নিজামীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় ফের ঝুলে গেল

0
78
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযুক্ত জামায়াতের আমির বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়নি। রায় ঘোষণা আবার পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মতিউর রহমান নিজামী ‘অসুস্থ’ হওয়ায় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব নয় বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়। আসামি অনুপস্থিতির কারণে ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চতুর্থ দফায় রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। অর্থাৎ যে কোনদিন এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম তার আদেশে বলেন, জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজামী অসুস্থ। প্রসিকিউশন পক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই চিঠিটা দেখেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণও করেছেন। এমতাবস্থায় আসামি নিজামীর অনুপস্থিতিতে রায় প্রদান করা আমরা যুক্তিসঙ্গত মনে করছি না। এ জন্য আমরা আজ (মঙ্গলবার) রায় প্রদান করছি না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে আসামি নিজামীর স্বাস্থ্যগত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চাইব। মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তীতে আবার রায়ের দিন ঘোষণা করব। আবারও মামলাটি যে কোন দিন রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে সিএভিতে রাখা হলো।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালের বাইরে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। সাংবাদিক আইনজীবী ছাড়াও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হন। পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু যখন শোনা গেলে রায় দেয়া হচ্ছে না, তখন অনেকের মাঝেই হঠাৎ করে স্থবিরতা নেমে আসে। অপেক্ষমাণ অনেকেই বলতে থাকেন নিজামীর মামলার রায় আবারও ঝুলে গেল।
আদেশের পর প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, আসামি নিজামী অসুস্থ বলে কারা কর্তৃপক্ষ এক চিঠির মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছে। বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল অবহিত হয়ে আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা যুক্তিসঙ্গত হবে না উল্লেখ করে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমান নিজামী কারাগারে অসুস্থ এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের প্রতিবেদনসহ কারা কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেছে। নিজামীর শারীরিক অবস্থায় তাকে ‘নট টু মুভ’ উল্লেখ করে চিকিৎসক তার প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ আইনজীবী বলেন, আসামি পলাতক না থাকায় ট্রাইব্যুনাল আইনের ৪৩(এ) ধারা অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করতে হবে।
প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত ছিলাম বহু প্রতিক্ষিত এ রায় ঘোষণা হবে বলে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আসামির স্বাস্থ্যগত সমস্যা উল্লেখ করেছে। আসামি অসুস্থ হতেই পারেন, বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। এ ছাড়া কোন উপায় নেই। এখানে আমাদের হাত নেই। এ ছাড়া যে কেউ অসুস্থ হতে পারেন।
প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, মঙ্গলবার নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। সে অনুযায়ী কার্যতালিকাতেও বিষয়টি ছিল। কারাগার কর্তৃপক্ষের একটি চিঠি থেকে জানা যায় নিজামী উচ্চা রক্তচাপে ভুগছেন। তাকে হাজির করা সম্ভব নয়। দেশের প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনালের এ্যাক্ট অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে রায় প্রদান করা সমীচীন নয় বিধায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ অন্য দুই সদস্য অভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেন এবং জেল কর্তৃপক্ষের কাছে নিজামীর মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি ) রাখেন।
নিজামী অসুস্থ বলে জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চিঠি দেয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। অসুস্থ থাকায় নিজামীকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যাচ্ছে না বলে চিঠিতে বলা হয়। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরউদ্দিন মাহমুদের কাছে কারা কর্তৃপক্ষের ওই চিঠি হস্তান্তর করা হয়। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনালের বাইরে ও ভিতরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ সাংবাদিকদের মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি ম্যাসেজ এসেছে। তখনই আন্দাজ করা যায় হয়ত বা মঙ্গলবার নিজামীর মামলার রায় হচ্ছে না। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়।
কারা কর্তৃপক্ষ চিঠিটি ডেপুটি জেলার লাভলু ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরউদ্দিন মাহমুদের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দী (১০ ট্রাক অস্ত্র চালাল মামলায়) ১২০৭/এ মতিউর রহমান নিজামী পিতা মৃত লুৎফর রহমান খান ২৩ জুন দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে পরীক্ষা করা হয়। তিনি অস্বাভাবিক উচ্চরক্ত চাপে ভুগছেন। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়েছে। সকালেও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা সম্ভব নয়। চিকিৎসক তাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বসেন। এর পর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, মামলার অন্যতম প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল হককে চিঠিটি পড়তে দেন এবং আইনগত বিষয়ে তাদের মতামত শুনতে চান। প্রায় ২০ মিনিট উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে শুনানি হয়। শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউশন পক্ষের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল হক।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, যেহেতু আসামির অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণার নিয়ম নেই তাই নিজামীকে উপস্থিত না করা পর্যন্ত রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা উচিত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দেন। আদালত তখন বলেন, আসামির অসুস্থতার মধ্যে রায় ঘোষণা আমরা যুত্তিযুক্ত মনে করি না। তাই মেডিক্যাল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রায় ঘোষণা স্থগিত থাকবে। পরে সাংবাদিকদের কাছে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম আদালতের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে আদালত নিজামীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। ওই রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই রায়ের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিজামীকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তাকে পুনরায় কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিজামীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এ সব অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে পেরেছে। সে জন্য নিজামীর সর্বোচ্চ শান্তির প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন পক্ষ। তবে আসামিপক্ষের দাবি, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এ সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়নি। এ জন্য নিজামীকে খালাস দেয়া উচিত।
উল্লেখ্য, রায় ঘোষণা উপলক্ষে সোমবার মতিউর রহমান নিজামীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। রায় ঘোষণা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা বিষয়ে সোমবার আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ১০ম রায়।
মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ২৮ মে বিচার শুরু হয়। ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে একটি মামলায় গ্রেফতার করার পর একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এর পর গত বছর ১১ ডিসেম্বর জামায়াতের আমিরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উপস্থাপন করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। ২৮ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হয়। ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩ নবেম্বর থেকে প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু। একই বছরের ৬ নবেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষের যুকিতর্ক শেষ। ৭ নবেম্বর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু। ১৩ নবেম্বর আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন না মঞ্জুর করা হয়। একই দিন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ নবেম্বর মাওলানা নিজামীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতে না আসায় মামলার রায় যে কোন দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমাণ (সিএভি) ২০ রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ১৪ নবেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ফের যুক্তি উপস্থাপনের সময় দেন। ১৯ নবেম্বর নিজামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন করেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। ২০ নবেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এর পর ট্রাইব্যুনাল ২০ নবেম্বর আদেশে ১৩ নবেম্বরের সিএভি আদেশই বহাল রাখেন।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসা বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে গেলে এই ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে স্থবিরাত তৈরি হয়। বিচার কাজ পুরোপুির বন্ধ হয়ে যায়। মতিউর রহমান নিজামীসহ ৫টি মামলার যে অবস্থায় ছিল সেটি অবস্থাতেই থাকে। অবশেষে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি দায়িক্ত গ্রহণ করে পুনরায় নিজামীর মামলায় যুক্তিতর্ক শোনার জন্য নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় দফায় প্রসিকিউশন পক্ষ ১০, ১১ ও ১২ মার্চ যুক্ততর্ক উপস্থাপন করেন। আর আসামিপক্ষ ১২, ১৯, ২০ ও ২৩ মার্চ চারদিন যুক্ততর্ক উপস্থাপন করেন। আসামিপক্ষ যুক্ততর্ক উপস্থাপন শেষে ২৩ মার্চ শেষে প্রসিকিউশন পক্ষ পাল্টা যুক্তিতর্ক শুরু করেন। ২৪ মার্চ যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ৪ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়। সাক্ষীদের জেরা করে প্রসিকিউশন। নিজামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদসহ মোট ২৬ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়াও চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলার রায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের রায় হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী জামায়াত আমির নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয় চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আদালত। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।
নিজামীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে একাত্তরের ডিসেম্বরে পাবনার বেড়া থানার বৃশালিকা গ্রাম ঘেরাও করে ৭০ জনকে গুলি করে হত্যা ও ৭২টি বাড়িতে আগুন দেয়া, ডেমরা ও বাউশগাড়ী গ্রামে ৪৫০ জনকে গুলি করে হত্যা, সাঁথিয়া উপজেলার করমজা গ্রামে মন্দিরের সামনে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনাও রয়েছে।

শেয়ার করুন