বিদ্যুতে সরকার ভর্তুকি দেবে না : প্রধানমন্ত্রী

0
45
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ল্য প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া। তিনি আরো বলেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে না।
তিনি বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে লোডশেডিং মুক্ত করতে তাঁর সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণাবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে চলেছে।
তিনি বলেন, তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারেও দেশবাসীকে আরও সচেতন ও যতœবান হতে হবে। অযথা লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে না রাখতে দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়ে তিনি প্রত্যেককে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর নিজ হাতে সুইচটি অফ করারও অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংসদ সদস্যসহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নিজ হাতে বিদ্যুতের সুইচ অফ করলে এতে সম্মান যায় না। বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং বিলও কম আসে।
তিনি ঢাকাবাসীসহ দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়, সরকার সে পরিমাণে মূল্য নেয় না। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে ১১ কোটি মোবাইল সিম ও ৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জেও প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের নিজ ব্যবহারের বিপরীতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী মসজিদসহ উপসনালয়ে লাইট-ফ্যান ব্যবহারে সোলার প্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, লাইট-ফ্যান ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যুতের লাইন ব্যবহার করা যেতে পারে।
সরকারি দলের সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে বিদ্যুতের লোডশেডিং মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এ ল্য বাস্তবায়নে তাঁর সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বিদ্যুতের অগ্রগতিতে তাঁর সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন ৮২ মেগাওয়াট ক্ষমতার টুঙ্গী বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া আর কোন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সম হয়নি। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে খাম্বা তৈরির কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে গৃহীত কিছু বিদ্যুৎ প্রকল্প তাদের সময় কমিশন্ড হয়। তিনি বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার মতায় থাকাকালীন বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াটে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে ৫৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫০৮ মেগাওয়াট এবং ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিসহ মোট ৫ হাজার ৮ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে ৭ হাজার ৩ মেগাওয়াট মতার ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এছাড়া ৫ হাজার ২৬৪ মেগাওয়াট মতার ২১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট মতার ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তিভিত্তিক ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোট ২ হাজার মেগাওয়াট মতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হবে। রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট মতাসম্পন্ন আমদানিকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও পটুয়াখালীতে আরও দুটি ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, সোলার এনার্জি থেকে বর্তমানে ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সোলার এনার্জি থেকে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বায়োগ্যাস থেকে বর্তমানে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ২০১৫ সালের মধ্যে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ময়মনসিংহে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গাজীপুরের কড্ডায় ৫২ মেগাওয়াট ডুয়েট ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের রাউজানে ২৫ মেগাওয়াট ডুয়েট ফুয়েল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু আছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় ভারত থেকে ভেড়ামারা-বহরমপুর গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বর্তমানে আমদানিকৃত ৫০০ মেগাওয়াটের অতিরিক্ত আরও ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত করার এ ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বর্তমান সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন