কুষ্টিয়ায় গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া গণমানুষের প্রিয় দল আওয়ামী লীগের ৬৫তম জন্মদিন পালন বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলো বলেই এদেশের মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজের ভাষায় কথা বলছে: আজগর আলী

0
198
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সব সময়ই একটি আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তার ধারক ও বাহক৷ আওয়ামী লীগের জন্ম থেকেই আধুনিকতার সিঁড়ি বেয়ে আজকের সফল পথচলা৷ আর সেই আধুনিকতার চিন্তা চেতনার ধারক ও বাহক হিসেবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷ যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, আমরা ফিরে পেতাম না আমাদের ভাষা ও জাতি স্বত্বা৷ তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলো বলেই এদেশের মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজের ভাষায় কথা বলছে৷ নিজেরাই নিজেদের দেশ পরিচালনা করছে৷
গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া গণমানুষের প্রিয় দল আওয়ামী লীগের ৬৫তম জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক আজগর আলী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন৷ গতকাল সকাল ১১ টায় বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের ৪র্থ তলায় জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজ্বী রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া-৩ কুমারখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদ প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক বাবু স্বপন কুমার ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বাবু মানিক কুমার ঘোষ, সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আক্তারুজ্জামান মাসুম, সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান চেয়ারম্যান, সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আলহাজ্ব তরিকুল ইসলাম মানিক, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, দৌলতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. রিমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, সাধারন সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী মতর্ুজা খসরু, সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক হাবিুর রহমান হাবি, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, কুষ্টিয়া জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান মজনু, সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী৷ এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এ্যাড. মুক্তি, জেলা রিঙ্া-ভ্যান শ্রমিকলীগের সভাপতি আক্কাস আলী, সাধারন সম্পাদক এস এম সেলিম রেজা প্রমুখ৷ আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মামুন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুবিন আক্তার, সাবেক ছাত্রলীগে নেতা মীর সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা হান্নান বিশ্বাস প্রমুখ৷ এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. হাসানুর রহমান হাসুর পরিচালনায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন৷
আওয়ামীলীগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আজগর আলী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলধারা৷ আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি৷ বাংলাদেশের কাদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা৷
তিনি আরো বলেন, অতীতের মতো বাংলাদেশের ভবিষ্যত আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত৷ বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয়া প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী বৃহত্‍ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ৷
তিনি বলেন, ৫২\’র ভাষা আন্দোলন, ৬২\’র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬\’র ছয় দফা, ৬৯\’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০\’র যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন সবখানেই আওয়ামী লীগের ছিল সরব উপস্থিতি৷ এই ভূখণ্ডের কোটি কোটি মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের যে কালজয়ী অর্জন ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে তা হলো আমাদের স্বাধীনতা৷ এ স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু এক অবিভাজ্য সত্তা৷
তিনি আরো বলেন, দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু ১৯৪৯ সালে৷ এই বছরের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহাসিক রোজগার্ডেনে তত্‍কালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসাবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে৷
প্রথম কাউন্সিলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল৷ তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দী৷ বন্দী অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়৷
১৯৫৩ সালে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহে৷ এতে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন৷
১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসামপ্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয়৷ \’মুসলিম\’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ৷ নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন৷ পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বহাল থাকেন৷
\’৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে যায়৷ ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)৷ আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান অপরিবর্তিত থাকেন৷ ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়৷
১৯৬৪ সালে দলটির কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা হয়৷ এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান অপরিবর্তিত থাকেন৷
১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান৷ তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ৷ এর পরে ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন৷ এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান৷
\’৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় পঁচাত্তরে কারাগারে ঘাতকদের হাতে নিহত জাতীয় নেতাদের অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামানকে৷ সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন মো. জিল্লুর রহমান৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আসে আওয়ামী লীগের ওপর মরণাঘাত৷
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারও স্থগিত করা হয়৷ ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয়৷ এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় মহিউদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে৷
১৯৭৭ সালে এই কমিটি ভেঙ্গে করা হয় আহ্বায়ক কমিটি৷ এতে দলের আহ্বায়ক করা হয় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে৷ ১৯৭৮ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি করা হয় আবদুল মালেক উকিলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুর রাজ্জাক৷ এরপরেই শুরু হয় আওয়ামী লীগের উত্থান পর্ব, পুনরায় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসাবে গড়ে তোলার মূল প্রক্রিয়া৷ সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়৷
দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন আবদুর রাজ্জাক৷ আবারও আঘাত আসে দলটির ওপর৷ ১৯৮৩ সালে আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে বাকশাল গঠন করে৷ এ সময় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়৷ ১৯৮৭ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন৷
১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনা এবং মো. জিল্লুর রহমান দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন৷ ২০০০ সালের বিশেষ কাউন্সিলে একই কমিটি বহাল থাকে৷ ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা এবং আব্দুল জলিল দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন৷
২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট গঠিত হয়৷ ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে৷ নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ দেশের একক বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়৷ তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হওয়ার পর সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়৷
শেখ হাসিনা সভাপতি পদে বহাল থাকেন এবং নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম৷ আর এই কাউন্সিলের মাধ্যমে তারুণ্যনির্ভর কেন্দ্রীয় কমিটি গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা৷ বর্তমানে এই কমিটি বহাল রয়েছে৷

শেয়ার করুন