বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত

0
68
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত তার পাশের দেশ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চায় কি না, তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে সোনারগাঁও হোটেলে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো—বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। তথাকথিত সংসদ জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে না। বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতন্ত্রের দেশ তার প্রতিবেশী দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখতে চায় কি না, তা আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।’
মঈন খান বলেন, গণতন্ত্র বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, এ অঞ্চলে ভারত বিশ্বের বৃহত্ গণতন্ত্র। প্রতিবেশী দেশে গণতন্ত্রের অনুপস্থিত থাকলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দল নয়, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন।
শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ভারতের নতুন সরকারকে অভিনন্দন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক টেকসই করতে মোদি সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ব্যাপারে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়া বৈঠকে সুষমা স্বরাজকে বলেন, ভারতের নির্বাচনের ফলাফলে মানুষের মনে আশা জেগেছে যে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায় তারা দেখতে পাবে। পারস্পরিক লাভ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

খালেদা জিয়া দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে সুষমা স্বরাজ আশ্বস্ত করেছেন, এ বিষয়ে তাঁদের অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের ভেতরে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শমসের মবিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা সংলাপ নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সুষমার সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আপত্তি করেছিল। এসব আপত্তি অতিক্রম করেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারত যে কোনো দল নয়, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায়, এই বৈঠক তারই প্রতিফলন।

বৈঠকে বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন ও রিয়াজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন