আওয়ামী লীগে টেনশন

0
56
Print Friendly, PDF & Email

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহধন্য যুবলীগ প্রেসিডিয়ামের এক সদস্যের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয় তার ঢাকার বাসায়। যিনি আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তার চল্লিশ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ কোনো সমালোচনা ছিলো না। বর্তমানেও নেই বললেই চলে।

স্বাধীনতার পূর্বের কথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড়ের পর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ নেতার গ্রামের বাড়িতেই উঠেন। কারণ, তার বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছিলো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তখন অবশ্য এ নেতা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পা দিয়েছেন কেবল। রাজনৈতিক জীবনের সিঁড়ি বেয়ে তিনি এখন যুবলীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন বলে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রমাণ পেয়েছেন। কিন্তু, শেখ পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এ যুবনেতাও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বস্তিতে নেই।

তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ওই ঘরোয়া আড্ডায় হঠাৎ করে বলেই ফেললেন নিজের ভেতরে থাকা ক্ষোভ ও আক্ষেপের কথা। ভেতরে ভেতরে যে কিছুটা আতঙ্কেও রয়েছেন এমন কিছু বুঝা গেলো তার মন্তব্য থেকে। তিনি বলেন, দেশে এখন যে উদ্বেগজনক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এ থেকে উত্তরণের পথ দেখছি না। রাজনীতিকরা এখন অনেক বিপদের মধ্যে রয়েছেন। কখন কার দোষে কে ফেঁসে যায় তা বলা যায় না। কখন কোন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় তাও বলা যায় না। কেমন যেন একটি অস্থিরতা বিরাজ করছে সারাদেশে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেই। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে জানালেন নিজের ছেলে বিদেশে লেখাপড়া করে। এক মেয়ে ঢাকায় চিকিৎসা বিদ্যায় অধ্যয়ন করছে। মেয়ের লেখা-পড়া শেষ হলে স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশেই বসবাসের ব্যবস্থা করা যায় কী-না তাও ভেবে দেখছেন। দেশের অবস্থার উন্নতি না হলে সম্ভাব্য সংকট এড়াতে শেষ পর্যন্ত তাবলীগ জামাতে জীবনের বাকি সময় কাটিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানালেন ওই যুব নেতা। অবশ্য তার পিতা ও চাচারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও জীবনের শেষ দিকে এসে প্রায় সকলেই তাবলীগ জামাতে সময় কাটিয়েছেন।

স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশে বসবাসের সামর্থ্য যেসব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রয়েছে তাদের কথা না হয় ভিন্ন। কিন্তু যাদের বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার সামর্থ্য এখনো হয়নি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী করবেন এ নিয়েই ভাবছেন এরা। দেশের রাজনৈতিক এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির যদি শান্তিপূর্ণ কোনো সমাধান না হয় তাহলে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল ও মধ্যম সারির নেতাদের পরিণতি কী হতে পারে তা নিয়েই চিন্তিত নেতারা। দলের তৃণমূল নেতারা প্রায় সকলেই চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ একটা সমাধান চান। তারা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মনে করেন যখন যে সরকারই আসুক না কেন ক্ষমতার পালাবদলে চরম বেকায়দায় পড়তে হয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের। শীর্ষ নেতারা যে যার মতো নিরাপদ স্থান বেছে নিতে পারেন খুব সহজেই। তৃণমূল নেতাদের জন্য যা খুবই কঠিন।

বিশেষ করে তৃণমূল নেতাদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জান-মাল ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় বেশি। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরো ভয়াবহতায় রূপ নেওয়ার আগে রাজনৈতিক সংকটের একটা শান্তিপূর্ণ উপায় চান তারা। আওয়ামী লীগের মাঝারি ও তৃণমূল অধিকাংশ নেতাই মনে করেন, এখনো সময় আছে। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আর এটাই ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর। তারা মনে করেন, আজ হোক কাল হোক অথবা পাঁচ বছর-দশ বছর পর হোক আওয়ামী লীগের হাত থেকে এক সময় হঠাৎ ক্ষমতা চলে যাবে। যে গুটিকয় রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে আজ দেশকে চরম অবস্থার দিকে নিয়ে গেছেন এরা তো আগে থেকেই টের পাবেন এবং দেশ থেকে ভাগবেন। তখন তাদের কী হবে?

আওয়ামী লীগের মাঝারি এবং তৃণমূল অনেক নেতার সঙ্গেই এ প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকে এ প্রসঙ্গে একই কথা বলেছেন। ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা যুবলীগ নেতা মীর হাবিব উল্লাহ অত্যন্ত সরল ভাষায় তার মতামত ব্যক্ত করেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। মীর হাবিব উল্লাহ বলেন, দেশে এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা কোনো দলের নেতাকর্মী এখন আর নিরাপদ নয়।

দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরে দেশে যেসব অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এর বেশির ভাগ ঘটনারই শিকার হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের লোক। সন্ত্রাসীদের টার্গেট থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ক্ষমতাসীন দলের নেতা, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর, এমনকি নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানও যদি অনিরাপদ হন তাহলে অন্যদের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যার ঘটনার উদাহরণ দিয়ে যুবলীগের এ নেতা বলেন, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে ও আগুন দিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে পুড়িয়ে মারার পরও কী আমরা বলবো, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো? এভাবে আরো কিছু দিন চললে দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা খুব সহজভাবেই ধারণা করা যায়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে। দেশের শাসন ব্যবস্থায় যারাই থাকবে ও আসবে তাদের উচিত দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য কাজ করা। গণতন্ত্রের ধারা ব্যাহত হতে পারে, এমন পদক্ষেপ সরকার বা সরকারের বাইরে থাকা কোনো পক্ষেরই নেওয়া উচিত হবে না। দেশে এখন যে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সরকার ও সরকার বিরোধীদের আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। যুবলীগের এ তৃণমূল নেতা বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বাড়িয়ে তোলা দরকার। এতে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির উপায় মিলতে পারে।

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একজন নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, বার বার রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দেশের এ প্রধান দু’দলের শীর্ষ নেতারা যদি আন্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন তাহলে বাংলাদেশের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য “অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো’র” দরকার হবে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কতিপয় নেতা এবং কতিপয় দুর্নীতিবাজ আমলা নিজেদের আখের গোছানোর সুবিধার্থে নেত্রীকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। এরা দেশকে আজ চরম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাঘের পিঠে চড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতারা চলমান সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তারা আর কোনো সহিংসতা চায় না। কোনো সহিংসতাই সমাধানের পথ হতে পারে না। দেশে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ার পূর্বেই রাজনৈতিক সমঝোতায় আসা উচিত বলে মনে করেন এ নেতা।

প্রবীণরাও উদ্বিগ্ন

শুধু মাঝারি বা তৃণমূল নেতারাই নন, আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতাও বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগের অনেক অভিজ্ঞ নেতা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ চিন্তিত। তারা এর একটি সুরাহা চান। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর একজন সদস্যের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। দেশে বিদ্যমান প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করা উচিত। দেশে যাতে কোনো অরাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতাসীন হতে না পারে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি।

তিনি দেশের বর্তমান অবস্থাকে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না। সরকারের উচিত হবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আরো বেশি সতর্ক হওয়া। অপহরণ, গুম ও খুন বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি ক্রমেই অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

এছাড়া আরো অনেকের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এরা অধিকাংশই দেশে একটি স্থিতিশীলতা চান। তারা এও মনে করেন, মাঠে রাজনীতি করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই করতে হবে। দেশে এখন যেভাবে অপহরণ, খুন ও গুমের ঘটনা ঘটছে তা অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে। এ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও। একটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও যখন গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত হয়, তখন সমগ্র দেশই অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সকল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলকেই এগিয়ে আসতে হবে।    

সংকটে সরকার

বর্তমান সরকার এখন চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে। প্রশাসনিক ও দলীয় সংকটের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমস্যাও দানা বেঁধে উঠছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়া দলীয় সন্ত্রাসীদের নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছে সরকার। আর এরই মধ্যে ভারতে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রাণান্ত চেষ্টার পরও ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াটা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে মোদীর সঙ্গে বিএনপি বা তারেক রহমানের যোগাযোগ, এমনকি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গোপন সম্পর্কের খবর সরকারের জন্য আরো টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের ভেতরের অবস্থা অনেকটাই নাজুক। এ পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা যেসব অসুবিধায় রয়েছে তা অত্যন্ত কাছ থেকে দেখছেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা। সরকারের মন্ত্রী ও বিভিন্ন পদে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা মুখ না খুললেও অনুসারীরা তাদের হাবভাবে সবই বুঝতে পারছেন। তাই ক্ষসতাসীন দলের অনেক নেতাই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়। এরা কেন্দ্রীয় পর্যায়েও একটা রাজনৈতিক সমঝোতা চান। কোনো কোনো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী-বিএনপি নেতাদের মধ্যে ফোনালাপও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি-জামায়াত ও তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ দলীয়ভাবে মোকাবেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। এর কারণ হলো, নেতাকর্মীরা এখন আর প্রকাশ্যে কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে বাধা দিতে রাজি নয়। আর এ কারণেই বলা যায়, বিরোধীদের ঠেকাতে সম্পূর্ণভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীনির্ভর হয়ে পড়েছে সরকার।    

তৃণমূল নেতারাই বেশি শঙ্কায়

সরকারের নানামুখী দুর্বলতার সুযোগে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করে সরকারকে আরেক দফা বেকায়দায় ফেলেছে। দলের কর্মীদের সংগঠনমুখী করতে ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দফায় দফায় বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো কাঙ্ক্ষিত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ক্ষমতাসীন এ দলটি’র কেন্দ্রীয় সংগঠন কর্মীদেরকে দলীয় কাজে ফেরাতে চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কোনো না কোনো স্থানে ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলীয় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার খবর আসছেই। ২৯ মে বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে মিজানুর রহমান নামের একজন যুবলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাফরুল থানার সেনপাড়া মিরপুর-১০ নম্বরের ১৮৯ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। একই দিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে দলীয় ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব সুমু। এ সময় ছাত্রলীগের আরো তিন নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব সুমু আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের ভাতিজা। ওইদিনই মতিঝিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডে ঠিকাদার সুলতান আহমেদকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। প্রভাবশালী এক কৃষকলীগ নেতা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে খবর বেরিয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো স্থানে খুন হচ্ছে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের চাইতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই বেশি আতংকিত এবং হতাশ।

অস্থিরতা ও অস্বস্তিতে আ.লীগ

কয়েক দিন পূর্বে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতারা সরকার বিরোধী জোটকে তর্কযুদ্ধে ব্যস্ত রাখলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, অপহরণ, খুন ও গুমের সঙ্গে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় এসব সামলাতেই ব্যস্ত আওয়ামী লীগ। সংবাদ মাধ্যমে কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে ব্যস্ত রাখতে অভ্যস্ত নেতাদের কেউ কেউ এখন গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে চান। যিনি কথা বলছেন তিনিও আবার এতে খুব সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বিশেষ করে সিনিয়র, অভিজ্ঞ নেতারা এখন মাপকাঠি ঠিক রেখেই কথা বলছেন। মাঝারি সারির দু’একজন বাদে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নেতারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আক্রমণাত্মক তো নয়ই, এমনকি কোনো কোনো সময় রাজনৈতিক কথাও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে কথা বলার নীতি অনুসরণ করছেন। যারা ইতোপূর্বে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাঘের মতো হুংকার দিতেন এরাও কেমন যেনো শান্তশিষ্ট হয়ে গেছেন। খুবই সতর্ক তারা। আর দলের ভেতরে যারা চোয়ালের উপর ভর করে বক্তৃতা করতে অভ্যস্ত তারাও হঠাৎ যেন কিছুটা চুপসে গেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সময়ের ঝড়তোলা পলিটিশিয়ান তোফায়েল আহমেদের কথাই ধরা যাক। গত ২৯ মে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরিতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ওই অনুষ্ঠান কভার করার জন্য আওয়ামী লীগ বিটের সাংবাদিকরা অনুষ্ঠান স্থলে আসেন। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বক্তৃতাও করেন। কিন্তু হতাশ হন সাংবাদিকরা। কারণ, দেশের চলমান রাজনীতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী হবে তা নিয়ে কোনো কথাই বললেন না বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ। একইভাবে গত ২৬ মে সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন জেনে ওই বৈঠকের সংবাদ কভার করার জন্য সাংবাদিকদের অংশগ্রহণও ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। সাংবাদিকদের বসার স্থানে তিল পরিমাণ জায়গাও ছিল না। সাংবাদিকরা ভেবেছিলেন দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর জন্য বিশেষ কোনো মেসেজ দেবেন। কিন্তু না, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনেই আসেননি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অফিসের পেছনের দরজা দিয়েই বের হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর একদিন পর ২৭ মে মঙ্গলবার ১৪ দলের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

গত ২৬ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের ১৭ ঘণ্টা পরই একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জরুরি বৈঠক। পর পর দুটি বৈঠকের পর সংবাদ মাধ্যমকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের ওই সভা শেষে সৈয়দ আশরাফ তো কিছু বললেনই না, এমনকি বৈঠকে উপস্থিত অন্য নেতারাও সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন। তারা জানালেন, বৈঠকে শুধুমাত্র মেয়াদোত্তীর্ণ জেলাগুলোতে কমিটি গঠনের কথা হয়েছে। এছাড়া আর কোনো বিষয়ে নাকি আলোচনাই হয়নি। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেনের কাছে গণমাধ্যম কর্মীরা বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনিও এড়িয়ে যান। ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে দলীয় অবস্থান কী হবে তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান আফজাল হোসেন।

তবে বৈঠকের অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সভায় ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের ভেতরের বিশৃঙ্খলাকারীদের দমনে বেশ কিছু প্রস্তাবও এসেছে শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওই বৈঠকের বিষয়বস্তু জানানোর পর এসব বিষয়ে করণীয় ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা।

বৈঠক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ ও ফেনী, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব অপহরণ, খুন ও গুম হয়েছে তার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ এসেছে তা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডার, ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরাম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের তীর সরকারি দলের যে দু’জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে উঠেছে তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না তাও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর অভ্যন্তরীণ কোন্দল বন্ধ ও কর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতেই দেশব্যাপী কিছু কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। অবশ্য এসব কর্মসূচি পালন করে নেতাকর্মীদেরকে আতঙ্কমুক্ত করা যাবে না বলেই মনে করেন তৃণমূল নেতারা। তারা মনে করেন, দল ও দেশ বাঁচাতে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষকে শান্তি ও স্বস্তিতে রাখতে হলে প্রধান দুই দলের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা কাটবে না।

অস্থিরতা শুধু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২৭ মে সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে যেসব অপহরণ, খুন ও গুম হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪ দলের বৈঠক শেষে ক্ষমতাসীন জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের উদ্বেগের কথা জানান। তিনি ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে তার উদ্বেগের কথা একবার নয়, অন্তত তিন বার উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, চলমান ঘটনাগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়। কিন্তু সরকার দেশ পরিচালনায় যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তা থেকে উত্তরণের উপায় কী হবে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা।   

তারেক রহমানের মোদী কানেকশন!

তারেক রহমানকে ভারতে আমন্ত্রণের সংবাদ প্রকাশের পর গত সপ্তায়  সারাদেশে এটি ছিল “টক অব দ্যা কান্ট্রি”। এটিকে বিএনপি তাদের কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। মোদী-তারেক সম্পর্কের যে খবরগুলো প্রচারিত হচ্ছে এর সবগুলো হুবহু সত্য না হলেও এসব খবরের একেবারে যে ভিত্তি নেই তা কেউ বলছেন না। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী শিবিরে এ আলোচনা শুরু রয়েছে যে, তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যত কর্ণধার হতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির একজন সহ-সম্পাদক এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে বলেন, আমরা বয়সে তরুণ। আমাদেরও একটি রাজনৈতিক টার্গেট আছে। দলে নিজের অবস্থান ধরে রাখা ও দলকে সুসংহত রাখার দায়িত্বও একসময় আমাদের কাঁধে এসে পড়তে পারে। তেমনি এ কথা মোটামুটি বলাই যায় যে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সময় হয়তো বাংলাদেশ পরিচালনা করবেন। আর বিজেপির সঙ্গে তার (তারেক) যে সম্পর্কের খবর বেরিয়েছে তা একাজে আরো একধাপ এগিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েন

খুন, অপহরণে র‌্যাব ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ও র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার ঘটনায় কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে। ধারাবাহিকভাবে র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নেওয়া ও বিভিন্ন স্থানে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে ক্ষোভ এবং কাজকর্মে এক ধরনের অনীহা ভাব ফুটে উঠেছে। তারা এখন সরকারের বিশেষ দায়িত্ব অর্থাৎ বিরোধীদলকে ঠেঙ্গানোর জন্য লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকা পালনের চাইতে নির্ধারিত কাজকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা সরকারের জন্য এক ধরনের চপেটাঘাত বলা যায়।       

“অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত, সশস্ত্র জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আটক করা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সব ধরনের অবৈধ দ্রব্য উদ্ধার, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সরকারি নির্দেশে যে কোনো অপরাধের তদন্ত এবং যে কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন”-এসব নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য অতিরিক্ত কাজ র‌্যাব করবে না বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ভিন্নও হতে পারে।

তবে গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় নিজের দল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা ফাঁস হয়ে যায় কী-না এমন আতঙ্কও রয়েছে অপরাধীদের মধ্যে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষোভ ও ব্যক্তি আক্রমণের কারণে এসব কথা ফাঁস করে দিতে পারে, এমন দুশ্চিন্তা কাজ করছে। এ নিয়েও বলা যায়, আরেক দফা বিপাকে সরকার।

এদিকে গত ২৬ মে র‌্যাবের মুখপাত্র এটিএম হাবিবুর রহমান-এর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা দেওয়া নিয়েও নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সরকার ও র‌্যাবের মধ্যে বিশেষ কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ২৭ মে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, র‌্যাবের এ সিদ্ধান্ত কৌশলগত। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই র‌্যাব থাকবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন