বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মডেল: প্রধানমন্ত্রী

0
153
Print Friendly, PDF & Email

চীনা ব্যবসায়ীদের প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কর্ণফুলীতে টানেল নির্মাণ করবে চীন

বাংলাদেশের পাশে ‘থাকবে’ চীন

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হওয়ার আশা প্রকাশ শেখ হাসিনার

ইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তি

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সেবা খাতে বিনিয়োগ চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক ও অর্থবহ হবে।

মঙ্গলবার বেইজিংয়ে বাণিজ্য বিষয়ক এক সেমিনারে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

চায়না ইনস্টিটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি: বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা ফোরাম’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজক ছিল চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ওষুধ, সিরামিক, পর্যটন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, পেট্রোকেমিক্যাল এবং কৃষি খাতে চীনের উদ্যোক্তারা যৌথ বিনিয়োগেও এগিয়ে আসতে পারেন।

দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, সিরামিক, ডালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির মাধ্যমে এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনবে।

এপিটিএর অধীনে ২০১০ সালের জুলাই থেকে চীনে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৭০০ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি বাংলাদেশের বাকি সব রপ্তানিযোগ্য পণ্যও চীনের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীন থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে দিয়ে চীন বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগী দেশে পরিণত হয়েছে।

২০০৭ সাল থেকেই চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় আমদানি উৎস বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগচিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীনের ৪৯টি কোম্পানি বাংলাদেশের ৮টি ইপিজেডে ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে।

এছাড়া চীনের আরো ৩০০ কোম্পানির ২৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ডের কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে চীনের হুয়াইয়, সিএমইসি, জেডটিইর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, চীনের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, অবকাঠামো নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ, সার, বস্ত্র, চামড়া, সিরামিক, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনে পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই এখানকার কারখানাগুলো বাংলাদেশ থেকে পণ্য উৎপাদন করছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে কম ব্যয়ের পাশাপাশি কমমূল্যে বিপুল শ্রমশক্তির সহজলভ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতি অনুসরণ করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমান সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি তাদের আইনি সুরক্ষা এবং বিনিয়োগকৃত মূলধন ও লভ্যাংশ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হচ্ছে।     

এছাড়া ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি’ এবং ‘দ্বিপক্ষীয় কর আইনের’ মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ষোলো কোটি মানুষের দেশ হওয়ার কারণেও বাংলাদেশ বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।  

এসময় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক আগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তার সরকার সারা দেশে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা ছড়িয়ে দেয়ায় তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ার সঙ্গে তাদের আয় বেড়েছে, দারিদ্র্য কমে এসেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন হয়েছে।  

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নানা পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ করলেও, আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে।”

এসময় শেখ হাসিনা গত বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।

বাংলাদেশকে এখন ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন