সেই মেসির কাছেই হার নাইজেরিয়ার

0
28
Print Friendly, PDF & Email

রিও ডি জেনিরো, বোলো হরিজন্তের পর পোর্তো অ্যালেগ্রেতেও দুর্বার লিওনেল মেসি। ‘টর্পেডো’ মেসির কাছে দাঁড়াতে পারেনি নাইজেরিয়ার রক্ষণ। যতক্ষণ মাঠে ছিলেন গতি, স্কিল ও ছন্দে বারবার প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ধন্দে ফেলেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বসনিয়া ও ইরান ম্যাচের পর নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন ফুটবলের ক্ষুদে যাদুকর। পোর্তো অ্যালেগ্রের এস্টাডিও বেইরা রিও স্টেডিয়ামে জোড়া গোল করেছেন টানা চারবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। আকাশী সাদাদের বাকি গোলটি ডিফেন্ডার মার্কোস রোজার। তাতেই গ্রুপপর্বে মধুরেণ সমাপয়েৎ দুইবারের বিশ্বজয়ীদের। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-২ গোলে পূর্ণ নয় পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে তারা।  ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই।

আগের দুই ম্যাচ জিতলেও ভক্তদের মন ভরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বসনিয়া ও ইরানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে কেমন যেন নিষ্প্রাণ ফুটবল খেলেছে সার্জিও আগুয়েরো ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা। পায়ে কোনো ছন্দ ছিল না। খেলায় ছিল না বোঝাপড়ার লক্ষণ। নাইজেরিয়া ম্যাচের আগে এটি আর্জেন্টিনা কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার প্রধান দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িযেছিল। পোর্তো অ্যালেগ্রে ম্যাচে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া-ফার্নান্দো গ্যাগোদের যুথবদ্ধতা আলবেসেলেস্তি ভক্তদের সেই ভয় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। তবে দুই দুইবার এগিয়ে যাওয়ার পরও গোল হজমে ডিফেন্স নিয়ে চিন্তায় থাকবে ১৯৮৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়রা।

পোর্তো অ্যালেগ্রের ঠাণ্ডা বাতাবয়নে প্রথমেই উত্তাপ ছড়ায় লিওনেল মেসি। ম্যাচের আয়ু তিন মিনিট না হতেই এস্টাডিও রিও বেইরা স্টেডিয়ামকে উচ্ছ্বাসে ভাসায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। মাঝ মাঠে ফার্নান্দো গ্যাগোর নিকট থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের জালে বুলেট গতির শট নেন ডি মারিয়া। কিন্তু সেই শট নাইজেরিয়ার গোলবারে লেগে ছুঁটে যায় আগুয়ান মেসির কাছে। না, কোনো ভুল করেননি এমএলটেন। হালকা ভলিতে ভিনসেন্ট এনিয়েমাকে ফাঁকি দিয়ে নাইজেরিয়ার জালে জড়িয়ে দেন তা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

কিন্তু আর্জেন্টাইনরা যতো দ্রুত গোল পায়, ঠিক ততোটা দ্রুতই গোল হজম করে। লিড নেয়ার মাত্র ৪৯ সেকেণ্ডের মাথাতেই গোল খায় মেসিরা। আহমেদ মুসা নাইজেরিয়াকে সমতায় ফেরান। এর চার মিনিট বাদে ফের এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু ডি মারিয়া হাফ লবের শট পাঞ্চ করে জালে বাইরে ছিটকে দেয় নাইজেরিয়া গোলরক্ষক। খেলার ৪৩ মিনিটে মেসির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। সেই সময় বার্সা প্রাণ ভোমরার দারুণ এক ফ্রি-কিক বজ্রকঠিন হস্তে ঠেকিয়ে দেয় সুপার ঈগল গোলকিপার।

তবে এমএলটেনকে খুব বেশক্ষণ দ্বিতীয় গোল থেকে বিরত রাখতে পারেননি তিনি। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগের ক্ষণে আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বার এগিয়ে নেন সেই মেসি। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের ২৫ মিটার দূর থেকে অনিন্দ্য সুন্দর এক ফ্রি-কিকে গোল তুলে নেন আর্জেন্টিনার নাম্বার টেন। টুর্নামেন্টে এটি তার চতুর্থ গোল। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে গোল করার অনন্য নজির দেখালেন লিও মেসি। সেই সাথে উঠে এলেন সর্বোচ্চ গোল স্কোরারের শীর্ষ তালিকায়। ক্লাব সতীর্থ নেইমারের কাছে।

কিন্তু প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে সবাই যখন আর্জেন্টিনার আয়েশি একটি জয়ের ছবি আঁকছিল। তখনই ঘটনার বাঁক নেয়া। নতুন টুইস্ট। বিরতি থেকে ফেরার দুই মিনিটের মাথায় ফের সমতায় ফেরে নাইজেরিয়ানরা। স্কোরলাইন হয়ে দাঁড়ায় ২-২। ঘাতক চেনা মুখই। নাম তার আহমেদ মুসা। এই অবস্থায় একটু চিন্তায় পড়ে দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির ভক্তরা। তাহলে কী গ্রুপ পর্বে ১০০ শতাংশ জয় পাওয়া হবে না তাদের? এগিয়ে আসে ডিফেন্ডার মার্কোস রোজা। খেলার ৫০ মিনিটে দলের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন পর্তুগিজ লিখে খেলা এই ফুটবলার। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারে।

শেয়ার করুন