কংগ্রেস সরকার যে ভুল করেছে, মোদি হয়তো তা করবে না : রাজা মোহন

0
58
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশে কে ক্ষমতায় থাকলো তা ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়। আঞ্চলিক সম্পৃক্তার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুটান যাচ্ছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা ঢাকায় আসছেন বলে মন্তব্য করেন ভারতের প্রখ্যাত কলামনিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. সি রাজা মোহন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, কংগ্রেস যে ভুল করেছে মোদি সরকার তা হয়তো করবে না। তারা আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা আরো বাড়াবে। মোদি সরকারের প্রথম দিনেই এর ইঙ্গিত মিলেছে।
আজ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজ আয়োজিত-ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, দণি এশিয়ায় এর প্রভাব শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. এ এন এম মুনিরুজ্জমান। রাজা মোহন বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় ভারতের বিদায়ী সরকারের যে সুযোগ ছিল তা তারা কাজে লাগায়নি। এমনকি অভ্যন্তরীণ সমস্যা দূর করতে পারেনি গত ১০ বছরে। মোদী সরকার প্রথম দিনেই একটি বার্তা দিয়েছে যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক কি হবে। আশা করি সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এতে উভয়ই উপকৃত হবে। এখানে কে মতায় থাকলো তা বিবেচ্য বিষয় নয়। আঞ্চলিক সম্পৃক্তার অংশ হিসেবে মোদি ভুটান যাচ্ছেন, এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা ঢাকায় আসছেন বলে মন্তব্য করেন রাজা মোহন।
তিনি বলেন, ভারত কোনো দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উৎসাহ দিতে পারে, সমর্থন দিতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র নিয়ে তার ধারণা চাপিয়ে দিতে পারে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ভারতকে তার সাথে কাজ করতে হবে। রাজ মোহন বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই গণতন্ত্র আসবে। এটা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেবার বিষয় না। আর বিশ্বের সব দেশের জন্য গণতন্ত্রের অভিন্ন শবকও কার্যকর নয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে জনগনের আকাক্সার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন, বিশেষ কোনো দলের প্রতি অনুরাগ নয়। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনকে সমর্থন করে ভারত যে ভূমিকা রেখেছে তা কাঙ্খিত এ সম্পর্কের প্রতিফলন হতে পারে না।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে শেখ হাসিনা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সই এবং সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল অস্থিতিশীল থাকলে ভারতের অর্থনীতি কাঙ্খিত মাত্রা অগ্রসর হবে না।
রাজা মোহন বলেন, ২৫ জুন ভারতের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যার সমাধান হবে না। তবে প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে এতে মোদি সরকারের সদিচ্ছার বহি:প্রকাশ থাকবে। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নরেন্দ্র মোদি ভারতকে বিশ্বের একটি শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর ভারতের পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে গতি আমরা লক্ষ্য করেছি। শপথ নেয়ার পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাথে মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। অথচ বিজেপিকে ঐতিহ্যগতভাবেই পাকিস্তানবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তামিলনাড়–র মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র বিরোধীতা সত্বেও শপথ অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজ পাকসেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়ার পর প্রথম ভাষণে মোদি সার্ককে শক্তিশালী করার কথা বলেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পৃক্ততায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন।
ভারত তার অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্বের দেশগুলোর জন্য দুয়ার খুলে দেবে উল্লেখ করে রাজা মোহন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ভারতে আসছেন। আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাপান যাচ্ছেন। এ সব সফরে ভারত তার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া, চীন ও জাপানের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ চলছে। এটি ভারতকে একটি শক্তি হিসাবে উত্থানের পথকে সহজ করে দেবে।
ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ওপর আলোকপাত করে রাজা মোহন বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া – এসব দিক থেকে এবারের নির্বাচনটা ছিল ভিন্ন। এটি শুধুমাত্রা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের একটি নিয়মিত ঘটনা নয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের বিকল্প হিসাবে প্রকৃত সর্বভারতীয় দল হিসাবে বিজেপি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল। বেসরকারি খাতের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন মোদি গুজরাটের সফলতা সারা ভারতে ছড়িয়ে দিতে চান। আর এ কারণে নির্বাচনী প্রচারনায় দল হিসাবে বিজেপির নাম যতটা শুনা গিয়েছিল, তার চেয়ে বেশী আলোচনায় ছিলেন ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদি।

শেয়ার করুন