নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন

0
141
Print Friendly, PDF & Email

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও মামলার চার্জশিট না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সেই সঙ্গে তারা মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রায় আধাঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দ্রুত নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। পরে মৌচাক এলাকা থেকে বের হওয়া একটি মিছিল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি দ্রুত নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা করতে।

নজরুল ইসলামের ভাই আব্দুস সালাম বলেন, অবিলম্বে নূর হোসেনের যতো অবৈধ সম্পদ রয়েছে তা দুদকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের, নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ভাই মিজানুর রহমান রিপন, নিহত লিটনের ভাই মিন্টু, নিহত গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন।

পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় মামলা করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ৬ জনকে। অপর আসামিরা হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, হাসমত আলী হাসু, আনোয়ার হোসেন আশিক, আমিনুল ইসলাম রাজু ও ইকবাল হোসেন।

এর দুদিন পর ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এ অপহরণ ও হত্যার মূল আসামি নূর হোসেন। এ ঘটনার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, র‌্যাব নূর হোসেনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় নূর হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আলোচিত এ খুনের ঘটনায় ইতোমধ্যে র‌্যাবের বাধ্যতামূলক অবসানে পাঠানো চাকরিচ্যুত সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার  এম এম রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এছাড়া কামাল নামের এক ব্যক্তিও রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। এ ঘটনা সম্পর্কিত এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে নূর হোসেনের একটি ফোনালাপের অডিও প্রকাশ পায়।

সাত খুনের ঘটনার মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। গত ১৫ জুন কলকাতা থেকে নূর হোসেন গ্রেপ্তার হন।

শেয়ার করুন