কুষ্টিয়ার উজানগ্রামে বাদশা হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেপ্তার হলেও চাঁদাবাজী হুমকী-ধামকী থেমে নেই \ সাধারণ মানুষ হয়রানী শিকার

0
92
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার উজানগ্রামে ভ্যান চালক বাদশা হত্যার আসামী আইয়ুব আলী ও বাবলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ আটকের পর আদালতের মাধ্যমে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তারা বাদশা হত্যার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে৷ কিন্তু এরপরও সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজী হুমকী-ধামকী থেমে নেই৷
সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে এলাকার নিরীহ লোককে হয়রানী করছে৷ প্রতিপক্ষ সাধারণ মানুষকে শায়েস্তা করতে সন্ত্রাসী চক্র বিভিন্ন কৌশল করে প্রশাসন দ্বারা হয়রানী করছে৷
জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের গজনবীপুর গ্রামের
মনোহর মন্ডলের ছেলে ভ্যান চালক বাদশা মিয়াকে গত ১৬ এপ্রিল বুধবার তাকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা৷ চাঁদার টাকা না দেওয়ায় অপহরনের ২ দিন পর নির্মমভাবে খুন করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার চাপাইগাছী বিলের ধারে একটি ভুট্রার ক্ষেতে তার লাশ ফেলে রাখে৷
এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত বাদশার ভাই মিনাজ উদ্দিন বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার ইবি থানায় মামলা করেন৷ ইবি থানায় মামলা নং-০৬ তারিখ ১৯-০৪-১৪ ধারা ৩০২/৩৪৷
ওই মামলায় গজনবীপুরের মৃত ইমারত মন্ডলের পুত্র আইয়ুব আলী ও বাবলুকে পুলিশ আটক করে৷ বাবলু গজনবীপুর গ্রামের উম্মাদ আলীর পুত্র৷
পুলিশ জানায় বাদশা হত্যার পর আইয়ুব আলী পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো৷ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাপাইগাছি বিলের ধার হতে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার৷ পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইয়ুব আলী ভ্যান চালক বাদশা হত্যার কথা স্বীকার করে৷ সেই সাথে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের নাম ও ঠিকানা জানায়৷ আইয়ুব আলীকে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালতের সামনে ১৬৪ ধারা মতে আইয়ুব আলী জবানবন্দি প্রদান করেন৷ তার লোকজনসহ বাদশাকে হত্যা করেছে বলে আদালতে অকপটে স্বীকার করেন৷ আটককৃত আইয়ুব আলীর দেয়া তথ্যমতে সন্ত্রাসী বাবলুকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ কিন্তু আইয়ুব আলী ধরা পড়ার পর বাদশা হত্যাকারী সন্ত্রাসী চক্রটি গোপন বৈঠক করে৷ সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নবিছদ্দিন গ্রুপকে শায়েস্তা করার কুট-কৌশল আটে৷ পুলিশ ২জন আসামী আইয়ুব আলী ও বাবলুকে গ্রেপ্তার করলে তারা তাদের প্রতিপক্ষের নাম প্রকাশ করে প্রশাসনের দ্বারা হয়রানীর চেষ্টা করছে৷
উল্লেখ্য যে বাদশা হত্যাকান্ডের পর সন্ত্রাসীদের ভয়ে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে ওই গ্রাম৷ দিনে থাকতে পারলেও রাতে তারা বাড়িতে শুতে পারছেনা সন্ত্রাসীদের আতংকে এলাকাবাসী৷

শেয়ার করুন