কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেই পাস হলো অর্থবিল

0
91
Print Friendly, PDF & Email

কালো টাকার মালিকদের সাথে আপস করলেন অর্থমন্ত্রী। যা ভাবা হয়েছিল তা-ই হলো, শেষ পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রেখেই অর্থবিল-২০১৪ গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে পাস করিয়ে নিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এর ফলে আগামী অর্থবছরেও যে কেউ তার কালো টাকা প্রদেয় করের সাথে মাত্র ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে সাদা করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরেও যে কেউ তার অপ্রদর্শিত কালো অর্থ জমি ও ফ্যাটে (আবাসন) বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিবর্গ মিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদান করতে হবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী ৬ জুন বলেছিলেন, এখন থেকে কালো টাকা সাদা করার বিষয় বাতিল করা হলো।
অর্থবিল পাসের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, আয়কর অধ্যাদেশে কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কারো কারো মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অর্থ আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করলে বিনিয়োগকৃত অর্থ বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়ার বিধান করা হয়। বাস্তবে এ বিধানের সুযোগ করদাতারা গ্রহণ করেন এবং এই সুযোগ রাখতে চাই না বিধায় এ সংক্রান্ত বিধানটি বাতিলের প্রস্তাব করছি।
এরপর তিনি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, আবাসন খাতে প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদান করলে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগ মেনে নেয়ার বিধানটি কর প্রদান পদ্ধতিতে সরলীকরণ মাত্র। কোনো করদাতা অতীতে তার আয়ের ওপর সঠিকভাবে কর পরিশোধ না করলে পরে প্রযোজ্য কর ও জরিমানা পরিশোধ করে কর অনারোপিত আয়ের ওপর কর পরিশোধ করতে পারেন। এ েেত্র করদাতাকে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি। প্রচলিত হারেই তাকে জরিমানাসহ কর দিতে হয়। এ ধরনের সুযোগ কর প্রদান ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রার্থে রাখা প্রয়োজন বিধায় এ দু’টি বিধান অব্যাহত রাখা যায়। প্রসঙ্গত, শেষোক্ত দু’টি েেত্র সন্ত্রাস ও দুর্নীতি উদ্ভূত আয় প্রদর্শন করা যায় না।
চলতি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে তিন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ খাতগুলোÑ জমি ও ফ্যাট, ট্রেজারি বন্ড আয়কর আইন ১৯ ধারা (বিবিবি) অনুযায়ী প্রদেয় করের সাথে ১০ ভাগ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। গত ৫ জুন ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি। ফলে সবাই ধরে নিয়েছিল আগামী অর্থবছরেও এসব খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ৬ জুন অর্থমন্ত্রী বাজেট-উত্তর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো খাতেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই। বাজেট বক্তৃতায় যদিও বিষয়টি আমি বলিনি। তবে এখন বলছি, আগে এ বিষয়ে যেসব সুযোগ ছিল তা বাতিল হলো। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিনটি খাতে (ফ্যাট ও জমি কেনা এবং ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই সুবিধা নিয়ে এ পর্যন্ত এসব খাতে মাত্র ৩৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এ েেত্র সরকার ট্যাক্স পেয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি টাকা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ হিসাব দেখে মনে হয় দেশে কালো টাকা নেই। কিন্তু কালো টাকা আছে। যেহেতু এই সুবিধায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, সেই কারণে এটা বন্ধ করা হলো। তিনি বলেন, আমরা আগে এক গবেষণায় দেখেছি দেশে কালো টাকার পরিমাণ জিডিপির ৪৯ শতাংশ থেকে ৮৯ শতাংশ। এখন আবার নতুন করে গবেষণা করে দেখতে হবে কালো টাকার পরিমাণ কী অবস্থায় রয়েছে। তারপর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এনবিআর কর্মকর্তাও বলেন, ১০ শতাংশ জরিমানাসহ কোনো খাতেই আগামীতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না।
কিন্তু গতকাল অর্থবিল পাসের মাধ্যমে দু’টি খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আগামী অর্থবছরেও বলবৎ রাখা হলো।

শেয়ার করুন