সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির ভোটযুদ্ধ শুরু

0
28
Print Friendly, PDF & Email

সন্ত্রাস অবসানের প্রত্যাশা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোট নেওয়া চলবে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা এবং এর আগে মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যার কারণে এই নির্বাচনে সন্ত্রাস প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের এসব ঘটনার সঙ্গে ঘুরেফিরে এসেছে ওসমান পরিবারের নাম।

স্থানীয় ভোটার ও স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে আজকের এই নির্বাচন হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির লড়াই।

আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত সাংসদ (নারায়ণগঞ্জ-৪) শামীম ওসমানের ভাই জাতীয় পার্টির সাংসদ নাসিম ওসমান গত ২৯ এপ্রিল মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে তাঁদের আরেক ভাই সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রার্থী (লাঙ্গল প্রতীক) হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ এখানে কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এস এম আকরাম স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রতীক আনারস) হয়েছেন।

এ নির্বাচনে আরও দুজন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার ও মামুন সিরাজুল মজিদ। অবশ্য এ দুজনের তেমন কোনো তত্পরতা চোখে পড়েনি।

২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত শামীম ওসমানকে সমর্থন দেওয়ায় এস এম আকরাম দল থেকে পদত্যাগ করেন। ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমানের বিপরীতে প্রার্থী হওয়ায় উচ্চশিক্ষিত এস এম আকরামকে ইতিমধ্যে নাগরিক সমাজসহ অরাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠন সমর্থন দিয়েছে।

এস এম আকরামের বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা ছিল না বলে তাঁর হলফনামায় উল্লেখ আছে।

নির্বাচনের হলফনামায় সেলিম ওসমান লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি ফৌজদারি মামলা ছিল।

এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ এবং মহিলা এক লাখ ৬৮ হাজার ৯৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বন্দর উপজেলায় ৮৯টি এবং নারায়ণগঞ্জ সদরে ৫২টি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের দিন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও আনসারের পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল র‌্যাবেরই এক হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল থেকেই শহরে টহল দিচ্ছে আধা সামরিক বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কোনো গডফাদার বা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর কেউ সুবিধা করতে পারবে না। ইতিমধ্যে এ জাতীয় ব্যক্তিদের তালিকা করে নজরদারিও শুরু করা হয়েছে।
সন্ত্রাসের জনপদে আজ শান্তির আশায় ভোট

শেয়ার করুন