১০ বছর মেয়াদি হেলথ কার্ড হবে: জয়

0
34
Print Friendly, PDF & Email

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে দেশে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার’ করা হবে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি হেলথ কার্ড চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার গঠন করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম আয়োজিত এক সম্মেলনে সমাপনী ভাষণে জয় এ তথ্য জানান। এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নেয়।
এই সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার। এই সম্মেলন আয়োজনে সহায়তা করে জিআইজেড, ইউবিএস অপটিমামস ফাউন্ডেশন এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমি আইটিতে বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য বিষয়ে নয়। তার পরও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতেই সবচেয়ে বেশি যোগোযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।’
১০ বছর মেয়াদি ‘হেলথ কার্ড’ হবে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডারে মানুষের প্রাথমিক তথ্যগুলো থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সহায়তায় স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার করা হবে। এর নিরাপত্তায়  তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা পরিকল্পনা করছে।’

প্রসূতি মায়েদের সেবায় খুদে বার্তা প্রচলন করা হবে জানিয়ে জয় বলেন, ‘আমাদের দেশে মায়েরা গর্ভকালীন নানা জটিলতায় ভোগেন। আর বেশির ভাগ অভিজ্ঞ ডাক্তার অবস্থান করেন ঢাকায়। ওই প্রসূতি মায়েদের চিকিত্সার জন্য এসএমএস সার্ভিস চালু করা হবে। প্রথমে তারা নিবন্ধন করবে। সেখানে তারা প্রাথমিক তথ্য দেবে। এরপর কখন তার চেক-আপ করতে হবে, সম্ভাব্য প্রসবকালীন এসএমএসের মাধ্যমেই নিবন্ধনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটাইজড করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

বর্তমান সরকারের ডিজিটাইজড প্রক্রিয়ার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হচ্ছে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আমরা যেভাবে ডিজিটালের দিকে যাচ্ছি, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে। তারা আমাদের কাছে ট্রেনিং নেওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ এ সময় স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি।

২০২১ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাইজড করা হবে দাবি করে জয় বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশির ভাগ সরকারি অফিস ঢাকায়। এ জন্য আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেছি। সেখানে ২৫ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট রয়েছে। এখন বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে সবাই সরকারের সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে সব সরকারি অফিস ডিজিটাইজড করা। তখন সব ধরনের সরকারি সেবা প্রদান করা হবে অনলাইনে।’

সম্মেলনে জয় জানান, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হচ্ছে সরকারি সহায়তায়। প্রতিটি গ্রামে একটি করে সাইবার ক্যাফে নির্মাণ করা হবে। এটা তাঁর স্বপ্ন। সেখান থেকে মানুষ যেন অনলাইনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা পেতে পারে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা তাঁদের নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন