স্থবির রাজনীতি

0
40
Print Friendly, PDF & Email

০ সাংগঠনিক রাজনীতি না থাকায় এখন রাজনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তির অর্থোপার্জনের পথ
০ আন্দোলন ও ভাংচুর ছাড়া সাংগঠনিক বিরোধীদলীয় কর্মকাণ্ড কারও মাথায় নেই
০ কমিউনিস্ট পার্টির মতো ছোট দলগুলো মূলত আরবান পার্টি হয়ে গেছে
কাওসার রহমান ॥ সবই ঠিক আছে। প্রশাসনও চলছে একভাবে। ঠিক নেই শুধু রাজনীতি। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের কোন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। আবার দলগুলোর মধ্যেও নেই আন্তঃযোগাযোগ। কি সরকারী দল, কি বিরোধী দল- রাজনীতি কেবলই দলগুলোর কাছে ‘লেবাসে’ পরিণত হচ্ছে। ফলে দেশের রাজনীতিতে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা বা মরুকরণ। রাজনীতির এই মরুকরণের কারণে গতিহীন হয়ে পড়ছে গণতন্ত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে কোন দেশের রাজনীতিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার হৃদপি-ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। আর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হচ্ছেন এর ধমনী ও শিরা। অন্যদিকে উন্নয়ন বিষয়টা হলো রাষ্ট্র ব্যবস্থার রক্তের মতো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা চলে, এদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার হৃদপি-টা ঠিক কাজ করছে না। ফলে প্রশাসন চলছে তার নিজের গতিতে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন রাজনৈতিক চর্চা নেই। নেই দলগুলোর মধ্যে কর্মসূচী কিংবা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। বছরের পর বছর ধরে দলগুলোর সম্মেলন নেই। নেই তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কমিটি। নামকাওয়াস্তে কমিটি থাকলেও তা কার্যকর নেই। আবার এলাকার প্রভাবশালী রাজনীতিকদের পকেট কমিটি হওয়ার কারণে সাংগঠনিক ভিত্তি একেবারেই দুর্বল। ফলে দলীয় কর্মকা-ে রাজনীতির নামে চলে স্বেচ্ছাচারিতা।
মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে দলে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে কোন দলেই নেই গণতান্ত্রিক চর্চা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবর্তে দলকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। ফলে রাজনীতি সাধারণ মানুষের উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় ব্যক্তির অর্থ-বিত্তের হাতিয়ার হিসেবে। এসব কারণে রাজনৈতিক দল আর রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছে না, করছে দলবাজির প্রতিনিধিত্ব। ফলে রাজনীতি থেকে দল কেবলই দূরে সরে গিয়ে হয়ে পড়ছে নিষ্ক্রিয় ও স্থবির।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির নিষ্ক্রিয়তার কারণে দেশ গতিহীন হয়ে পড়ছে। রাজনীতি গতিশীল থাকলে দেশ যতদ্রুত এগোত, ঠিক সেই হারে দেশ এগোচ্ছে না। মূলত আজকের দিনে দেশে বিনিয়োগে যে স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে তা মূলত রাজনৈতিক স্থবিরতারই প্রতিফলন। রাজনীতি ঠিক থাকলে অর্থনীতিও ঠিক থাকে, গতিশীল হয়।
রাজনৈতিক স্থবিরতায় বিনিয়োগ-কারীদের মনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি করছে। আর ওই আশঙ্কায় গত এক বছরে দেশে স্থানীয় ও বিদেশী উভয় খাতের বিনিয়োগই থেমে গেছে। ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে জমছে অলস তারল্য অথচ দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও এক থেকে দেড় শতাংশ বেশি অর্জিত হতো।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘যে কোন অর্থনীতি ভাল করার পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্যমূল্য বাড়ে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এক কথায় আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি থমকে যায়।’
বিশ্লেষকদের মতে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক কর্মকা- ও কর্মসূচী নিয়ে প্রচুর বিভ্রান্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা- রাজনৈতিক কর্মকা- মানেই সরকারবিরোধী আন্দোলন। সরকারবিরোধী আন্দোলন ছাড়া যেন রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন সাংগঠনিক কর্মকা- বা কর্মসূচী থাকতে পারে না। ফলে বিরোধী দলকে সরকার আন্দোলনের কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামতে না দিলে বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। যেটি এখন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের অন্যতম জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। দলটি গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে এখন জাতীয় সংসদে নেই। আবার রাজপথেও সরকার তাদের আন্দোলন করতে দিচ্ছে না। ফলে এ দলটি এখন সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মকা- যে শুধু আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা নয়, ধ্বংসাত্মক ভাংচুরের মাধ্যমেও নয়, সাংগঠনিক কর্মকা- ও সামাজিক কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতি। এ উত্তরণ ঘটাতেও ব্যর্থ হচ্ছেন রাজনীতিকরা। যা রাজনৈতিক স্থবিরতার বড় কারণ।
তবে বিএনপি দলটির এই রাজনৈতিক স্থবিরতাকে সাময়িক বলে অভিহিত করছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ অবস্থা আর বেশি দিন থাকবে না। ঈদের পর বিএনপি আন্দোলন শুরু করবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক স্থবিরতা বা বিপর্যস্ত অবস্থা চলছে তা সাময়িক। এ অবস্থা আর বেশি দিন থাকবে না। ঈদের পর বিএনপি আন্দোলন শুরু করবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারী দল তো সরকার পরিচালনা ও সংসদ কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত। অবশ্য জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কোন ভূমিকা নেই। কারণ তারা সরকারেও আছে, আবার বিরোধী দলেও আছে। জাতীয় পার্টির উচিত সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে সরকারী দলের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়া। কিন্তু তারা তা করছে না।’
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির কোন রাজনৈতিক কর্মকা- না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের বাধার কারণে রাজপথে কর্মসূচী পালন করা যাচ্ছে না। আর ঘরোয়া রাজনৈতিক কর্মকা- এখন কম হলেও রোজার পর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আন্দোলন জোরদার করা হবে।’
অন্যদিকে সরকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর দেশের শাসনভার পরিচালনার পর গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ ক্রমশ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দেশের প্রাচীন এ রাজনৈতিক দলটির রাজনৈতিক কর্মকা- আরও স্থবির হয়ে পড়েছে। সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত থাকা এ দলটির সাংগঠনিক কর্মকা- বলতে এখন তেমন একটা নেই। এ কথা অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও স্বীকার করছেন।
এ প্রসঙ্গে সরকারী দল আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রায় ছয়টি মাস ধরে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ ও নাশকতা মোকাবেলা এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কারণে ওই প্রক্রিয়া থেমে যায়।’
তিনি বলেন, ‘তবে এবার সরকারে এসেই আমরা দ্রুততার সঙ্গে সম্মেলনের মাধ্যমে সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এই সম্মেলন শেষ করারও একটি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা সারাদেশে দলকে গতিশীল করে তুলব। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ দেশের একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশে ইতিবাচক রাজনীতিতে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।’
রাষ্ট্রের হৃদপি- হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলো কেন কাজ করছে না তার কতগুলো কারণ নির্ণয় করেছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণগুলো হলো- রাজনৈতিক দল মাত্রই একটা নির্দিষ্ট আদর্শ থাকে। তারা ওই আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় ও সে অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান অধিকাংশ দলেরই রয়েছে প্রচ- আদর্শ সঙ্কট। তবে তাদের যে আদর্শ নেই তা বলা যাবে না। এখানে সমস্যা হলো নেতাকর্মীরা আদর্শ নিয়ে হয় অজ্ঞতায় ভোগে অথবা ভুল বোঝে। যার কারণে প্রায়ই অন্ধ আদর্শপ্রীতি কিংবা অজ্ঞতা অথবা ভুল বোঝাবুঝির দরুন তারা বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করে। আদর্শকে ঠিকভাবে গ্রহণ না করাটাও দলগুলোর একটি সূক্ষ্ম সমস্যা।
দ্বিতীয় যে সমস্যাটা এদেশে প্রকট তা হচ্ছে দলপ্রীতিকে দেশপ্রীতির উর্ধে স্থান প্রদান। যার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আসলের চিন্তা না করে সুদ নিয়ে লাফালাফি করি। কোন একটা চুক্তিতে রাজনীতিকরা প্রথমেই বিবেচনায় আনছেন দলের স্বার্থকে অথচ যেখানে দেশের স্বার্থটাকেই আগে বিবেচনা করা উচিত। দেশের স্বার্থ আছে অথচ দলের তেমন একটা লাভ নেই এমন কোন সিদ্ধান্তে রাজীতিকরা এগোন না। ফলে দেখা যায়, দেশপ্রীতির বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়।
আবার খালি মাঠে গোল করার একটি প্রবণতা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। যে দলই যখন ক্ষমতায় যাচ্ছে প্রতিপক্ষকে দমন করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতার কারণে ক্ষমতাসীন দল যেমন সাংগঠনিক শক্তি হারাচ্ছে। তেমনি বিরোধী দলগুলো এ ছুঁতোয় সাংগঠনিক দক্ষতা হারিয়ে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে রাজনীতিতে ঘটছে মরুকরণ। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টিসহ ছোট ছোট রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণরূপে আরবান পার্টি হয়ে গেছে। গ্রামে-গঞ্জে এদের কোন উপস্থিতি নেই। নগরে একমাত্র টেলিভিশন টকশো আর পত্রিকার পাতায় এদের যা অবস্থান। এ ছাড়া দৃশ্যত এরা কোথাও নেই। এই রাজনৈতিক স্থবিরতার ফাঁকে ধর্মের লেবাস পরে একটি অন্ধ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ফায়দা লুটছে। একবার হেফাজতের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়ত অন্য কিছু সৃষ্টি হবে।
জবাবদিহিতা শুধু গণতন্ত্রেরই নয় বরং সকল সরকার ব্যবস্থার একটি প্রধান শর্ত অথচ জবাবদিহিতার মনোভাব এ সময়ের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। এর কারণ দুটি। প্রথমত, জবাবদিহিতা করার মতো লোকই নেই, দ্বিতীয়ত, জবাবদিহিতার মানসিকতা এখন বিলুপ্তপ্রায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক স্থবিরতার পেছনে আরও যে কারণগুলো তুলে এনেছেন তার মধ্যে রয়েছে, বিচার যাই হোক তালগাছ আমার, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন মানসিকতা। আর এ ধরনের মনমানসিকতার কারণে ভুলগুলো রাজনীতিকদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। আবার পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির কাছে জনগণ খেলনায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতির দুর্দশার আর একটি কারণ হলো রাজনীতি অসচেতন ও অদূরদর্শী জনগণের তীব্রতা। সর্বোপরি, দেশপ্রেমের চেতনার তীব্র অভাব। যতই মুখে একাত্তরের চেতনার কথা বলা হোক না কেন, ভেতরে তার কিছুই নেই। যার কারণে দেশ এগোচ্ছে না। এ সমস্যাগুলোর সমাধানে একটি দৃঢ় উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতা ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও তৎপরতা থাকা উচিত। কারণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গতিশীল হলে দেশ গতিশীল থাকে। তবে কল্যাণমুখী দেশ হলে রাজনীতি দৃশ্যমান হবে না। মানুষ রাস্তায় থাকবে না।’
তিনি বলেন, মানুষ এখন রাজপথে আন্দোলন-মিছিল পছন্দ করে না। তারা এখন জীবনমান উন্নয়নে নিয়োজিত। মানুষ এখন কর্মমুখী। এ কারণে রাস্তায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না। এটা দেশের রাজনীতির একটি ‘ট্রানজিশন’ হতে পারে। তবে দেশবিরোধী বা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটলে দলগুলো যদি কোন প্রতিক্রিয়া না দেখায় তাহলে বলতে হবে দেশের রাজনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। হয়ত নিয়মিত দলগুলোর সম্মেলন হয় না, তবে প্রতিটি দলেরই যার যার নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকা- আছে। আছে অভ্যন্তরীণ কর্মসূচী। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোতে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা বলা কঠিন।’

শেয়ার করুন