পাঁচটি সবজি রপ্তানী নিষিদ্ধ করেছে সরকার

0
29
Print Friendly, PDF & Email

জারের চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে সরবরাহ ঠিক রাখতে আসছে রমজানে পাঁচটি সবজি রপ্তানী নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আজ বুধবার থেকে রমজান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি সবজি রপ্তানি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইফতারিতে জনপ্রিয় সবজি বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচা মরিচ ও ধনে পাতার রপ্তানিতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।গত দু’সপ্তাহ থেকে জমি থেকে বেগুল তুলছে না কৃষক। তাদের আশা রোজায় কিছুটা বেগুনের দাম পাওয়া যাবে। ফলে এরই মধ্যে বাজারে বেগুনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। তবে ভরা মৌসুমের কারণে শসার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে এ সবজি বিক্রি হলেও রোজার শুরুতে তা আরো কিছুটা বাড়বে স্বাভাবিকভাবেই।
দিনের রোজা শেষে ইফতারির প্লেটে এধরনের সবজির উপস্থিতি বেশিরভাগেরই পছন্দ। আর তাই রমজানে এই বিক্রি বাড়ে ব্যাপকহারে। বাড়ে লেবু, ইসুবগুল ও ফলের দাম। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলছেন, পছন্দের সবজিগুলো ক্রেতারা বাজার যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পান সে জন্যে এই এর রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলো। সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি এ বিষয়টি লক্ষ্য রেখে বাজারে ছোলা, চিনি, খেজুর সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত থাকে বলে বাজার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এক শ্রেণীর মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের হাতে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রপ্তানি মানে তো জিনিসগুলো সব বিদেশে চলে গেলো। আমরা চাই রমজানে জিনিসপত্রের যোগান যেন স্বাভাবিক থাকে। মানুষ বাজারে গিয়ে যাতে তার দরকারী পণ্যটি কিনতে পারে সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।গত এক বছরে সব ধরনের সবজি রপ্তানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে নয়শো কোটি টাকার মতো। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই এই সবজির রপ্তানি বেশি। সৌদি আরব তার মধ্যে সবচাইতে বড় গন্তব্য। আর ওই দেশটিতে মাংস থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস এমন কয়েকটি ইউরোপের দেশ যেমন যুক্তরাজ্য ও ইতালির ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোতে বাংলাদেশে সবজির চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের ফল ও সবজি রপ্তানিকারকদের সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর জানান, দেশের ভেতরে বাজারে এই সবজিগুলোর যোগানের সংকট নেই তাই তার রপ্তানি বন্ধ করা অযৌক্তিক। এর প্রভাব রপ্তানির বাজারে পড়বে। কারণ বিদেশি ক্রেতাদের কোন আইটেম পাঠানোর জন্য আমাদের সাথে চুক্তি থাকে। হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে ক্রেতারা অন্য দেশে বাজার খুঁজবে।
ঢাকায় কাঁচা সবজির সবচেয়ে বড় যোগান মেলে কারওয়ান বাজারে। এখানে সারাদেশ থেকে সবজির চালান আসে। এরপর রয়েছে শ্যামবাজার। ক্ষুদ্র আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক জানান, রমজানের প্রথম সাত দিন মানুষজন ফ্রিজ ভর্তি করে রাখে। যেমন ধরুন হয়তো শসা কেনে একসাথে দশ কেজি, লেবু কেনে একশোটা, বেগুন কেনে পাঁচ কেজি। সেটা না করে যদি অল্প কেনে তাহলে এত চাপ পড়ে না। তাই সরকারের এমন সিদ্ধান্তে তেমন লাভ হবে না।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মনে করছেন না এই একমাসের নিষেধাজ্ঞায় দেশের ভেতরে ও বাইরে বাজারে তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলছিলেন, এসব সবজি রপ্তানিতে আমরা নিজেরাই উৎসাহ যোগাই। নগদ সহায়তাও দেয়া হয় তার জন্য বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। একমাস দেখতে দেখতে চলে যাবে।
ওদিকে রমজানের কেনাকাটা শুরু করেছেন অনেকেই। ঢাকার বাইরে থেকে আসতে শুরু করেছে সবজির যোগান। রমজান শেষ হলেই ঐ পাঁচটি সবজির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়।

শেয়ার করুন