ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে থমকে গেছে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প

0
121
Print Friendly, PDF & Email

স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্বে যথাসময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ থমকে গেছে। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে চট্টগ্রামের পানি সংকট নিরসনে জাইকা অর্থায়নে চলতি ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প’।

সূত্র জানায়, মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএনটিআইইসি) ও বেইজিং সাইন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (বিএসইইসি) এর সঙ্গে স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পিবিএল’র দ্বন্দ্ব রয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের নির্দেশও। ফলে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে পানির তীব্র সংকট চলছে।

চাহিদার অর্ধেক পানিও দিতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা। অর্ধকোটি মানুষের জন্য দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ওয়াসা সরবরাহ করছে ২০ কোটি লিটারেরও কম।

এই সংকট নিরসনে জাইকা অর্থায়নে চলতি ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসীর পানি সমস্যার প্রায় ৭০ ভাগ দূর হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরবাসীর তীব্র পানি সংকট দূর করতে সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পটি’ বাস্তবায়নের মূল ঠিকাদার চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএনটিআইইসি) ও বেইজিং সাউন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (বিএসইইসি)। ২০১১ সালের অক্টোবরে সিএনটিআইইসি ও বিএসইইসি প্রকল্পের পরিকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশি কোম্পানি ‘প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড (পিবিএল)’-কে সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়।

শর্ত অনুযায়ী ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তারা কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত পিবিএল মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে ইতোমধ্যে বহুবার জাইকা, চায়না এম্বেসি ও চিটাগাং ওয়াসাকে নিয়ে পিবিএল-এর সঙ্গে দেন-দরবার করেও লাভ হয়নি। পিবিএল কাজের গতি বাড়ায়নি। ইতোমধ্যেই পিবিএল-এর সঙ্গে কন্ট্রাক্টের সময় পার হয়ে যায়। অর্থাৎ ২০১৩-এর ডিসেম্বর পেরিয়ে ২০১৪ এর মার্চেও সমাপ্ত হয়নি প্রকল্পের কাজ।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে চায়না জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানি সিএনটিআইইসি ও বিএসইইসি-কে জাইকা, চায়না এম্বেসি ও চিটাগাং ওয়াসা উপর্যুপরি চাপ দিতে থাকে। ফলে চায়না সিএনটিআইইসি ও বিএসইইসি কোম্পানি কোনো ধরনের সাব-কন্ট্রাক্ট ছাড়া নিজেরাই কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পিবিএল’র সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল কাজ শেষ করতে না পারায় তাদের সাব-কন্ট্রাক্ট থেকে বরখাস্ত করে এবং চুক্তির নিয়মানুযায়ী ১৪ দিনের মধ্যে প্রজেক্ট এরিয়া থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে বলে মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না কোম্পানি। কিন্তু পিবিএল তাদের মালামাল সরিয়ে না নিয়ে বরং ‘তাদের কেন বরখাস্ত করা হলো’ এর বিরুদ্ধে ঢাকা জজকোর্টে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল একটি পিটিশন করে, যা ৭ মে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

পিবিএল আবার হাইকোর্টে ২৭ এপ্রিল বরখাস্তের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডার চেয়ে আবেদন করে এবং ৩ মাসের স্টে অর্ডার পায়। কিন্তু ১১ মে চেম্বার বিচারপতি বিপিএলের পক্ষে দেওয়া হাইর্কোটের ‘স্টে অর্ডার’ স্থগিত করে দেন। তারপর আইন-আদালতের চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে ২১ মে চায়না জয়েন্টভেঞ্জার কোম্পানিটি কাজের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সহযোগিতা চেয়ে চিটগাং ওয়াসার এমডি একেএম ফজলুল্লাহকে চিঠি দেয়।

প্রজেক্ট ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা চিনি মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না কোম্পানিকে। স্থানীয় সাব ঠিকাদারদের সঙ্গে ওদের কি হয়েছে সেটা আমাদের জানার বিষয় নয়। আমরা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ চাই। এজন্য বারবার চীনা কোম্পানিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে বারবার চিটাগাং ওয়াসার এমডি একেএম ফজলুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। চায়না সিএনটিআইইসি ও বিএসইইসি কোম্পানির পক্ষে প্রকল্পের প্রজেক্ট ব্যবস্থাপক মি. চেন হংই বলেন, পিবিএল কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই তাদের কন্ট্রাক্ট বাতিল করা হয়েছে। এখন প্রজেক্ট এরিয়া ফ্রি করে দিলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করবো। এ ব্যাপারে চিটাগাং ওয়াসা এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাই।

শেয়ার করুন