এনসিটি চালুর সিদ্ধান্ত শিগগির: নৌ-মন্ত্রী

0
79
Print Friendly, PDF & Email

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এম শাহজাহান খান।

তিনি বলেন, নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও বুঝে উঠতে সময় লাগছে। তাই সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে যতো দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা হবে।

এনসিটি পরিচালনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ যন্ত্র কেনার সিন্ধান্ত নিলেও অর্থমন্ত্রণালয় যন্ত্রপাতি না কেনার পরামর্শের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের রেস্টহাউসে বাংলানিউজসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এম শাহজাহান খান এসব কথা বলেন। এসময় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, সদস্য (হারবার এন্ড মেরিন) কমোডর এম শাহজাহান, কর্তৃপক্ষের মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং) ক্যাপ্টেন জুলফিকার আজিজ, ডেপুটি সেক্রেটারি এএনএম ওয়াহিদ শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া চট্টগ্রাম বন্দরের স্লিপওয়ে সচল করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, অচল স্লিপওয়েকে সচল করেছি। কাজ করার উপযোগিতাও পরীক্ষা করা হয়েছে।

এনসিটি চালুর বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যে কোন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে আলোচনার কোন বিকল্প নেই। তাই আলোচনা করে যেটা ভালো হবে সে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল নির্মাণের দাবি কেউ কেউ করলেও তা সঠিক নয় দাবি করে মন্ত্রী জানান, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারই এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

মন্ত্রী চলমান রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় না যাওয়ার কারণ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছি না। কারণ তাদের সঙ্গে রাজাকার রয়েছে। রাজাকারদের যতোদিন ছাড়বে না ততোদিন তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা নেই।

রাজাকারদের তালাক দিয়ে বর্তমান সরকারকে বৈধ সরকার হিসেবে মেনে নিলে আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত: ১৪ মে এনসিটি পরিচালনার জন্য ৩৬০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার দরপত্র আহবান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) জন্য প্রথমধাপে এই যন্ত্রপাতি হচ্ছিল। পর্যায়ক্রমে এটি পরিচালনার জন্য ১২শ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার কথা।

এরপর দরপত্র না কেনার জন্য চিঠি দেয় অর্থমন্ত্রণালয়। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকায় নির্মিত অত্যাধুনিক এনসিটি ২০০৭ সালে নির্মান সমাপ্ত হয়। বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার জন্য একাধিকবার আর্ন্তজাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। আর্ন্তজাতিকভাবে ডাকা দরপত্রে চারজনকে যোগ্য নির্বাচিত করার পর নৌ মন্ত্রনালয় হঠাৎ করে সেই দরপত্র বাতিল করে।

সে সময় বন্দর রক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এ পর্যন্ত চারবার দরপত্রের সংশোধন করা হয়। ১৫টি শর্ত সংশোধন ও অনৈতিকভাবে বাতিল করা হয়।

এরপরও প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে একটি প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে মামলার পর দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। এই অবস্থার মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশি অপারেটদের বদলে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ি প্রথম ধাপে ৩৬০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির কেনার দরপত্র আহবান করা হয়।

শেয়ার করুন