আওয়ামী লীগ পারে, আওয়ামী লীগ পারে না!

0
56
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৪ জুন কয়েকটি পত্রিকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রথম আলোর অনলাইনেও এটি প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর নিবন্ধের শিরোনাম ‘আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে।’
এই লেখায় তিনি আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু কেবল অতীত গৌরব দিয়ে কোনো দল সামনে এগোতে পারে না। পারলে নির্বাচনে পাকিস্তানে পিপলস পার্টি ও ভারতে কংগ্রেসের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটত না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়েছে, সত্য; তবে আওয়ামী লীগই সবকিছু করেছে, তা–ও সত্য নয়। অন্যান্য গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী দলও নিজ নিজ অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তাদের ভূমিকা অস্বীকার করলে সেটি হবে ইতিহাসকে অস্বীকার করা।
১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেও যুদ্ধের পরই যুদ্ধ শেষের প্রাপ্য নিয়ে দলে ভেতরে লড়াই শুরু হয়ে যায়। একপর্যায়ে দলে বিভক্তি আসে। বাহাত্তরের শেষার্ধে দলের তরুণ ও চৌকস অংশ মিলে জাসদ নামে আরেকটি দল করে আওয়ামী লীগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেয়। এর আগেই অবশ্য ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগসহ সব কটি সহযোগী সংগঠন বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
এই ভাগাভাগির সুযোগে শফিউল আলম প্রধানেরা ছাত্র নেতৃত্বে এসে অন্তর্ঘাত শুরু করেন এবং মুহসীন হলে সাত খুনের ঘটনা ঘটান। আওয়ামী লীগের এই বিভক্তি ও অন্তর্দ্বন্দ্ব পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি পর্যন্ত চলে; সে সময় যারা বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছিল, যারা কুচক্রী মোশতাককে সামনে নিয়ে এসেছিল, তারা কেউই আওয়ামী লীগের বাইরের লোক ছিল না। সেদিন কে এম ওবায়েদুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, তাহেরউদ্দীন ঠাকুরেরা দলের ভেতরে থেকে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, বর্তমানে নেত্রীর প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনকারীরা ভবিষ্যতে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না, সে কথা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগই পারে।’ আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করেছে। এসবই ঠিক। কিন্তু এই আওয়ামী লীগের ভেতরেই খন্দকার মোশতাক আহমদ ও শফিউল আলম প্রধানের মতো ফ্রাংকেনস্টাইন তৈরি হয়েছিল। এখনো যে ফ্রাংকেনস্টাইনরা নেই, তাই বা বলি কী করে? শেখ হাসিনার লেখায় ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্ব থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বিবৃত হলেও স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি পর্ব অনুল্লেখ্যই থেকে গেছে। এটি হলো আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার কয়েক মাসের মাথায় সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশবাসীর ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কথা প্রায়ই বলেন, কিন্তু ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে তাঁর জনসভায় গুলি চালিয়ে যে স্বৈরাচারী এরশাদের পুলিশ ২৪ জন মানুষ হত্যা করেছিল, সে কথা বলেন না। দুটো হামলারই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর লেখায় আওয়ামী লীগ কী কী পারে বা পেরেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ কী কী পারেনি বা করেনি, সেই তালিকাটিও বেশ দীর্ঘ। স্বাধীনতার পর দলটি শত্রু–মিত্র চিনতে ভুল করেছে। এখনো সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে দেশের অনেক উন্নতি হলেও যাঁদের কারণে দল ডুবেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে তাদের কেউ কেউ হয়ে উঠেছেন আরও ভয়ংকর। এখন দেখা যাক আওয়ামী লীগের কথা ও কাজের মিল কতখানি? ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের কথা বলেছিল, রাখতে পারেনি। এখনো বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছিল। দুর্নীতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।আওয়ামী লীগ হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেসব যে বন্ধ হয়নি, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুরই তার প্রমাণ। আওয়ামী লীগ বলেছিল, মন্ত্রী–সাংসদদের সম্পদের হিসাব দেবে। কেউ দেননি। পঁাচ বছরে কারও কারও সম্পদ বেড়েছে শত গুণ।
আওয়ামী লীগ বলেছিল, দেশবাসীকে সুশাসন দেবে। এখন আওয়ামী লীগের ‘সুশাসন’ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলীয় কর্মীরা দলীয় কর্মীদের খুন করছে। ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রলীগকে খুন করছে। যুবলীগ কর্মীরা যুবলীগকে খুন করছে। আওয়ামী লীগ নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে জীবন দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি যুবলীগ নেতা দখল করছেন। যুবলীগ নেতার ব্যবসা ছাত্রলীগ নেতা হজম করছে। দেশের প্রায় প্রতিটি স্থানে সাংসদ বনাম মন্ত্রী, সাংসদ বনাম উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝগড়া চলে আসছে। শিক্ষাঙ্গনে বিরোধী

শেয়ার করুন