দুর্নীতি থাকবে এরকমই চলবে -অর্থমন্ত্রী

0
80
Print Friendly, PDF & Email

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে জালিয়াতি রোধে পরিচালক নিয়োগে যথাযথ মানদ- নির্ধারণের ওপর বিশেষভাবে নজর দেয়ার কথা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র ডিভিডেন্ড প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে সবসময়ই কিছু না কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবে। কোনো কোনো সময় আমাদের চয়েজ ঠিকমত হয় না। এতে করে অসুবিধায় পড়তে হয়।
মুহিত বলেন, তবে দুর্নীতি থাকবে। এ রকমই চলবে। তবে বড় বড় জালিয়াতি ধরা পড়ায় আমাদের পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় নানা ধরনের যে দুর্বলতা ছিল সেখানে পরিবর্তন এসেছে। হয়ত আরও পরিবর্তন আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের জালিয়াতির দায় পরিষদের সবাইকেই নিতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্য আমাদের পছন্দ মতো হয় না। বড় বড় জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। তবে সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা কমে এসেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।  পাশাপাশি পরিচালনা পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে সরকার। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে যে সব জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে,  সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জালিয়াতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে সকলে মিলেই দোষটা মেনে নিতে হবে। কেননা, আমাদের পর্যবেক্ষণ অতটা শক্তিশালী ছিল না। একই সঙ্গে পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকার কারণে কিছু কিছু জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।
অনুষ্ঠানে ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের জন্য কোম্পানির মুনাফার ওপর ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ হচ্ছে ৭২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এস এম আকবর অর্থমন্ত্রীর হাতে ডিভিডেন্ডের চেক তুলে  দেন।
উল্লেখ্য, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত’ সরকারের বিনিয়োগ হচ্ছে ৬০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে ৪০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ দিয়ে থাকে।  দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুন