‘পত্রিকা পক্ষ নিলে খবর প্রকাশের নীতিতে থাকে না’

0
107
Print Friendly, PDF & Email

নারায়ণগঞ্জের উপনির্বাচন ঘিরে সংবাদ পরিবেশনে কয়েকটি দৈনিকের ‘পক্ষপাতিত্বের’ সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

সংবাদ মাধ্যম কোনো পক্ষ নিলে তারা আর নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খবর প্রকাশের নীতিতে থাকে না বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন সৈয়দ আশরাফ।

আগের দিন অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ওই উপনির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন আসার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মহল সারা বাংলাদেশে অতি চিৎকার শুরু করলো- এটা একটা নিছক মামুলি উপনির্বাচন। প্রথমে আওয়ামী লীগকে সেখানে জড়ানোর চেষ্টা করা হলো। না পেরে তারা বললো, এই উপনির্বাচন একদিকে নারায়ণগঞ্জবাসীর, আরেক দিকে ওসমান পরিবার।

“ওই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, দুঃখের বিষয় কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা সেই নির্বাচনটাকে ওসমান পরিবার বনাম নারায়ণগঞ্জবাসীর- এভাবে উল্লেখ করতে চেয়েছিল। আমার আসলে দুঃখ হয়, তারা ওসমান পরিবার সম্পর্কে কিছু জানে না বা জানলেও অজানার ভাব করে।”

সরকারের পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমেরও দায়িত্বশীল আচরণ করার প্রয়োজন-মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও সরকার যদি ভুল করে তাহলে বাংলাদেশের ভয়ানক পরিণতি হতে পারে।

“সংবাদ মাধ্যম যদি কোনো পক্ষ অবলম্বন করে, তাহলে তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খবর প্রকাশ করার সে নীতিতে থাকে না।আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার পরিবর্তে অনেকে না জেনে না বুঝে গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ব্যাহত করতে চাচ্ছেন।”

গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আপনারা সমালোচনা করেন- আমরা চাই। আমরা বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা চাই।”

বক্তব্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ।

তিনি বলেন, “ওসমান পরিবার আওয়ামী লীগের। এই ওসমান পরিবারকে, এই খান সাহেব ওসমানকে আমরা আওয়ামী লীগের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবো না।

“ওসমান পরিবার তো কোনো রাজনৈতিক দল নয়। খান সাহেব ওসমান, তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। আওয়ামী লীগের জন্মের অন্যতম স্থান এই নারায়ণগঞ্জ। এই ওসমান পরিবারে আজ পর্যন্ত যারা রাজনীতি করেছেন, তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।”

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের এই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল বলে সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনেও এই আসনটি জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদলকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ৮২,৮৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন প্রয়াত সাংসদের ভাই সেলিম ওসমান,যার আরেক ভাই শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ।

ওই উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, “এমনকি, যারা এই নির্বাচনকে ওসমান পরিবার বনাম নারায়ণগঞ্জবাসীর করতে চেয়েছিল, তারাও বলেছেন, ভোটার কিছু কম হয়েছে। কিন্তু কারচুপি হয় নাই।”

শেয়ার করুন