ধেয়ে আসছে জঙ্গিরা, লক্ষ্য বাগদাদ

0
55
Print Friendly, PDF & Email

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের দিকে ধেয়ে আসছে সুন্নি জঙ্গিরা। এ সময় পথে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জাতিসংঘ উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ইরাকের প্রতিটি মানুষের ‘জীবনের জন্য হুমকি’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তায় ২৭৫ জন সেনাসদস্যের একটি দল ইরাকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপি, রয়টার্স, এপি ও বিবিসির।

সুন্নি জঙ্গিরা ইতিমধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নিনেভেহ প্রদেশের শিয়া-অধ্যুষিত শহর তাল আফারের অধিকাংশ এলাকার দখল নিয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে ৫০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।

প্রাদেশিক পরিষদের উপপ্রধান নুরিদ্দিন কাবালান আজ মঙ্গলবার বলেন, জঙ্গিরা তাল আফারসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কেবল বিমানবন্দর এলাকা।

জঙ্গিরা মসুল ও তিকরিত শহরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাগদাদ অভিমুখে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাগদাদ থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে বাকুবা শহরের কয়েকটি অংশ বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী শহর নিজেদের দখলে থাকার দাবি করেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দাইয়ালা প্রদেশের রাজধানী বাকুবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেলে তারা নির্বিঘ্নে মহাসড়ক ধরে বাগদাদে পৌঁছে যেতে পারবে। বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে লড়াই চলছে।

বাগদাদের পশ্চিমে আনবার প্রদেশের ফাল্লুজা শহরের কাছে সুন্নি জঙ্গিরা গুলি করে একটি সরকারি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তারা দাবি করছে, সেখানে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাদেশিক রাজধানী রামাদির কাছে একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনারা পালিয়ে গেছেন।

ইরাকে মার্কিন সেনা পাঠানোর উদ্যোগ
বাগদাদে দূতাবাসের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকার ২৭৫ জন সেনা পাঠাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে এক চিঠিতে লিখেছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ওই মার্কিন সেনারা ইরাকে থাকবেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামা পরিবারের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় সংক্ষিপ্ত ছুটি কাটিয়ে গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনে ফিরে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁকে এখন ইরাকের ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন ওবামা। অবশ্য এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরাকে যুদ্ধের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা আপাতত নেই। কিন্তু সেখানে মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) পাঠানো হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, ইরাকজুড়ে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের তত্পরতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতার হুমকি নিরসনের লক্ষ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা এবং উত্তরাঞ্চলীয় ইরবিল শহরের কূটনৈতিক দপ্তর (কনস্যুলেট) থেকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

ইরাক পরিস্থিতির অবনতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যে বিমানবাহী মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন