প্রতীতি বিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ সিমানা প্রাচীর করে নামফলক টাঙিয়েছে কুষ্টিয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দখিনা সিটির কাজ চলছে

0
118
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি \\ কুষ্টিয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দখিনা সিটির কাজ করে চলেছে৷ কুষ্টিয়া পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহার করে দক্ষিণা সিটিতে বীরদর্পে প্রতীতি বিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ সেখানে বালি ফেলে তারের সিমানা প্রাচীর করে দ্যিালয়ের সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে৷ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দক্ষিণা সিটিতে প্রভাবশালী ওই মহলটি পাকা স্থাপনার কাজ করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম ও এলাকাবাসী৷
জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার অনর্্তগত বটতৈল চেচুয়া জগতি মৌজায় প্রায় ৩ শত ৭২ বিঘা জমির উপর দখিনা সিটির আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে৷ ওই কাজের বিপরীতে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি বাদী হয়ে হাইকোর্টে এক রীট আবেদন করেন৷ ওই রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৮ এপিল হাইকোর্ট কুষ্টিয়া জেলার অনর্্তগত বটতৈল চেচুয়া জগতি মৌজায় দখিনা সিটির আবাসন প্রকল্প উন্নয়ন কাজকর্মের উপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷
হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিজ্ঞ বিচারপতি এ.বি.এম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আদেশ দেন৷ রীট পিটিশন নং- ৩৫৫৬/২০১৪৷ রীট মোকাদ্দমায় কুষ্টিয়া জেলার অনর্্তগত বটতৈল চেচুয়া জগতি মৌজায় দখিনা সিটি নামে আবাসন প্রকল্প বন্ধ ঘোষণা করেন৷ সেই সাথে উক্ত প্রকল্প এলাকায় দখিনা সিটি নামে অথবা অন্য কোন নামে সকল প্রকার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে ৯ জন মালিককে সেখানকার ৩ শত ৭২ বিঘা জমির উপর আবাসন প্রকল্পের সকল প্রকার কাজ না করার নির্দেশ প্রদান করেন৷ হাইকোর্টের এ আদেশের পর সেখানকার কাজ কর্ম বন্ধ থাকলেও হঠাত্‍ বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণা সিটিতে বালি, ইট ফেলে ফের কার্যক্রম শুরু করে৷ কুষ্টিয়া পৌরসভার বুলডোজার ভাড়া করে দক্ষিণা সিটিতে স্তুপ করা বালি সমান করে ইট ফেলা আরম্ভ করে৷ কাটাতারে সীমানা প্রাচীর তৈরি করে ওই মহলটি সেখানকার কার্যক্রম করছে বীরদর্পে৷
একটি সুত্র জানিয়েছে, সেখানে ৯ জন মালিকের মধ্যে প্রতীতি বিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষও অনেক জায়গা কিনেছে৷ প্রতিতী বিদ্যালয়ের নামে সেখানে স্থাপনা গড়ে তোলার জন্যই প্রতিতী বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে বুলডোজার ভাড়া করে আবাসন প্রকল্পের কাজ করে যাচ্ছেন৷ বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড গেড়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন৷ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ওই বিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ সেখানে স্থাপনার কাজ অব্যাহত রাখায় সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গকে ভাবিয়ে তুলেছে৷
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার সকল শ্রেণীপেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন, শিল্প আইন লঙ্ঘন এবং ভূমি আইনকে তোয়াক্কা না করে একটি ভূমিদসু্য চক্র অবৈধভাবে আবাসনের জন্য পস্নট বিক্রির অশুভ পাঁয়তারার বিরম্নদ্ধে একাধিকবার শহরে এবং উক্ত কথিত প্রকল্পের সামনে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক সমিতি হাইকোর্টে উক্ত প্রকল্পের সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে রীট পিটিশন করেন৷ হাইকোর্ট কুষ্টিয়াবাসীর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে কুষ্টিয়ায় দখিনা সিটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন৷ দক্ষিণা সিটি আবাসন প্রকল্পের ৯ জন মালিকগণকে সেখানকার ১২৩.৯১ একর অথর্াত্‍ ৩ শত ৭২ বিঘা জমির উপর আবাসন প্রকল্পের সকল প্রকার কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ সেই সাথে দক্ষিণা সিটির চেচুয়া মৌজায় ২০১ নং প্লট থেকে ৩৯৭ নং প্লট পর্যন্ত৷ বটতৈল মৌজায় ১৮৩ থেকে ২০৭,১৫ ২৮, ১৫৩৮, ২০০১, ২০০২, ২০০৫, ২০০৭, ২০০৯, ২০১২,, ২০১৬, থেকে ২০২৪ পর্যন্ত৷ ৭১৬ থেকে ৮২১ জগতি মৌজায় কার্যক্রমের উপর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে পত্র প্রেরণ করা হয়৷ আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতীতি বিদালয় কতর্ৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয়রা ফুসে উঠেছে৷ হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালানোই পরিবেশ সাংবাদিক সমিতিসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ তদন্ত সাপেক্ষে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে৷

শেয়ার করুন