মাফিয়া-মন্ত্রীপুত্র র্যাব যৌথচক্র

0
128
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক গডফাদার ও মাফিয়াদের যৌথ চক্রে পড়েই নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে। কেবল আর্থিক সুবিধার জন্য র‌্যাব সদর দফতরকে অবহিত না করেই র‌্যাবের তৎকালীন তিন কর্মকর্তা সাতজনকে অপহরণের পর হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেন। অপহরণের পর থেকে নির্বিঘ্নে হত্যাকাণ্ড সম্পন্নের জন্য কেবল র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনের মধ্যেই মোট ২৩ দফা কথোপকথন হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের ফোনকলও রিসিভ করেননি মেজর আরিফ। উল্টো গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে মুক্ত না করলে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ফাঁসানোর হুমকিও দিয়েছিলেন তারা। র‌্যাবের সাবেক সেই তিন কর্মকর্তার জবানবন্দি এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণাদির বরাত দিয়ে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও কয়েকটি সংস্থা। পুরো বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়েও অবহিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল থেকেই কার্যত শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে হত্যার মিশন। তিন দফা ব্যর্থ হওয়ার পর সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল সম্পন্ন হয় কিলিং মিশন। হত্যাকাণ্ডের জন্য লেনদেনদেনকৃত টাকার বড় একটি অংশ পেয়েছেন প্রভাবশালী এক মন্ত্রীপুত্র। তিনি মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এমএম রানার মতো নূর হোসেনের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধাভোগী। নূর হোসেনের বালুমহাল, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই তারা এই সুবিধা পেতেন। মুঠোফোনে নূর হোসেনের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো মেজর (অব.) আরিফ ও লে. কমান্ডার (অব.) রানার। এর বাইরে নূর হোসেনের বাসায় এবং অফিসেও অবাধে যাতায়াত ছিল তাদের। বিশেষ করে মেজর আরিফ ও নূর হোসেনের সখ্য পারিবারিক পর্যায়েও ছিল। তারা একে অপরের বাসায় বহুবার গেছেন। জানা গেছে, প্যানেল মেয়র নজরুলকে হত্যার জন্য মেজর আরিফ ব্যাংকের মাধ্যমে নূর হোসেনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। নূর হোসেন ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর মুঠোফোনে আরিফকে অবগত করেন। টাকা পাওয়ার পর মেজর আরিফ দ্রুত নজরুলের অবস্থান ও তাকে চেনাতে নূর হোসেনকে তাগাদা দেন। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেন যে, নজরুলকে আগে পেলে আগেই তার (নূর হোসেনের) বাড়ির সামনে বসে ফেলে রাখবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানান। র‌্যাব সদর দফতরকে আড়ালে রেখে কাজটি করার কারণে খুব দ্রুত কাজটি শেষ করার জন্য আরিফ মাঝে মাঝেই নজরুলের সঠিক অবস্থান জানানোর জন্য নূর হোসেনকে চাপ দিতেন। এ কারণে নূর হোসেন এবং তার লোকজন ঢাকায় এসে নজরুলের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করতেন। গত ১১ এপ্রিল মেজর আরিফ মুঠোফোনে নূর হোসেনকে ২/১ দিনের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য নজরুলের বাসা চিনিয়ে দিতে বলেন এবং সেই সঙ্গে তিনি নিজেই এ অপারেশন করবেন বলে জানান। দেরি হয়ে গেলে এ কাজে বাধা আসবে বলে তিনি নূর হোসেনকে অবহিত করেন। গত ১৮ এপ্রিল নজরুল বাড়িতে আছে এমন তথ্য পেয়ে মেজর আরিফ তাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে নজরুলের বাড়ির আশপাশে দুপুর থেকে অবস্থান নেন। নজরুল বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার দিকে রওয়ানা হলেই মাঝপথ থেকে তাকে অপহরণ করবেন। রাত ১২টা পর্যন্ত বাসার সামনে অবস্থানের পরও নজরুলের কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ার পর নূর হোসেন আরিফকে অপেক্ষা না করে চলে যেতে বলেছিলেন। পরদিন সকাল থেকে পুনরায় মেজর আরিফ নজরুলের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। একইভাবে সারা দিন অপেক্ষা করে রাতে তিনি নূর হোসেনকে আশাহত হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন। নূর হোসেন এ সময় মেজর আরিফকে জানান, নজরুল বাড়ি থেকে চুপিসারে চলে গেছেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আলোচিত মেজর (অব.) আরিফকে ঘটনার পরদিন ভোর রাতে এবং ২৯ এপ্রিল সকালে লে. কর্নেল (অব.) তারেককে তলব করেছিল র‌্যাব সদর দফতর। সেখানে প্রথমদিকে তারা অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করলেও কিছু তথ্যপ্রমাণাদি হাজিরের পর একপর্যায়ে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে লে. কর্নেল (অব.) তারেক বলেছিলেন, অপহরণ ঘটনাটির পরপরই মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে র‌্যাব সদর দফতর থেকে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা তার কাছে এ বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। ততক্ষণে চারদিকে অপহরণের বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ ও খোঁজাখুঁজি শুরু হয়ে যায়। এ জন্য সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেজর আরিফের সঙ্গে কথা বলে অপহৃতদের দ্রুত গোপনে ক্লিয়ার অর্থাৎ গুম করার কথা বলেন। যাতে কোথাও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকে। লে. কমান্ডার রানাও তাকে বিষয়টি ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে না জানাতে পরামর্শ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি রানাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন, ঘটনার দায় কোনোভাবেই ট্যাকেল করা না গেলে এবং ঊর্ধ্বতন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলে সব দোষ র‌্যাব সদর দফতরের ওপর চাপানোর জন্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটির নেপথ্যে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনি নূর হোসেনকে বিভিন্নভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে নানা বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে অপহরণের ঘটনার পরপর র‌্যাব সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুঠোফোনে এ বিষয়ে কয়েক দফায় র‌্যাব-১১ এর তৎকালীন সিও লে. কর্নেল তারেকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তবে তারেক এ বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি নিজেও উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছিলেন।
২৭ এপ্রিল যা ঘটেছিল
২৭ এপ্রিল সকাল থেকেই দফায় দফায় মুঠোফোনে কথোপকথন হতে থাকে লে. কর্নেল তারেক, লে. কমান্ডার রানা ও মেজর আরিফের মধ্যে। প্রতিটি মুহূর্তের চিত্র তারা একে অপরকে মুঠোফোনে অবহিত করতে থাকেন। ওইদিন মেজর আরিফের সঙ্গে লে. কর্নেল তারেকের সর্বমোট ২৩ বার কথোপকথন হয়। ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে নজরুলের হাজিরা দেওয়ার কথা আছে বলে তারা জানতে পারেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মেজর আরিফ আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে নজরুলের জন্য অবস্থান নেন। সকালে তিনি রানাকে জানান, নজরুল কোর্টের দ্বিতীয় তলায় আছেন। রানা যেন সিভিল টিম নিয়ে মুভ করেন। নজরুলের সঙ্গে ওই সময় প্রচুর লোক থাকায় কাজটা ভালো সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। এ সময় আরিফ আরও বলেন, বিষয়টি সিও (লে. কর্নেল তারেক) জানেন। পরবর্তীতে আরিফ পুনরায় রানাকে তাড়াতাড়ি আসার তাগাদা দিয়ে বলেন, সিও বলেছেন কোর্টের আশপাশে অপহরণ না করে সামনে অন্য কোথাও করতে। পরবর্তীতে রানা অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেট বদলানোর জন্য আরিফকে বলেন।আরিফ কোর্টে নজরুলের অবস্থান পুনঃনিশ্চিত করার জন্য নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসা করলে কোর্টে নজরুল নিশ্চিত আছেন বলে জানান। আরিফ পুনরায় বিকালে রানাকে আসার জন্য তাগাদা দেন এবং বলেন, সিওকে সব বলা হয়েছে। অভিযানটি জটিল বলে রানার জরুরি সাহায্য দরকার। দুপুরে আরিফ নজরুলকে দেখতে পেয়ে আবার নূর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন নূর হোসেন জানান, নজরুলের পরনে সাদা পাঞ্জাবি। আরিফ তখন নূর হোসেনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করেন, গাড়িতে ওঠার পর যারা নজরুলের সঙ্গে থাকবেন তাদের সবাইকেই তিনি অপহরণ করবেন।এ সময় রানা টহল কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে তাদের শিবু মার্কেটের একটু পেছনে থাকতে বলেন। একই সঙ্গে আটজনের আরেকটি দল প্রস্তুত করার জন্য আদেশ দেন। এর একটু পরই তিনি শিবু মার্কেটে অবস্থানরত টহল পার্টিকে সাবধানে কাজ করার জন্য ও ধাক্কাধাক্কি না করার জন্য উপদেশ দেন এবং তিনিও আসছেন বলে জানান। নতুন দলটিকে পাঠানোর জন্য ক্যাম্পে কোনো গাড়ি নেই জানানো হলে রানা ওদের র‌্যাব পিকআপে করেই চাষাঢ়া মোড়ে পাঠাতে নির্দেশ দেন। দুপুরে আরিফ পুনরায় রানাকে দ্রুত আসার জন্য তাগাদা দেন এবং জানান, কাজটি যেহেতু জটিল তাই সিওকে সব বলা হয়েছে।
পরবর্তীতে দুপুরে রানা পুনরায় শিবু মার্কেটের দলটিকে স্টেডিয়ামের কাছে ময়লার ডিবির কাছে লিংক রোডে চেকপোস্ট বসাতে বলেন এবং আদেশ দিলে গাড়ি থামানোর কাজ শুরু হবে বলে জানান।
নজরুলের গাড়ি কোর্ট থেকে বের হয়ে লিংক রোড ধরে ঢাকার দিকে রওয়ানা হলে দুপুরে রানা লিংক রোডের চেকপোস্ট পার্টিকে জানান, দুটি প্রাইভেট কার আসছে, একটি কালো আর তার পেছনে সাদা। ঢাকার দিকে যাচ্ছে এবং ৩১ সিরিয়ালের গাড়ি। চেকপোস্টে যেন গাড়ি দুটোকেই থামানো হয়।
নজরুলের গাড়ির পেছনের গাড়িতে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার চালক বিষয়টি দেখে ফেললে তাদেরও জোরপূর্বক অন্য গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় রানাও ঘটনাস্থলে ছিলেন। অপহরণের পর সাতজনকে নিয়ে মেজর আরিফ দুটি মাইক্রোবাসে করে নরসিংদীর দিকে চলে যান। এ সময় আরিফ লে. কমান্ডার রানাকে নজরুল ও চন্দন সরকারের গাড়ি দুটি দ্রুত অন্য চালক দ্বারা টঙ্গীর দিকে নিয়ে যেতে বলেন। ঘটনার পরপরই নূর হোসেনকে আরিফ নিশ্চিত করেন, তার সঙ্গে অপহরণকৃত সবাই আছেন। দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী যাওয়ার পর পুনরায় মাঝরাতের দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ফেরিঘাটে ফিরে আসেন। ওইখান থেকে নৌপথে তারা পুনরায় নারায়ণগঞ্জে ফেরত আসেন। এর মধ্যেই তারা অপহরণকৃত সাতজনকে হত্যা করে প্রত্যেকের লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে নদীতে লাশ ফেলে দেন।
নূর হোসেনের যত অপকর্ম
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূর হোসেনের জীবনের শুরুটা ট্রাকের হেলপারের মধ্য দিয়ে হলেও অপরাধ সাম্রাজ্যে জড়িয়ে হয়ে যান কোটিপতি। নানা সময়ে বিভিন্ন গডফাদারের সংস্পর্শে এসে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর গডফাদার। টাকার জোরে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি, ভাড়ায় মানুষ খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়ার আসর ও অন্যের জমি দখল করাই ছিল নূর হোসেনের নেশা। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জে গড়ে তুলেছিলেন ৩টি রঙমহল। রঙমহলে মদপান ও নারী ভোগের ব্যবস্থা করা হতো।  সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার মৃত হাজী বদর উদ্দিনের ছেলে নূর হোসেন। ৬ ভাইয়ের মধ্যে নূর হোসেন তৃতীয়। ১৯৮৬ সালে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান, সিটি কাউন্সিলর। শিল্পপতি মুহাম্মদ আলীর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ১৯৯১ সালে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী জোয়ার দেখে নূর হোসেন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের পক্ষে কাজ করে হয়ে যান বিএনপি নেতা। একদিকে বিএনপি নেতা, অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষক লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের লোক হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।
প্রথমে ১৯৯২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান, পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নূর হোসেন। পরে তাকে কাছে টেনে নেন শামীম ওসমান। ১৯৯৮ সালের ৯ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ বন্ধ করে দেন নূর হোসেনসহ তার ক্যাডার বাহিনী।
২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমে ইন্টারপোল নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করলেও ২০১১ সালের মার্চে ইন্টারপোল সে ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়। সর্বশেষ ২৭ মে নূর হোসেনকে ধরতে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে।

শেয়ার করুন