বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

0
49
Print Friendly, PDF & Email

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগামী অর্থবছরে কেউ কালো টাকা আর সাদা করার সুযোগ পাবেন না। বর্তমানে তিনটি খাতে প্রদেয় আয়করের সাথে ১০ ভাগ জরিমানা দিয়ে যে কেউ তার কালো টাকা সাদা করতে পারতেন।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়নে গতকাল বিকেলে এক বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সুযোগ বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতার দুষ্ট কালচার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো খাতেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই। বাজেট বক্তৃতায় যদিও বিষয়টি আমি বলিনি। তবে এখন বলছি, আগে এ বিষয়ে যেসব সুযোগ ছিল তা বাতিল হলো। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তিনটি খাতে (ফ্যাট ও জমি কেনা এবং ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ সুবিধা নিয়ে এ পর্যন্ত এসব খাতে মাত্র ৩৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এ েেত্র সরকার ট্যাক্স পেয়েছে ৩৪ কোটি টাকা
মুহিত বলেন, এ হিসাব দেখে মনে হয় দেশে কালো টাকা নেই। কিন্তু কালো টাকা আছে। যেহেতু এ সুবিধায় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, সে কারণে এটা বন্ধ করা হলো। তিনি বলেন, আমরা আগে এক গবেষণায় দেখেছি, দেশে কালো টাকার পরিমাণ জিডিপির ৪৯ শতাংশ থেকে ৮৯ শতাংশ। এখন আবার নতুন করে গবেষণা করে দেখতে হবে কালো টাকার পরিমাণ কী অবস্থায় রয়েছে। তারপরও এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন জানান, আয়কর আইনের ১৯ (বিবিবি) ধারায় কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ ছিল তাও এবার বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে কোনো েেত্রই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকল না।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল, অর্থপ্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও অর্থসচিব ফজলে কবীর।
দেশের অর্থনীতিবিদরা বাজেট উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এ মন্তব্যের ওপর জবাব দিতে বলা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চাভিলাষ যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে সেটিই ভালো। প্রথম থেকেই আমি উচ্চাভিলাষী বাজেট দিয়ে আসছি। পাঁচ বছরে ব্যয় করার সামর্থ্য দ্বিগুণ হয়েছে। এটাই এই সরকারের বৈশিষ্ট্য।
করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি না করা প্রসঙ্গে : দেশে বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণীপর্যায় আয়করমুক্ত সীমা রয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে তা বৃদ্ধি করা হয়নি কেনÑ এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা আমাদের দেশে যেভাবে বাড়ানো হয় সেভাবে বিশ্বের কোনো দেশে বাড়ানো হয় না। বিশ্বের ধনী দেশেও এভাবে বাড়ানো হয় না। দুই লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে এ সীমা বাড়িয়ে দুই লাখ ৩০ বা ৩৫ হাজার টাকা আগামী ১০ বছরের জন্য নির্ধারণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক সহিংসতা দুষ্ট কালচার : রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, এ বিষয়ে আমি বাজেট বক্তৃতায় বলেছি। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা আমাদের পরিহার করতে হবে। এটি দুষ্ট কালচার। রাজনীতিবিদরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা এ ব্যাপারে শুধু আপিল করতে পারি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বাজেটকে ‘ল্য বিলাস বাজেট’ বলে উল্লেখ করেছেÑ এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নো কমেন্ট’। তাদের মন্তব্যকে কোনো মন্তব্য বলে মনে হয় না।
মোবাইল সেটে যে কর বসানো হয়েছে তাতে কেউ আপত্তি করবেন না বলে আমার ধারণা।
বাংলাদেশের মতো সমাজতান্ত্রিক দেশ পৃথিবীতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে ক্রমান্বয়ে ধনী-গরিব বৈষম্য কমে আসছে। আর ২০১৮ সালের পর দেশে গরিব থাকবে না।’
ব্যাংকের মাধ্যমে বাড়িভাড়া পরিশোধ করা হবে নতুন বিধিমালায় : বাজেটে ২৫ হাজারের ওপরে বাড়িভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাড়িওয়ালারা কর ফাঁকির জন্য অর্ধেকটা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেকটা নগদে নিতে পারেনÑ এ প্রবণতা রোধে সরকার কী করবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যে একটি বিধামালা তৈরি করা হবে। এতে একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। বর্তমানে কর ফাঁকির জন্য মাত্র ১০ ভাগ জরিমানার বিধান রয়েছে। যারা বাড়িভাড়া বিষয়ে তথ্য গোপন করবেন তাদের ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৫০ ভাগ করা হতে পারে। তবে আশা করি বাড়িওয়ালারা সঠিক তথ্যই দেবেন। তিনি বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ হলে আমরা বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে পারব। এতে বোঝা যাবে তারা তথ্য গোপন করছেন কি না।

শেয়ার করুন