ফেসবুকে ‘তারকাঁটা’ কার কাঁটা?

0
50
Print Friendly, PDF & Email

সমালোচনা (সম+ আলোচনা) শব্দটার মধ্যে আলোচনা যুক্ত থাকে। তাই সমালোচিত হলে আলোচিতও হওয়া যায়। ৬ জুন মুক্তি পাওয়া ‘তারকাঁটা’র সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে ছবিটিকে নিয়ে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও ছবিটি আলোচিত হওয়ার পেছনে মৌসুমী, আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিমের একসঙ্গে অভিনয়ই যথেষ্ট ছিল। হয়েছেও তাই। মুক্তির আগে এই তিন তারকার একসঙ্গে কাজের দিকটি খবরের শিরোনামে রেখেছিল ‘তারকাঁটা’কে। কিন্তু মুক্তির পর তিনজনকেই আলোচনার দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন ছবিটির পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। ‘তারকাঁটা’র আগে তার পরিচালিত একটি মাত্র ছবি (প্রজাপতি) মুক্তি পেয়েছে। আর ‘ছায়া-ছবি’ এখনও মুক্তি পায়নি। মুক্তির হিসাবে দুই নম্বর ছবিতেই আলোচনার ঝড় তুললেন। দুঃখিত বলা ভালো, নিন্দুকেরা তাকে আলোচিত করে তুলেছেন।

দুঃখজনক হলো, তারা কেউ সাধারণ মানুষ নন। আপামর দর্শকরা কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে স্বস্তিই প্রকাশ করেছেন। স্টার সিনেপ্লেক্স, বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড এবং ঢাকার বাইরের কিছু প্রেক্ষাগৃহে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো সব বয়সী দর্শকই ছবিটি উপভোগ করছেন। তারাই কিন্তু ছবির বাজারের চালিকাশক্তি। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশের সবচেয়ে সুপারস্টার নায়কের টানা তিনটি ছবি কোনোরকম খরচ ওঠাতে পেরেছে। সেখানে দর্শকের মন ভরিয়ে যদি কোনো ছবি ভালো ব্যবসা করে তাহলে অন্য পরিচালকদের ঘুম হারাম কেন হচ্ছে তা বুঝতে পারছেন না অনেকে।

ফেসবুকে ‘তারকাঁটা’র সমালোচকদের বেশিরভাগই চলচ্চিত্র নির্মাতা। তালিকাটা ছোট নয়। তাদের মধ্যে একজন নির্মাতা বলিউডের যশরাজ ফিল্মসের একটি ছবি হুবহু নকল করে ছবি তৈরি করে দিব্যি ছিলেন। এরপর কলকাতার ব্যবসাসফল ছবিও নকল করেছেন নিজের তৃতীয় ছবিতে। তার মতো অন্য সমালোচকরা কিন্তু ছবিটির অভিনয়শিল্পীদের কাজ, নির্মাণ ভাবনা ও কারিগরি দিক নিয়ে কোনো কিছুই স্পষ্ট করেননি। এ কারণে একজন কবি ফেসবুকে বলেছেন, ‘তারকাঁটা’ ছবিটার সমস্যা কী? অধিকাংশ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ এর বিরুদ্ধে বলছেন। কারণটা অজানা। এটা কী অশ্লীল? না নাটক? নাকি নকল? কেউ খোলাসা করে বলছেন না। আজব ব্যাপার।’

সবার সমালোচনা দেখে ছোটপর্দার একজন অভিনয়শিল্পী ‘তারকাঁটা’র নাম ‘চোরকাঁটা’ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তার এই মন্তব্যকে নাট্য নির্মাতা ও টিভি শিল্পীরাই সহজভাবে নেননি। নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল বলেছেন, ‘মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ আমাদের সহযোদ্ধা। সে তো একটা ফিল্ম বানিয়েছে, সোনা চোরচোলান কিংবা মানুষ গুম করা অথবা কারও টাকা নিয়ে তো বিদেশে পাচার করেনি। যাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ আছে তারা রাজকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় বসুন। ফেসবুকের মতো বন্ধুভাবাপান্ন জায়গাটা নষ্ট না করার অনুরোধ রইলো।’

তবে প্রশংসাও করছেন কোনো কোনো পরিচালক। সাম্প্রতিক সময়ের ব্যবসাসফল ছবি ‘অগ্নি’র পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী বলেছেন, ‘ছবিটিতে ডা. এজাজের অভিনয়ে মুগ্ধ হলাম। অন্যদের অভিনয়ও ভালো। চিত্রগ্রাহক খায়ের খন্দকার অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন। কালার গ্রেডিং যে কোনো বাংলাদেশি ছবির চেয়ে সেরা।’

ফেসবুকে ‘তারকাঁটা’ নিয়ে নানামুখী মন্তব্য দেখে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ৯ জুন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যারা ‘তারকাঁটা’ নিয়ে পর্যালোচনা লিখছেন বা গঠনমূলক সমালোচনা করছেন সবাইকে ধন্যবাদ। কথা দিচ্ছি আপনাদের সমালোচনা আমাকে আগামীতে ভালো কিছু করার তাগিদ দেবে। তারকাঁটা দিয়ে আমার ভূলগুলা শিখছি, দয়া করে সবাই আমার ভূলগুলা ধরিয়ে দেবেন। আর যারা ব্যক্তিগতভাবে আমকে নিয়ে সমালোচনা করতে চান তাদেরকে বলছি, প্রস্তুত থাকুন আপনাদের কাজের সমালোচনার জন্য।’

ফেসবুকে এক চলচ্চিত্রপ্রেমী লিখেছেন, ‘প্রথম ভেবেছিলাম সমালোচনা তারকাঁটা নিয়ে, কিন্তু এখন দেখছি রাজকে নিয়ে! তাই সমালোচক নির্মাতাদের নিজেদের সিনেমায় যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানাই।’

দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান নড়বড়ে অবস্থায় কোনো ছবি ব্যবসায়িকভাবে সফল হলে সবার জন্যই মঙ্গলজনক মনে করেন বোদ্ধারা। তবে ‘তারকাঁটা’ ছবিকে ঘিরে ফেসবুকে এই আলোচনা ও সমালোচনাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই-ই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন