে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে বিস্ময় বালক জেমস রদ্রিগেজ। কোনো দলই আগে ঘোষণা দিতে পারছে না, তারা জিতবেই। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাম ছুটবে তাতে সন্দেহ নেই কারও। গত ম্যাচে চিলি পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ব্রাজিলকে যথেষ্ট নাকানি-চুবানি খাইয়েছিল। ম্যাচ শেষে নেইমার-সিজারদের চিবুক গড়িয়ে পড়েছিল সুখের অশ্রু। সেমিফাইনালে ওঠার পথে ব্রাজিলের সামনে আজ বাধা কলম্বিয়া। ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কলম্বিয়া ঘটিয়ে দিতে পারে যে কোন অঘটন। আর ফুটবল বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে নানা কারণেই আজ কলম্বিয়া ভূত চেপে বসতে পারে ব্রাজিলের কাঁধে। সেমির আগেই বিদায় ঘটতে পারে স্বাগতিকদের।

ইতিহাস ব্রাজিলের বিপক্ষে

১৯৫০ সালে ঘরের মাঠে বসেছিল বিশ্বকাপের আসর। উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শিরোপা বিসর্জন দিয়েছিল ব্রাজিল। ৬৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে তারা। তাই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে সেলেকাওরা। সেই চাপই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে ব্রাজিলের জন্য। আর ঘরের মাঠের ইতিহাসতো ব্রাজিলের বিপক্ষেই।

নেইমারের ইনজুরি

নকআউট পর্বে চিলির বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলেন নেইমার। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা মোটেই কাটছিল না। তবে নেইমার খেলতে আশাবাদী। নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে না পারলে ব্রাজিলের জয় পাওয়াটা কষ্টই হবে।

জো-ফ্রেডের ফর্মহীনতা

গত জুনে কনফেডারেশন্স কাপের ফ্রেড আর বিশ্বকাপের ফ্রেডকে চেনা বড় দায়। চার ম্যাচে করেছেন মাত্র একটি গোল। তবে আক্রমণভাগে তার বল নিয়ে কারিকরি দেখে সুবিধার মনে হচ্ছে না। সেই কারিকরির চাপটি সামলাতে হচ্ছে নেইমার ও অস্কারকে। ফ্রেডের বিকল্প জো। তিনিও যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।

মাঝমাঠের শূন্যতা

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাঝমাঠে কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারির তুরুপের তাস ছিলেন লুইস গুস্তাভো। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারছেন না তিনি। এই সুযোগ কলম্বিয়া নিতে চাইবে নিশ্চয়ই।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান

সর্বশেষ চার ম্যাচে ব্রাজিল ও কলম্বিয়া কেউ জেতেনি। তাই চাপের মুখে কলম্বিয়া এবার ব্রাজিলকে হারিয়ে দিতে পারে। সর্বশেষ ম্যাচে নেইমার গোল করেছিলেন। সে ম্যাচে অবশ্য জেমস রদ্রিগেজ গোল করতে পারেননি। তা ছাড়া গত ১১ ম্যাচে কলম্বিয়া অপরাজিত ছিল। সেই জটলা খুলতে পারবে কি ব্রাজিল?

রদ্রিগেজ ফ্যাক্টর

বিশ্বকাপের আগে কজনই বা চিনত কলম্বিয়ার দামাল ছেলে জেমস রদ্রিগেজকে। চার ম্যাচেই নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন পাঁচটি গোল। বিশ্বকাপের নতুন নায়ক জ্বলে উঠলে ব্রাজিলকে মাথা নত করেই মাঠ ছাড়তে হতে পারে।

এসকোবার স্মৃতি

১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের কারণে আততায়ীদের হাতে নিহত হন কলম্বিয়ার প্রাক্তন তারকা আন্দ্রেস এসকোবার। সেই স্মৃতি নিয়ে জ্বলে উঠতে চাইবেন রদ্রিগেজরা। যদি তা-ই হয়, তাহলে ব্রাজিলের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হবে।

অ্যাটাকিং ফুটবল

আজ ব্রাজিলের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে পারেন স্কলারি। অ্যাটাকিং ফুটবলকেই হয়তো বেছে নেবেন তিনি। আর তাতে কাউন্টার অ্যাটাকে ফায়দা লুটতে চাইবে কলম্বিয়া। তাই আজকের ম্যাচটি হয়ে বসতে পারে গোলের ম্যাচ।

টাইব্রেকারের ভূত

নক-আউট পর্বে চিলির সঙ্গে টাইব্রেকারে হারতে হারতে জিতেছে ব্রাজিল। আর তিন ধাপ পার হলেই বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে তারা। সুতরাং বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে যেতে চাইবেন না স্কলারির শিষ্যরা। সুতরাং এলোপাতাড়ি খেললে কলম্বিয়া সেই ভুলের সুযোগ নেবে।

শেয়ার করুন