নেতা নেই শিবচর বিএনপিতে!

0
314
Print Friendly, PDF & Email

দলীয় কোন্দল, একাধিক গ্রুপে বিভক্তি, মতবিরোধ ও ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেয়ার কারণে নেতাশূন্য হয়ে পড়েছে শিবচর উপজেলা বিএনপি। সর্বশেষ পুরনো ও ত্যাগী নেতাদের বহিস্কার করায় আরও বেকায়দায় পড়ে দলটি।

ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশপথ হিসেবে গুরুত্ব বহন করে শিবচর উপজেলা। তবে এ উপজেলায় বরাবরই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছে আওয়ামী লীগ। আর এই বিপুল ভোট প্রাপ্তির পেছনে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দল। কোন্দলের কারণেই ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে পারে না শেষ পর্যন্ত। বিগত সংসদ ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কটি নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা হারানোর বিষয়টিই উঠে এসেছে।

নানা দুর্যোগের মধ্যেও দলের হাল ধরে রাখা নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরীকে সম্প্রতি দল থেকে বহিস্কার করার পরই বিএনপির কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম বাদশা মিঞার ছেলে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিবচর উপজেলা বিএনপি’র পুরাতন কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নবম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া নবীন শিল্পপতি কামাল জামান নূরুদ্দিন মোল্লাকে। নবীন নেতাকে নিয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপি নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

তবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নূরুদ্দিন মোল্লাকে কেন্দ্র করে দুই ধারায় বিভক্ত হতে থাকে দলটি। নাজমুল হুদা চৌধুরী মিঠু ও কামাল জামাল নূরুদ্দিন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এতে বিভক্ত হয়ে পড়ে দলটি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিঠু চৌধুরীর কমিটি বাতিল করে কেন্দ্র থেকে নূরুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি নিয়েও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়।

মাদারীপুর জেলা কমিটি আহ্বায়ক কমিটিকে স্বীকৃতি দিতে প্রথম অবস্থায় নারাজ থাকে। তাছাড়া আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর কোনো মিটিং বা আলোচনা না করায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। তবে দূরে বসেও কামাল-জামাল নূরুদ্দিনের  নির্দেশে নেতা-কর্মীরা শিবচরে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে থেকেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দল ত্যাগ করে যোগদান দেয় আওয়ামী লীগে। এরপর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পরে যায়।

উপজেলা নির্বাচনে আহ্বায়ক কমিটি সমর্থিত খলিলুর রহমান ঠাণ্ডু চৌধুরীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি। পুরনো কমিটির সভাপতি মিঠু চৌধুরীর প্যানেল থেকে শাহাদাত হোসেন খানকে প্রার্থী করা হয়। ফলে কেন্দ্র মিঠু চৌধুরীকে ওই সময় দল থেকে বহিস্কার করে। বহিস্কারের পরদিন সকালে আবার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। বিকেলে কোনো এক অজানা কারণে আবারও তাকে বহিস্কার করে বলে মিঠু চৌধুরী জানান। বর্তমানে তিনি বহিস্কৃত নেতা হিসেবেই আছেন। তবে শিগগিরই তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বহিস্কার, পুনর্বহাল আবার বহিস্কার। সবমিলিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগ মূহূর্তে শিবচর উপজেলা বিএনপিতে বিরাজ করে অস্থিরতা। সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্মি আহ্বায়ক এবং টানা দুইবার শিবচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন খান যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কমিটির সহসভাপতি সন্যাসীরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে এবং পরে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরী মিঠু বলেন,‘বিএনপি’র এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। আমাকে আবার দায়িত্ব দেয়া হলে দলকে গোছানোর জন্য কাজ করবো। তাছাড়া বিএনপির যে সব নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা বিএনপির ওপর গ্রুপের। আমার প্যানেলভুক্ত কেউ আওয়ামী লীগে যায়নি।’

বক্তব্যের জন্য শিবচর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কামাল জামাল নূরুদ্দিনের সঙ্গে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সমর্থিত একাধিক সূত্র জানায়, শিবচর উপজেলা বিএনপিকে নতুন করে সাজাতে তিনি কাজ করে যাবেন।

শেয়ার করুন