এক সন্তানের প্রচারণায় দ্বিমত প্রধানমন্ত্রীর

0
33
Print Friendly, PDF & Email

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চালানো ‘একটি সন্তান নিতে উৎসাহ’ দেয়ার প্রচারণা বাদ দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের চালানো বর্তমান প্রচারণার স্লোগান-‘দুইটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়।”

বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন আমাদের যে স্লোগানটা রয়েছে আমি তার সাথে দ্বিমত পোষণ করি। বলা আছে যে, ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’। আমি শেষের কথাটা বাদ দিতে চাই।”

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শেষের লাইনটি বাদ দিতে চাই এ কারণেই যে, যেসব দেশ এই ধরনের স্লোগান দিয়ে এগিয়েছে, এখন তারা ‘বৃদ্ধের রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের তরুণ সমাজের দারুণ অভাব। কর্মক্ষম তরুণ সমাজ নেই।

“তারা আবার তাদের স্লোগান পরিবর্তন করে এক একটি পরিবার দুই-তিনটি সন্তান যেন নেয়, সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিছুদিন আগে দুটি দেশ (জাপান ও চীন) ঘুরেছি। সেখানেও প্রায় একই অবস্থা।”

আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম রাষ্ট্র বাংলাদেশ, যেখানে সারা পৃথিবীর সোয়া দুই শতাংশেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।

গত কয়েক দশক ধরেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা বিশ্বে বাংলাদেশের একটি সফল প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের জনসংখ্যা, সবাই মনে করে এটা আমাদের জন্য একটা বারডেন বা বোঝা। কিন্তু আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, আমরা যদি আমাদের জনসংখ্যার জন্য যদি সঠিকভাবে শিক্ষা-দীক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট ‘অ্যাসেট’।

“শুধু তাই নয়, আমরা যখন বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাই, বিনিয়েোগের সুযোগ-সুবিধার মাঝে এখন একটি লাইন যুক্ত হয়েছে, সেটা হলো-কর্মক্ষম তরুণ সমাজ, কর্মী। তার মানে যারা তরুণ এবং কর্মক্ষম তাদের অভাব এখন বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে, সেই ধরনের ভালো কর্মী বাংলাদেশে পাওয়া যায়।”

প্রধানমন্ত্রী এসময় উপস্থিত মন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সেজন্য আপনাদের অনুরোধ করবো শেষের লাইনটা বাদ দিয়ে আপনারা প্রচার চালান।”

এসময় তিনি অর্থনৈতিকভাবে দেশের স্বনির্ভরতার কথাও মনে করিয়ে দেন।

“অর্থনৈতিকভাবে আমরা এখন যথেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল। এখন খাবারের জন্য হাহাকার নেই। এখন দরকার পুষ্টি।”

সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন সুষম খাদ্য গ্রহণে মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রচার চালানোর জন্যও এসময় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালিক।

শেয়ার করুন