সঙ্গীদের হারিয়ে শঙ্কিত চাকরিচ্যুত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ

0
44
Print Friendly, PDF & Email

সঙ্গীদের হারিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এক সময়ের ক্ষমতাধর তারেক সাঈদ। একসাথে চাকরি, একসাথে অপারেশন, একসাথে আটক, একসাথে আদালত। রিমান্ডে থেকেও একসাথে কাটিয়েছেন এ তিন র‌্যাব কর্মকর্তা। অতঃপর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে একা হয়ে পড়েছেন তিনি।
 লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ হচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মেয়ের জামাই র‌্যাব-১১ কমান্ডিং অফিসার।
মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তারেক সাঈদ ছিলেন অনেকটা শক্ত মনোবলে। এর আগ পর্যন্ত তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে বলে আসছেন মিডিয়ার সৃষ্টি। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমনকি পুলিশের দেয়া ফরওয়াডিংকে তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার বংশগৌরবকে ফলাও করে তুলে ধরে আদালতে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে টাকার কোনো কমতি নেই। অঢেল সম্পদ রয়েছে আমার পরিবারে। টাকার জন্য কাউকে হত্যা বা গুম করতে হয় না।
বুধবার সকালে তারেকের দীর্ঘ দিনের সহযোগী র‌্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক আরিফ হোসেনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এ দিন মেজর আরিফ দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। এর পর আর তারেক সাঈদের মুখোমুখি হননি মেজর আরিফ। বিকেলে দু’জনকে আদালতে উঠালেও রাখা হয়েছে বিচ্ছিন্ন। দু’জনের মাঝে ছিল পুলিশের শক্ত ব্যারিকেড। এ সময় কয়েকবার তারেক সাঈদ চেষ্টা চালায় আরিফ হোসেনের সাথে কথা বলতে। তবে আরিফ কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তারেককে এড়ানোর জন্য আরিফকে আদালত থেকে পুলিশ লাইনে না নিয়ে সোজা পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে।
পরদিন বৃহস্পতিবার তারেক সাঈদের অপর সহযোগী র‌্যাব-১১ এর স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন। তিনিও জবানবন্দী দিয়ে তারেক সাঈদকে এড়িয়ে জেলা কারাগারে চলে যান।
দু’জন সঙ্গীকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন রিমান্ডে থাকা তারেক সাঈদ। খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। কারো সাথে কথা বলছেন না। সঙ্গীরা ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে তার নাম জড়ানোয় ভীত হয়ে পড়েছেন তারেক সাঈদ। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তিনিও জবানবন্দী দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তিনি।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রো বাস জব্দ করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় আরো সাতজনকে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামসহ পরিবারের অভিযোগ, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এ অভিযোগের পর র‌্যাবের তিন কর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় গত ৬ মে।

শেয়ার করুন