ঢাকায় আসছেন কেরি কেনেডি

0
77
Print Friendly, PDF & Email

ইউনুস সেন্টারের আমন্ত্রণে ঢাকায় আসছেন রবার্ট এফ কেনেডি সেন্টার ফর জাস্টিস এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এর প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি। আগামী ২৮ জুন তিনি ঢাকায় ইউনুস সেন্টার আয়োজিত হোটেল রেডিসনে “সামাজিক ব্যবসা দিবস আয়োজিত” এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

কেনেডি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনে কেরি কেনেডির চাচা এডওয়ার্ড মরি টিড কেনেডি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের হামলা থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি শিবিরে ভ্রমণ করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সফরকারীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের পুর্নগঠনেও রয়েছে পরিবারটির অসামান্য অবদান।

কেনেডি পরিবার ঐতিহ্যগতভাবেই গণতন্ত্র ও ন্যায় বিচারের সাথে কাজ করে আসছে। কেরি কেনেডি একজন আইনজীবি হিসেবে ১৯৮১ সালে হিউম্যান রাইসটচ ওয়াচে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাসহ মানুষের মৌলিক আইন-কানুন ও মানবাধিকার রক্ষায় ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন রবার্ট এফ কেনেডি সেন্টার (আরএফকে)। বিশ্বব্যাপী ৫০ টিরও বেশি মানবাধিকার সংগঠনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি আরএফকে কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, মেধা বিকাশসহ ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করার কাজে। এজন্য সংগঠনটির রয়েছে ১৭ জন প্রশিক্ষিত ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত গ্রেড ৬-১২ এর জন্য উচ্চ পর্যায়ের বই ও সিলেবাস। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সচেতন হচ্ছে বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমসহ অন্যান্য মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। তাদের এ প্রোগামের নাম “স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার”।

বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস জার্মান ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন মাইক্রোফাইন্যান্স ও সোস্যাল বিজনেস প্রোগ্রামে। যা আরএফকের “স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার” প্রোগ্রামের অন্তর্ভূক্ত। এজন্য কেরি কেনেডির সঙ্গে ড. ইউনুসের ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। কারণ ড. ইউনুস দরিদ্র বিমোচনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করে যচ্ছেন বলে বিশ্বাস কেনেডির।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ড. ইউনুসকে আরএফকে সেন্টারের পক্ষ থেকে ‘রিপল অফ হোপ’ এ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে সম্মানিত করা হয়। এ সময় ইউনুসকে দারিদ্র বিমোচন, শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক অসামান্য পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। সে থেকেই ইউনুসের সাথে কেরি কেনেডির ঘনিষ্ঠতা আরো তীব্র হয়। তাকে সকল ধরণের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

কেরি কেনেডি একজন সংগঠকের পাশাপাশি তিন কন্যার একজন আদর্শ মা-ও বটে। বাংলাদেশে তার মত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করতে পেরে ইউনুস সেন্টারসহ বাংলার জনগণ আনন্দিত বলে মনে করছেন সেমিনারের আয়োজকরা। তারা আশা করছেন কেরি কেনেডি পূর্বের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে থাকবেন।

শেয়ার করুন