চোখের সামনে ম্যারাডোনা!

0
29
Print Friendly, PDF & Email

বল পায়ে ছুটছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, তাঁকে রোখার চেষ্টায় ইতালিয়ান ডিফেন্ডার জিউসেপ্পে বারগমি, ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিযখন আমি ঢাকার মাঠে দাপিয়ে বেড়াতাম, তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল ম্যারাডোনার খেলা দেখব। একদম সরাসরি। এটার অবশ্য কারণ ছিল। আমাদের দেশই শুধু নয়, সারা বিশ্ব তখন ম্যারাডোনা-জ্বরে আক্রান্ত। তাঁর খেলা সরাসরি দেখতে পারা মানে একজন ফুটবলারের জীবন সার্থক হওয়া। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে খেলা ছাড়ার দুই বছর পর। ১৯৯০ সালে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেই বছর খেলা দেখতে যাই ইতালিতে। দ্বিতীয়বারের মতো ইতালি সেবার বিশ্বকাপ আসরের আয়োজন করেছে। আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুতবে এটা নয়, আসলে খেলা দেখতে যাওয়ার বড় কারণ হলো আমার ফুটবলার জীবন। একজন ফুটবলার হিসেবে আমার বারবারই মনে হয়েছে, কেন বিশ্বকাপের খেলা দেখব না! এত বড় আয়োজনের সঙ্গে আমার কেন পরিচয় থাকবে না। তাই উদ্যোগটা নিয়ে নিই নিজেই। যখন খেলোয়াড় ছিলাম, তখন নানাবিধ কারণে হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ১৯৮৮ সালে খেলা ছাড়ার পর ১৯৯০ সালে পাই বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসর। সেটাই কাজে লাগাই।
ম্যারাডোনাকে দর্শনের সেই ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনা আর ইতালির মধ্যে। সেমিফাইনাল ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচ ছিল টানটান উত্তেজনার একটা ম্যাচ। নিয়মমতো যে জিতবে, সে-ই যাবে ফাইনালে। খেলতে হবে পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে।
.নেপলসের সানপাওলো স্টেডিয়ামে ঢুকেই আমি থ। এত বড় আয়োজন আর এত মানুষের সমাগম স্টেডিয়ামে হতে পারে ভাবনায় ছিল না। খেলা শুরু হওয়ার পর শুরু হলো আসল ম্যাজিক। সেই ম্যাজিকের একমাত্র নায়ক ম্যারাডোনা! গ্যালারিতে বসে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখছি ম্যারাডোনার খেলা। শুধু আমি একা না, তাঁর বলের ক্যারিশমা দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ছিল পুরো গ্যালারি। গ্যালারি ছেয়ে গেছে দুই দলের পতাকায়। সে কী চিৎকার, সে কী উল্লাস! এখনো যেন কানে বাজে। ম্যারাডোনাকে ঘিরে আগ্রহের শেষ ছিল না। ইতালির হয়ে তখন খেলছিলেন রবার্তো বাজ্জো। ইতালিই এগিয়ে যায় শুরুতে। গোল করেন শিলাচি। আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে গোলটা শোধ করেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া।
নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র। ম্যারাডোনার খেলা দেখতে এসেছি, কিন্তু তাঁর একটা গোল দেখব না, তা কি হয়? সেই শখও পূরণ হয়ে গেল পেনাল্টি শুট আউটে। খেলায় টানটান উত্তেজনা। ম্যারাডোনা পারবেন তো? ম্যারাডোনা এলেন শট নিতে। তাঁর পায়ের জাদু দিয়ে বোকা বানালেন গোলরক্ষককে। অবলীলায় তাঁর মাটি কামড়ানো শট চলে গেল জালে। স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল উল্লাসে। আর্জেন্টিনার ফাইনালে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ততক্ষণে। শেষতক পেনাল্টি শুট আউটে সেমিফাইনাল ম্যাচটা জিতে যায় আর্জেন্টিনা।
স্টেডিয়ামে বসেই ভাবছিলাম, বাংলাদেশে টিভির সামনে বসে আর্জেন্টিনার ভক্তরা কী উল্লাসই না করছেন। আসলে ওই মুহূর্তের বর্ণনা করা এখন কঠিন। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার জীবনের সেরা পাওয়া ওই ম্যাচ দেখা।

শেয়ার করুন