রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার কোটি টাকা

0
105
Print Friendly, PDF & Email

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ ১৭ হাজার।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে গতকাল আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী আরো জানান, টেলিটকের থ্রিজি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৯ লাখ ৫০ হাজার।
আবদুল ওয়াদুদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৫৬টি জেলা সদরসহ আরো ১৫টি উপজেলা সদরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবাদানের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকটিভিটি (এডিএসএল) সংযোগ রয়েছে।
বিদেশী মোবাইল কোম্পানির বিনিয়োগ ৬৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা : দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশী কোম্পানির বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৬৫ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (২০০১-২০১৪ মার্চ পর্যন্ত)। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে গ্রামীণফোন বাংলাদেশ লিমিটেড ২৪ হাজার ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন লিমিটেড (বাংলালিংক) ১৬ হাজার ১৯৬ কোটি চার লাখ টাকা, অজিয়েটা বাংলাদেশ লিমিটেড (রবি) ১২ হাজার ৮০২ কোটি ৭০ লাখ, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড ১১ হাজার ৪২ কোটি এবং প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এক হাজার ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
বিটিসিএলের এক বছরে লোকসান ৬০২ কোটি টাকা : মমতাজ বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ২০১২-১৩ অর্থবছরে অপারেটিং লোকসানের পরিমাণ ৬০২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
শরীফ আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, সারা দেশে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আট হাজার ৪৬০টি গ্রামীণ শাখা ডাকঘর, এতে প্রায় ২৩ হাজার ২১ জন অবিভাগীয় (ইডি) কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার কোটি টাকা : আয়েন উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, মার্চ ২০১৪ স্থিতিভিক্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার ৪১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মন্ত্রীর দেয়া তথ্য থেকে দেখা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এ শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ৪৩২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক লিমিটেডে তিন হাজার ৩৪৩ কোটি ৪৮ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে তিন হাজার ৩২৪ কোটি ৪৬ লাখ এবং রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের এক হাজার ৫৮৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পাঁচ হাজার ২২ কোটি ৫০ লাখ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৬১৫ কোটি ২৬ লাখ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে এক হাজার ৫৩২ কোটি ২২ লাখ এবং বেসিক ব্যাংকে দুই হাজার ৫৫৭ কোটি ৩৪ কোটি টাকা শ্রেণীকৃত ঋণ রয়েছে। এ সময় মন্ত্রী খেলাপি ঋণ আদায়ের ল্েয বেশ কিছু উদ্যোগের কথাও জানান।
বৈদেশিক সাহায্যের ল্যমাত্রা ছয় হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার : আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থার কাছ থেকে ছয় হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির (কমিটমেন্ট) ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো: রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে তা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা শেষে ঋণ/অনুদানের আর্থিক চুক্তি স্বারের পরই তা প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) হিসেবে গণ্য হবে।
বর্তমান অর্থবছরে (২০১৩-১৪) গত মে মাস পর্যন্ত বৈদেশিক সাহায্য বাবদ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থার সাথে তিন হাজার ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কমিটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৯৮১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ এবং ৪৭৮ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান।
অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৮২টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৯টিই বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বাকি ৩৩টি প্রকল্প বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদানের ওপর নিভরশীল।
মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ১৭৮ দশমিক ৮৩ ডলার : রুস্তম আলী ফরাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ১৭৮ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার। বছরে এই ঋণের সুদ বাবদ দিতে হয় ৩৫১ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঋণ পরিশোধের হিসাব (২০১৩-১৪ সালের জুলাই-এপ্রিলের হিসাব) অনুযায়ী।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১ হাজার ৩৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার : মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ১৬ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৮ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক লাখ ৬৩ হাজার ৩১৯ কোটি)। বিগত অর্থবছরে একই সময় রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ২২৪ দশমিক ৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ছয় হাজার ৭১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতকরা এই হার ৪৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
১৫ মাসে স্বর্ণ আটক ৫৬৫ কেজি : মো: আব্দুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, গত ১৫ মাসে অর্থাৎ (২০১৩ সালে জুলাই থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত) ৫৬৫ দশমিক ৭৫ কেজি স্বর্ণ আটক করা হয়েছে। আটক এ স্বর্ণের মূল্য ২৫৫ কোটি ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৪ টাকা। স্বর্ণ আটকের বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় ৫৩টি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে এবং ৫৪ জন আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন