গণমাধ্যম, পুলিশ–র্যাব শামীমের কাছে সব তুচ্ছ

0
114
Print Friendly, PDF & Email

গণমাধ্যম, পুলিশ-র‌্যাব, নিজ দল আওয়ামী লীগ—তাঁর কাছে সবই যেন তুচ্ছ৷ সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে সারমেয়৷ র‌্যাব-পুলিশকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন তিনি৷ নিজ দল আওয়ামী লীগের ওপরও তিনি ক্ষুব্ধ৷ কারণ, দলের অনেক নেতা তাঁকে পছন্দ করেন না। এর মধ্যেই ভাই সেলিম ওসমানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জকে বদলে দিতে চান তিনি৷
তিনি সরকারি দলের আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমান৷ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দোতলার একটি কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর খোলামেলা আলাপচারিতার সারমর্ম করলে এই চিত্রই ফুটে ওঠে৷
বৃহস্পতিবার দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপনির্বাচনের দিন৷ বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে বসে নির্বাচনের খোঁজখবর রাখছিলেন শামীম ওসমান৷ নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বশিরউদ্দীনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নিতে সাংবাদিকেরা সেখানে যান৷ এঁদের মধ্যে ছিলেন দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান, প্রথম আলোর দুই সাংবাদিক৷ তিনি সবাইকে কক্ষে নিয়ে বসান৷ তবে শুরুতে পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি৷ বললেন, ‘তোমাদের সঙ্গে এমনি কথা বলি৷’ সাংবাদিকেরাও একে একে নানা প্রসঙ্গ তুললেন৷ নিজের আত্মবিশ্বাস, তাচ্ছিল্য, ক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়ে সেসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি৷ প্রায় শেষ পর্যায়ে একজন সাংবাদিক এই আলাপচারিতায় উঠে আসা কিছু বিষয় এবং এ-সংশ্লিষ্ট অভিব্যক্তি প্রকাশের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ঘাড় নেড়ে সায় দেন৷
আলাপচারিতায় শামীম ওসমান গণমাধ্যম নিয়ে তাঁর মনোভাব অকপটে প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছে কুকুর। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন পাড়ার অনেকে পয়সা হলে বাড়িতে কুকুর পুষত। ওদের বাড়ির সামনে গেলে কুকুরগুলো মুখ ভেংচাত। এর পর যাদের আরও পয়সা হলো, তারা মিডিয়া পোষা শুরু করল। এগুলো হলো অ্যালসেশিয়ান কুকুর। প্রশিক্ষিত। লাত্থি দিলেও এগুলো কামড়াতে আসে।’
শামীম ওসমান বলে চলেন, ‘যেমন ধরেন, বসুন্ধরার শাহ আলম। ওর আছে চারটা। কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, একটি অনলাইন পত্রিকা আর আরেকটি সান না কী যেন নামের ইংরেজি পত্রিকা। বাবুলের একটা পত্রিকা ছিল, আরেকটা টেলিভিশন নিছে। আজাদ সাহেব, ওনার আগে পত্রিকা ছিল একটা, তাঁর আরেকটা লাগবে। নতুন করে একটি টিভি চ্যানেল নিছে। পত্রিকা আছে একটাই, সেইটা হইলো ইত্তেফাক৷’
দম নিয়ে আবার শুরু করলেন শামীম ওসমান, ‘সালমান—ও তো একটা চোর। বড় চোর। ২৩ হাজার কোটি টাকা ও চুরি করছে। তারও পত্রিকা ছিল, এখন একটা টিভি চ্যানেল নিছে। আমি তো তারে দেখা হইলে বলি—চোর, চোর, চোর।’
প্রসঙ্গত, নুরুল ইসলাম বাবুল যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান৷ এই গ্রুপের মিিডয়া হচ্ছে দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভি৷ এ কে আজাদ হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান৷ দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোর এই গ্রুপের মিডিয়া৷ সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান৷ এই গ্রুপের পত্রিকা ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট ও ইনডিপেনডেন্ট টিভি৷
শামীম ওসমান বললেন, ‘কালকে যদি তোমাদের মালিক বলে, শামীম ওসমানের পক্ষে লিখো। তোমরা তাই করবা।’ এ সময় একজন সাংবাদিক বলেন, ‘মালিক যা বলবে আমরা তা-ই করব, তা সব সময় ঠিক না। আমরা চাকরি ছেড়েও দিতে পারি।’ আরেকজন সাংবাদিক বললেন, ‘কিছু কুকুর যেমন লেজ নাড়ায়, আবার কেউ কেউ ডাকাত আসলে চিৎকার করে৷ অনেক সময় তারা গ্রামও পাহারা দেয়।’
জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘তোমরা যাইবাটা কই। হ্যাঁ, তোমরা চাকরি ছাড়তে পারো। কিন্তু সব মালিক যদি একই কথা বলে। কই যাইবা।’ তিনি বললেন, ‘এরা সবাই আমার বিরুদ্ধে লেখে। আমি কিচ্ছু বলি না। লেখুক। ওরা (মিডিয়ার মালিকেরা) কোত্থেকে উঠে আসছে, তা তো আমি জানি। ওরা অনেক ছোট জায়গা থেকে আজকে বড় জায়গায় আসছে। ওদের সবার সঙ্গে আমার ভালো খাতির আছে।’
ঘড়ির কাঁটার সময় তখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। কথা শুরু হয়েছিল নির্বাচন কেমন হলো, ফলাফল কী আশা করছেন—এসব নিয়ে। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানো বড় ভাই সেলিম ওসমানের নিশ্চিত বিজয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শামীম ওসমান।
আলাপের একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোনে হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গটি আবার উঠে আসে৷ এবার শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার নাম করে তো অনেকেই

শেয়ার করুন