সাংসদের সমালোচনা করায় দিগম্বর!

0
33
Print Friendly, PDF & Email

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকিরের সমালোচনা করার ‘অপরাধে’ একজন কলেজশিক্ষককে দিগম্বর করে ঘোরানো হয়েছে৷ গতকাল রোববার ওই সাংসদের সমর্থকেরা এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে৷
ওই শিক্ষকের নাম মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ৷ তিনি ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক৷
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফরিদ উদ্দিন গতকাল বেলা তিনটার দিকে মোটরসাইকেলে করে কলেজ থেকে গৌরীপুর পৌর শহরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর-কলতাপাড়া সংযোগ সড়কের মোড়ে এলে ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে সাংসদের ২৫ থেকে ৩০ জন সমর্থক তাঁর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে ফরিদ উদ্দিনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে টেনেহিঁচড়ে তাঁর গায়ের শার্ট-প্যান্ট খুলে দিগম্বর করেন৷ দিগম্বর অবস্থায় মহাসড়কে শত শত মানুষের সামনে ঘোরান৷ এ সময় সাংসদ-সমর্থকেরা বলতে থাকেন, ‘গৌরীপুর থাকতে হলে এমপির নামে কোনো সমালোচনা করা যাবে না। এমপির নামে কোনো সমালোচনা করলে ইহজগতে থাকতে পারবে না।’ পরে ফরিদ উদ্দিনকে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে মজিবুর রহমান ফকিরের ব্যক্তিগত কার্যালয় ‘সেবালয়’-এ নিয়ে যান ওই কর্মীরা। সেখানে তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়৷
ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একসময় গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর পদ থেকে অব্যাহতি নিই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে সাংসদ ও তাঁর সমর্থকেরা নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন। আমি জনসমক্ষে এর সমালোচনা করায় মজিবুর রহমান ফকির ক্ষুব্ধ ছিলেন৷ সাংসদের ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি জানতাম, কিন্তু তাঁর লোকজন আমাকে এভাবে অপমান করবে, এটা ভাবতেই পারিনি।’
হেনস্তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এর আগেও সাংসদের কার্যালয় ‘েসবালয়’-এ নিজ দলের ‘বিরোধী’ কর্মী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মাথা ন্যাড়া করাসহ নানাভাবে অপদস্থ করা হয়েছে৷ কেউ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন সাংসদের সমর্থকেরা।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ উদ্দিন নানা সময়ে আমাদের সাংসদকে উলঙ্গ করে রাস্তায় ঘোরানোর কথা বলেছেন। তাই দলের উঠতি কয়েকজন কর্মী তাঁর জামাকাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাঁকে রক্ষা করি৷ এ ঘটনায় সাংসদের কোনো ইন্ধন নেই৷’
এ ব্যাপারে জানতে সাংসদ মজিবুর রহমান ফকিরের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, ফরিদ উদ্দিন একটি অভিযোগ দিয়েছেন৷ মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন৷

শেয়ার করুন