নেতাদের একলা চলতে মানা

0
41
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক নেতাদের একা না চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের রাস্তায় চলাফেরাতেও সতর্ক থাকতে বলা হয়। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তাদের চলাফেরায় এমন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি আজ-কালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, সবাইকে নিরাপদে থাকতে হবে। রাজনীতিবিদরা এর বাইরে নন। যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, রাজনীতিবিদরা টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।

পেশাদার কিলারদের তৎপরতাও বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় রাজনীতিবিদদের বিশেষ করে সরকারি দলের যারা জনপ্রিয় নেতা তাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করা প্রয়োজন।

ওই কর্মকর্তা জানান, বিগত কয়েক মাসে রাজধানীসহ সারা দেশে বেশ কয়েকজন রাজনীতিক সশস্ত্র হামলার শিকার হন। দিনে অস্ত্রধারীরা সশস্ত্র হামলা চালানোর পর তারা আবার পালিয়েও যাচ্ছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারছেন না তারা। এমনি এক অবস্থায় রাজনীতিবিদদের জীবনের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। একা চলাফেরা করা এই সময়ে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, আধিপত্যের লড়াই, প্রভাব বিস্তার এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের কারণেই বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কোনো কোনো ঘটনার পেছনে তৃতীয় শক্তি কাজ করছে বলেও তদন্তে বেরিয়েছে। এ কারণেই রাজনীতিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়। একটি মোটরসাইকেলে করে এসে হামলাকারীরা চলন্ত গাড়িতে বসা শামীমকে লক্ষ্য করে পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। হাতে গুলিবিদ্ধ হন আওয়ামী লীগের এই জনপ্রিয় নেতা। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ অবস্থায় রাজনীতিবিদরা যেমন আতঙ্কিত, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও উদ্বিগ্ন। জানা গেছে, গত মাসে ফেনীর ফুলগাজীতে জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান একরামের ওপর হামলা চালায় অস্ত্রধারীরা। তারা গুলি ও কোপানোর পর একরামকে গাড়িসহ আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া রাজধানীতেই সরকার দলীয় অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী খুনের শিকার হয়েছেন। আধিপত্যের লড়াই, প্রভাব বিস্তার এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের কারণে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া সিলেট, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, পাবনাসহ কয়েকটি জেলায় ও রাজশাহীতে রাজনীতিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন