সাত খুনে ‘দোষ স্বীকার’ তারেক সাঈদেরও

0
74
Print Friendly, PDF & Email

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় দুই সহকর্মীর পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, ঘটনার সময় যিনি র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক ছিলেন।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে গ্রেপ্তার হয়ে ছয় দফায় এক মাস পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা তারেক।

কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের পরিবারের দুই মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নথিভুক্ত করে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর আদালত থেকে তারেক সাঈদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর পুরো একমাস জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছিল তাকে। এই প্রথম কারাগারে গেলেন তিনি।

তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার পূর্ণ বিবরণ তার জবানবন্দিতে তুলে ধরেছেন বলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এর আগে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন র‌্যাব-১১ এর সাবেক দুই কর্মকর্তা মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএম রানা।

টানা ১৮ দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ৪ জুন আদালতে স্বীকারোক্তি দেন আরিফ। পরদিন জবানবন্দি দেন রানা।

তারেককে গত শনিবার ষষ্ঠ দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার আগে স্বীকারোক্তি দিলেন সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তা।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তারেক সাঈদকে আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়ে র‌্যাব এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম।

তার অভিযোগের পর তারেক সাঈদসহ তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে ফিরিয়ে এনে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

র‌্যাব কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পরিবারের কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় দাবি করে বিবৃতি দেন তারেক সাঈদের শ্বশুর ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম যে এলাকার বাসিন্দা সেই সিদ্ধিরগঞ্জেই র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়। নজরুল ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ধরে নেয়া হয় সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে।

মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনও সিদ্ধিরগঞ্জের কাউন্সিলর। সেখানে শীতলক্ষ্যার তীরে অবৈধ বালুর ব্যবসার পাশাপাশি তার মাদকের ব্যবসা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার নূর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ করেছেন আইনজীবীরা।

শেয়ার করুন