এখন কে বাম, কে ডান তা দেখার সময় নেই: খালেদা

0
66
Print Friendly, PDF & Email

সাম্যবাদী দলের একাংশের যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে। এখন কে বাম, কে ডান তা দেখার সময় নেই। বর্তমান দুর্নীতিবাজ, অবৈধ জবর দখলকারী সরকারকে হটাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

বেগম জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভুলনীতির কারণে দেশ আজ সংকটের মুখে। গোটা দেশকে গ্রাস করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই সরকারকে  না হটাতে পারলে আওয়ামী লীগ দেশকে এমন জায়গা নিয়ে যাবে, দেশ বিক্রি না হলেও কিছুই থাকবে না। এমন সব  চুক্তি তারা (সরকার) করেছে, তা কারো অজানা নয়।’

শনিবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাম্যবাদী দলের একাংশের যোগদানের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রমজানের পরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে লুটপাট চলবে। তারা যতই তওবা করুক তাতে কাজ হবে না।

 লেলিনবাদ সমর্থিত সাম্যবাদী দল (এমএল) এর বিরোধী জোটে যোগদানে স্বাগত জানিয়ে বেগম জিয়া বলেন, ‘আপনাদের যোগদানের ফলে এই জোট আরো শক্তিশালী ও বেগবান হবে। আমি আশা করি, আগামীতে এই জোটের পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘দশের অবস্থা ভালো নয়। এই সরকার লুটপাট করে দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে। দেশে ধনী-গরীব-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত কোনো শ্রেণীর মানুষজনই ভালো নেই। কারো কোনো নিরাপত্তা নেই। কোনো ধর্মের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই।’

ক্ষমতাসীন দলের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি দাবি করে খালেদা বলেন, ‘তাদের কোনো লাজ-লজ্জা নেই। আওয়ামী লীগ যতই তওবা করুক, তাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে লুটপাট করে দেশটাকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। তাদের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তারা রুশ বলয়ে মধ্যেই আছে। গোটা দেশকে আওয়ামী লীগ আজ বন্ধুহীন করে ফেলেছে।’

এসম তিনি বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো চুক্তি করবে না। দেশের স্বার্থে আমরা কাজ করবো।’

সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা’র কথা স্মরণ করে খালেদা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তোয়াহা সাহেবের মতো ভালো নেতাদের সংসদে নিয়ে এসেছিলেন। ওই সময়ে সংসদে অনেক ভালো ভালো নেতা এসেছিলেন বলেই ওই সংসদে ইমেজ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিলো।’

যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সদ্য যোগদানকারী নেতা কমরেড সাঈদ আহমেদ, পলিটব্যুরোর সদস্য হানিফুল কবির, আরিফুল হক সমুন বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শেখ শওকত হোসেন নিলু, লেবার পার্টির মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির আবদুল মোবিন, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ন্যাপ ভাসানীর মো. আজহারুল ইসলাম, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) খন্দকার গোলাম মূর্তজা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। –

শেয়ার করুন