বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জেদ্দা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

0
80
Print Friendly, PDF & Email

আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রায় তিন যুগ ধরে চলে আসা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (বাংলা শাখা)। সৌদি শিা মন্ত্রণালয়ের নতুন স্কুল কোড মেনে ভবন নির্মাণ বা স্থানান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। নতুনবার্তা।
স্কুল কর্তৃপ ১৯৭৯ সাল থেকে একটি বাড়ি ভাড়া করে স্কুলের শিাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শুধু জেদ্দা নয়, মক্কা, মদিনা ও ইয়ানবুর বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীরা এখানে এসে বোর্ড পরীায় অংশগ্রহণ করত। বর্তমানে স্কুলটিতে দুই হাজার ৫০০ শিার্থী ও একশরও বেশি শিক-কর্মচারী রয়েছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সুনামের সাথে চলে আসা স্কুলটি টাকার জন্য বন্ধ হয়ে যাবে এটা মানতে পারছেন না স্কুলের শিক, শিার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা। ২৫০০ শিার্থীর শিাজীবন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তপে কামনা করেছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীরা।
সৌদি শিা মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনে, শুধু স্কুল কোড অনুযায়ী নির্মিত ভবনেই স্কুল চলতে পারবে। কিন্তু এই মুহূর্তে ওই স্কুলের পে স্কুল কোড অনুযায়ী নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কেবল অভিভাবকদের অর্থে। ‘নো-লস, নো-প্রফিট’ নীতিতে পরিচালিত স্কুলটির বড় কোনো ফান্ড নেই। বর্তমানে স্কুলের জন্য জমি কিনে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রয়োজন ৪০-৪২ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (প্রায় ৮৭ কোটি টাকা)। আর এই টাকা এত অল্প সময়ে সংগ্রহ করা প্রবাসীদের পে সম্ভব নয়। তবে নিজেদের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তাদের পক্ষে ১০ মিলিয়ন রিয়াল (আট কোটি টাকা) সংগ্রহ করা সম্ভব। বাকি অর্থের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা দরকার।
গত কয়েক বছরের বোর্ড পরীার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি, এইচএসসি পরীায় পাসের হার প্রায় শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পাওয়া শিার্থীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ। প্রতি বছর তিন-চার জন শিার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়ে আসছে। স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার নোটিশ পেয়ে উদ্বিগ্ন এবং হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক, পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকেরা। সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, শিামন্ত্রী এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর হস্তপে কামনা করে বুধবার স্কুলের পরিচালনা পরিষদ এবং অভিভাবকেরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
‘স্কুল বাঁচাও, প্রবাসী প্রজন্ম বাঁচাও’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে স্কুল পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা: আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্য রফিকুল ইসলাম ফারুক, অভিভাবক আবুল বাশার বুলবুল, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন, দেলোয়ার সরকার, এ টি কে লোদী প্রমুখ বিদ্যালয়টির বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।
জাতীয় শিা বাজেট থেকে অথবা প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে অন্তত ৩০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, এটি একটি জাতীয় ইস্যু। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে, স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে, তা হবে জাতির জন্য কলঙ্কের। স্কুল বন্ধ হলে, চাকরি ছেড়ে কয়েক হাজার পরিবারকে চলে যেতে হবে দেশে। তাই স্কুল রায় বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তারা।

শেয়ার করুন